একুশের লড়াকু তরুণ তুর্কিদের সামনে আনবে তৃনমূল, পুরস্কার পুরভোটেই

|

West Bengal Municipal Election : এবার পুরসভা নির্বাচনেও দলীয় সংগঠন এবং স্বচ্ছ মুখের উপর নজর তৃণমূল কংগ্রেসের ( TMC )। কলকাতা পুরসভা ( KMC ) সহ গোটা রাজ্যে পুরভোট হবে কোভিড ( Covid-19 ) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে। দলের নেতৃত্ব সিধান্ত নিয়েছে, নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া নেতা, ভাবমূর্তির সমস্যা জনিত নেতাদের সরিয়ে তুলে আনা হবে তরুণ ও স্বচ্ছ মুখের কর্মীদের। একুশের ভোটে যে সব তরুণ তুর্কির লড়াই দলের নজর কেড়েছে, তাদের সামনে নিয়ে আসার সিধান্ত নিয়েছে দল।

ঠিক হয়েছে, আগামী পুরসভার ভোটে এই মুখগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে কৌশল নির্ধারণ করা শুরু করে দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর ( Prasant Kisore )। ইতিমধ্যেই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্যও প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে চুক্তি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসলে রাজ্যে ৫ কর্পোরেশনসহ ১২৭ পুরসভার নির্বাচন হবে।

সে ক্ষেত্রে অস্বচ্ছ ভাবমূর্তির কাউকে প্রার্থী করা হবে না তেমনটা স্থির করে নিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ( Mamata Banerjee )। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের ভাবমূর্তি এবং লাইফ স্টাইল দেখেই পরবর্তী টিকিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শহরের একাধিক ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর কলকাতার কাশিপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের দুজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিযোগ বিস্তর।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রাক্তন কাউন্সিলারদের টার্গেট দেওয়া হয়েছিল, নিজস্ব ওয়ার্ড থেকে লিড দিতে হবে। সেই পরীক্ষায় স্টার মার্কস ( Star Marks ) পেয়ে পাশ করেছেন অধিকাংশ কাউন্সিলর। কলকাতা পুরসভা এলাকায় ১১টি ওয়ার্ড বাদে সব ওয়ার্ডে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। অর্থাৎ এই মুহূর্তে কলকাতা পুরসভা নির্বাচন হলে ১৩৩টি ওয়ার্ডে জিতবে ঘাসফুল। দলের এক শীর্ষ নেতার বক্তব্য, প্রত্যেকটি নির্বাচনের পৃথক প্রেক্ষাপট থাকে।

লোকসভা নির্বাচন বিধানসভা নির্বাচনের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনের ইসুগত পার্থক্য রয়েছে। সেক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ভাবমূর্তি অনেকটা বিচার্য। সেই সঙ্গে পুরোপুরি সেবা প্রদানে তিনি কতটা তৎপর সেই বিষয়টি ভোটাররা দেখে। ফলে বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের একটা বড় অংশের টিকিট কাটছাঁট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোথাও বয়স জনিত, কোথাও আবার ভাবমূর্তি জনিত কারণে প্রায় ২০-৩০ শতাংশ মুখ বদল করা হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটিতে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। মনে করা হচ্ছে জুলাই মাসের শেষে কোনও একটি বৈঠক হতে পারে। কিছু ওয়ার্ড এর সাংগঠনিক রদবদল করতে পারে নেতৃত্ব। ফলে বিধানসভা নির্বাচনের মতো কলকাতা নির্বাচনেও তৃণমূল নতুন মুখ তুলে এনে চমক দিতে পারে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।

আরও পড়ুন