ইন্দিরা গান্ধীর একটা ফোনেই ভেস্তে গিয়েছিল শ্রীকান্তের হানিমুন ট্যুর

|

রানার প্রতিবেদন : ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত ১৯৮৩-র বিশ্বকাপ জয়। এই জয়ের ফলে বদলে যায় ভারতীয় ক্রিকেটের মানচিত্র। ১৯৮৩ -র জয় প্রেরণা দেয় বহু যুবকে যারা পরবর্তীকালে হয়ে ওঠেন ভারতের তথা সারা বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার। এই বিশ্বকাপের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা গল্প, স্মৃতি। যে স্মৃতি সম্প্রতি ফিল্ম বন্দি হয়েছে।

সিনেমার টাইটেল লঞ্চে আবার এক সাথে দেখা গেছে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী দলকে। মুম্বাইয়ের এই অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণা করে শ্রীকান্ত বলেন, ১৯৮৩-র মার্চ মাসে তার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পরেই ছকে ফেলেন তার হানিমুন ট্যুর। এরপরই খবর আসে তিনি বিশ্বকাপ দলের সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। সেই সময় ঠিক করে ফেলেন, বম্বে থেকে নিউইয়র্ক যাবেন, ভায়া লন্ডন।

লন্ডনে বিশ্বকাপ পর্ব শেষ হলেই পাড়ি দেবেন আমেরিকা। শ্রীকান্তের কল্পনার মধ্যেও ছিল না, ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন তো দূর, এই দল সেমিফাইনালে খেলতে পারবে। তাই নিয়ম মানার খেলা সাঙ্গ হলেই দে ছুট মধুচন্দ্রিমা সফরে। কিন্তু এই ছুটি কাটাতে যাওয়ার প্ল্যান শেষপর্য্ন্ত ভেস্তে গেল। সবাইকে চমকে দিয়ে ১৯৮৩ -র ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয় করে কপিল দেবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল।

শ্রীকান্ত জানান, তার মার্কিন মুলুকে যাওয়ার টিকিট বাতিল হয়ে যায়। কারণ, দেশে ফিরে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নিজে ফোন করেছিলেন ক্যাপ্টেন কপিল দেবকে। প্রধানমন্ত্রী অধীর আগ্রহ নিয়ে ভারতীয় দলের অপেক্ষায়। দিল্লি ফিরলে সরকারিভাবে সেলিব্রেট করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলে কথা, তার আমন্ত্রণ উপেক্ষা করে আমেরিকা চলে যাওয়া? তাও শ্রীকান্ত একটু গাইগুই করছিলেন, কপিলের এক ধমকেই টিকিট বাতিল।

সেদিনের স্মৃতিচারণা করে শ্রীকান্ত বলেন ১৯৮৩-র বিশ্বকাপ জয় সম্ভব হয় শুধু একটি মনুষের আত্মবিশ্বাসের জন্য, তিনি হলেন কপিল দেব। সেদিন হানিমুন বাতিল হলেও আফসোস নেই মনে। কারন দেশে ফিরে যা পেয়েছেন তা ছিল সমস্ত কল্পনার অতীত। যদিও পরে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে স্ত্রীকে নিয়ে আমেরিকা পাড়ি জমিয়েছিলেন শ্রীকান্ত, কিন্তু তখন তিনি অন্য মানুষ, বিশ্বকাপ ক্রিকেট জয়ী দলের অন্যতম সদস্য।

১৯৮৩ -র জয় আমুল পরিবর্তন এনে দেয় ভারতীয় ক্রিকেটে। বহু মানুষ ভাবতে আরম্ভ করে ক্রিকেটে নিয়ে। বহু মানুষকে প্রেরণা যোগায় এই ১৯৮৩-র বিশ্বকাপ জয়। আজ ভারতীয় ক্রিকেটের স্বর্ণযুগের বীজ রোপন হয়েছিল ১৯৮৩ সালে লর্ডসের মাঠে।

আরও পড়ুন