নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : নতুন রূপে সেজে উঠতে চলেছে কলকাতা পুরসভার আওতাধীন সিরিটি শ্মশান। প্রজেক্ট রিপোর্ট প্রায় তৈরি। বাড়ানো হবে চুল্লি। সেখানে গঙ্গার জল ধরে রাখার ব্যবস্থা বানাচ্ছে কলকাতা পুরসভা।সম্প্রতি শহরে যে শ্মশানগুলি রয়েছে সেখানে মৃতদেহ সৎকারের চুল্লি বাড়ানোর বিষয়ে কলকাতা পুরসভার কেন্দ্রীয় ভবনে একটি বৈঠক হয়।
বর্তমানে পুরসভার ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৮ কাঠা জমির ওপর রয়েছে সিরিটি শ্মশান। শ্মশানের পাশে প্রায় ৮০ কাঠা জুড়ে রয়েছে পাম্পিং স্টেশন ও পাম্পিং রিজার্ভার। সেই রিজার্ভারের ওপর ফাঁকা জায়গায় একটি পার্ক তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে পুরসভার। এছাড়াও শ্মশান সম্প্রসারণে আরও ১৪ কাঠা জমি ইতিমধ্যে অধিগ্রহণ করেছে কলকাতা পুরসভা।
ভোটের আগেই কলকাতা পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য তারক সিংহের নেতৃত্বে সেই জায়গা দেখতে যান স্থানীয় ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর ও পুরসভার আধিকারিকরা। বর্তমানে সিঁড়িটি শ্মশানে একটিমাত্র ইলেকট্রিক চুল্লি রয়েছে। বিভিন্ন শহরের বিভিন্ন শ্মশানে প্রতিদিন যে পরিমাণ মৃতদেহ সৎকার করা হয়, তার অনুপাতে হিসেব করে এই সিরিটি শ্মশানে কটি চুল্লি বসানো প্রয়োজন তা নিয়ে পর্যালোচনা হয়।
ঠিক হয়েছে, আরও ৩টি ইলেকট্রিক চুল্লি এবং একটি কাঠের চুল্লি তৈরি করা হবে। সেই সঙ্গে বর্তমানে সেখানে একটি কাফেটেরিয়া রয়েছে। সেটিকেও সম্প্রসারণ করে শ্মশান এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে। পাশেই রয়েছে টালি নালা। জোয়ারের সময় সেখানে গঙ্গার জল ঢোকে। তখন সেই জল রিজার্ভারে ধরে রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে।
যাতে প্রয়োজনে শ্মশান যাত্রীরা সেখান থেকে গঙ্গাজল মাথায় দিতে পারেন। এই প্রসঙ্গে তারক সিং বলেন, যদি ওখানে স্থান অতিরিক্ত পাওয়া যায় তাহলে একটি জলাশয় তৈরীর ভাবনা-চিন্তাও রয়েছেন। ট্যাংক থেকে গঙ্গার জল নিয়ে প্রয়োজনে সেই পুকুরে স্নান করে আগত শ্মশান যাত্রীরা বাড়ি ফিরবেন। ইতিমধ্যেই প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরি। সব মিলিয়ে ৬-৭ কোটি টাকা খরচ হওয়ার সম্ভাবনা, তেমনটাই কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর।
