নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : শহরের জঞ্জাল ব্যবস্থাপনা এবং নিকাশি উন্নয়নে মাস্টার প্ল্যান করেছে কলকাতা পুরসভা। ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে প্রজেক্ট রিপোর্ট। আনুমানিক খরচ ৫০০ মিলিয়ন ডলার বা ৩৫০০ কোটি টাকা। ঋণ পেতে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা এডিবি’র কাছে প্রস্তাব পাঠাচ্ছে কলকাতা পুরসভা।
জঞ্জাল ব্যবস্থাপনায় ইতিমধ্যেই শহরে ৩০০টি খোলা ভ্যাট তুলে দিয়ে তৈরি হয়েছে ৮৫টি কমপ্যাক্টর স্টেশন। যেখানে ১৮০ গাড়ি কাজ করছে। সেইসঙ্গে শহরে পাঁচটি জায়গায় বসানো হয়েছে কম্পোস্ট মেশিন। তৈরি হয়েছে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। যার মাধ্যমে নোংরা জল পরিশোধন করে তারপর গঙ্গায় বা অন্যান্য খালে ফেলা হয়।
পরিবেশ আদালতের নির্দেশ অনুসারে খোলা জায়গায় জঞ্জাল ফেলা যাবে না। বর্তমানে ধাপাতে শহরের রোজকার ময়লা ফেলা হয়। প্রতিদিন ৪৪০০ মেট্রিক টন কয়লা জড়ো হয়। এক আধিকারিক বলেন, ওখানে ময়লা ফেলার জায়গা নেই। ধাপার পাশে নতুন জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব নয়। এই অবস্থায় সেখানে মাইনিং শুরু হয়েছে।
অর্থাৎ নিচে চাপা পড়ে থাকা জঞ্জাল তুলে সেগুলিকে পৃথকীকরণ করা হচ্ছে। যেগুলি কম্পোস্ট করে সার বানানো সম্ভব সেই কাজ চলছে। নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির জন্য রাজ্য সরকারের কাছে জমি চেয়েছিল কলকাতা পুরসভা। নিউটাউনে হিডকোর পাশে একটি ২০ হেক্টর জমি মিলেছে। যেখানে কলকাতা পুরসভা এবং সল্টলেক-নিউটাউনের নিত্যদিনের জঞ্জাল খেলা হবে।
কিন্তু কলকাতার জঞ্জালের জন্য আরও বড় পরিসরে দরকার। তাই দক্ষিণ ২৪ পরগনার রসপুঞ্জ এলাকায় আরও ১৫-২০ হেক্টর জমির খোঁজ চলছে। এই প্রসঙ্গে জঞ্জাল সাফাই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথা প্রশাসক বোর্ডের অন্যতম সদস্য দেবব্রত মজুমদার বলেন, পরিবেশের চিন্তা করেই বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।
অন্যদিকে, বর্তমানে শহরের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে এডিবি’র থেকে পাওয়া ৩০০০ কোটি টাকা ঋণে ভূগর্ভস্থ নিকাশি এবং পানীয় জলের লাইন বসানোর কাজ চলছে। তিনটি ধাপে সেই কাজ শেষ করার টার্গেট ২০২২ সালের মার্চ মাস।
এরপরেও ১২৬, ১২৭, ১০৮, ১০৯, ১৪২, ১৪৩, ১৪৪ সহ আরও বেশ কয়েকটি অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালার কাজ কিছুটা বাকি থাকবে। তার জন্য প্রজেক্ট রিপোর্ট ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। নগরোন্নয়ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এডিবি’র কাছে ঋণ চেয়ে সেই প্রজেক্ট পাঠানো হচ্ছে।
