আর মাত্র ২৫ বছর, পৃথিবীটা পরিণত হবে বৃহৎ বৃদ্ধাবাসে

|

রানার প্রতিবেদন : রাষ্ট্ৰসংঘের এক রিপোৰ্টে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১০০ কোটি মানুষের বয়স ৬০ বা তার বেশি। এই সংখ্যাটি ২০৫০ সালে দাঁড়াবে প্রতি পাঁচজন জনসংখ্যার একজন, অৰ্থাৎ প্রায় ২১০ কোটি। মানুষের গড় আয়ু এভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ অবশ্যই আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্ৰের ব্যাপক উন্নতি। বাৰ্ধক্যে মানুষের কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়।

দৈহিক ও মানসিক ক্ৰিয়া-প্রতিক্ৰিয়ায় নিয়মিত শিথিলতা আসে। ওদিকে প্রতিদিনের জীবনে বেড়ে যায় হাজাররকম চাপ। কখনও তা অৰ্থনৈতিক, কখনও অসুস্থতা, কখনও একাকিত্ব। চারপাশে ধেয়ে আসে নিরাপত্তাহীনতার কালো মেঘ। বার্ধক্যে যে রোগব্যাধিগুলো সহসাই কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের জটিলতা, যেমন স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, প্যারালাইসিস ইত্যাদি।

দুরারোগ্য ক্যানসার, নিউমোনিয়া, লিভার ও কিডনি রোগের জটিলতা, পারকিনসনস রোগ, আর্থ্রাইটিস, ডিমেনসিয়া বা স্মৃতিভ্রষ্টতা এসবও ঘটা করে আসে। প্রাথমিক অবস্থায় এসব রোগব্যাধি জীবনযাপনে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে না বিভিন্ন কারণে। তবে বয়স বাড়লে তথ্য, শব্দ এবং ঘটনাকেন্দ্ৰিক স্মৃতিগুলি হয় হারিয়ে যায়, কিংবা খুব কষ্ট করে খুঁজতে হয় স্মৃতির ভাণ্ডারে।

অনেক সময় খুব দূর অতীতের স্মৃতি বেশ স্পষ্ট মনে পড়ে অথচ একই সঙ্গে আজ কী খেয়েছি, তা ভুলে যান রোগী। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ নতুন করে কিছু শেখবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। কেউ ঠিকভাবে কথা বলতে পারেন না। পেশি-ক্ষমতা ঠিক থাকলেও কেউ ঠিকমতো নিৰ্দিষ্ট কোনও পেশি সঞ্চালন করতে পারেন না। কেউ কোনও নিৰ্দিষ্ট মানুষ বা বস্তুকে চিনতে পারেন না।

কারও কৰ্মজীবনে পেশাগত নিৰ্দিষ্ট অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ দেখা যায় কোনও বিশেষ প্ল্যানিং বা সংগঠিতভাবে চিন্তাভাবনা করতে পারছেন না। অ্যালঝাইমাৰ্স ডিজিজ, সিনাইল ডিমেনশিয়ার মতো স্মৃতিবিদারক অসুখ বৃদ্ধ মানুষের মুখের হাসি কেড়ে নিতে পারে। বেশি বয়সে অবসাদেও ভোগেন অনেকে। সিজোফ্ৰেনিয়ার মতো মানসিক অসুখেও অনেকে আক্ৰান্ত হতে পারেন এই বয়সে।

বেশিরভাগ বয়স্ক মানুষেরই কিছু না কিছু ক্রনিক অসুখ রয়েছে। এ জন্য নিয়মিত চেক-আপ দরকার। কোভিড পরিস্থিতিতে তা ব্যাহত হয়েছে। এই মুহূর্তে ভারতে ১০ কোটি ৪০ লক্ষ বয়স্ক নাগরিক আছেন। যার ৭১ শতাংশ থাকছেন গ্রামীণ এলাকায়। ২০৫০ সালে এই সংখ্যাটা হবে ২৯ কোটি ৬৬ লক্ষ। রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (আরজিআই) জানিয়েছেন, সমগ্র জনসংখ্যার নিরিখে ২০০১ সালে ৬০ এবং ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিরা ছিলেন ৬.৯ শতাংশ, সেটাই ২০২৬ সালে গিয়ে দাঁড়াবে ১২.৪ শতাংশ।

কলকাতায় জনসংখ্যার অনুপাতে বয়স্ক মানুষের হার অন্য শহরের তুলনায় বেশি। অন্যান্য মেট্রোতে ষাটোর্ধ্ব মানুষের হার যেখানে ৯.৯, শতাংশ, সেখানে কলকাতায় ১১.৭৬ শতাংশ। নিঃসঙ্গ বয়স্কের সংখ্যাও দেশের মধ্যে কলকাতাতেই সর্বাধিক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষক জানাচ্ছেন, রাজ্যের ৭.৫ শতাংশ বয়স্ক কোনও না কোনও ভাবে শারীরিক, মানসিক বা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অসম্মান ও অবহেলার শিকার। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি সেই নিগ্রহের মাত্রা বাড়িয়েছে বলেই আশঙ্কা।

আরও পড়ুন