রানার ডেস্ক : পিএসি চেয়ারম্যান বিতর্ক ( PAC Chairman Debate ) মাথাচাড়া দিল বঙ্গ বিধানসভায় ( Bengal Legislative Assembly )। গত ৫ বছর ধরেই এই বিতর্ক চলে আসছে। এবারও পিছু ছাড়ল না পিএসি চেয়ারম্যান বিতর্ক। কুড়ি সদস্যের পাবলিক একাউন্ট কমিটির চেয়ারম্যান পদে তৃনমূল বসাতে চাইছে মুকুল রায়কে ( Mukul Roy )। বুধবার তিনি কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হবার জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। লোকসভা, বিধানসভা সর্বত্রই এটাই রীতি, বিরোধী দলের কোনও সদস্যকে পিএসির মাথায় বসানো হবে, বা তাকে চেয়ারম্যান করা হবে।
উদাহরণ হিসেবে লোকসভায় সর্ববৃহৎ বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা অধীর চৌধুরীকে পিএসির মাথায় বসানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় যাকে পিএসির ( PAC ) মাথায় বসানোর চেষ্টা করছে শাসক দল তিনি মুকুল রায়,যিনি সদ্য দলবদল করে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে ( TMC ) অর্থাৎ শাসক দলে নাম লিখিয়েছেন। বিরোধী বিজেপি দলের অভিযোগ, রীতি ভঙ্গ করে শাসকদলের একজনকে পিএসির মাথায় বসানো গণতন্ত্র বিরোধী।তারা বলছেন, মুকুল রায়ের বিজেপির ( BJP ) বিধায়ক পদ থাকারই কথা নয়।
ইতিমধ্যে তার বিধায়ক পদ খারিজের জন্য স্পিকারের ( Speaker ) কাছে দাবি পত্র পেশ করেছেন । এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে কি করে একজন দলত্যাগ বিরোধী আইন লঙ্ঘনকারী বিধায়ককে পিএসির মাথায় বসানো যেতে পারে তানিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৬ সালে পিএসসির মাথায় বসানোর জন্য কংগ্রেস এবং বামেদের জোটের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছিল সুজন চক্রবর্তীর নাম। সেবারও রীতি ভেঙে দেয়া হয়েছিল মানুষ ভূঁইয়াকে।
কাগজে-কলমে মানস বাবু ছিলেন কংগ্রেসের বিধায়ক অর্থাৎ বিরোধী শিবিরের বিধায়ক।বাস্তবে তিনিও দলবদল করে নাম লিখিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। মানস বাবুর বিধায়ক পদ খারিজ তো দূর তাকে উল্টে সম্মানিত করা হলো। পিএসির মাথায় বেশ কিছুদিন বসে ছিলেন তিনি, তারপর মানস বাবুকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। শূন্যস্থানে রীতি মেনে বসানো হয়েছিল কংগ্রেসের বিধায়ক সুখবিলাস বর্মাকে।
২০২১ এ এসে সে একই পথ অবলম্বন করবেন স্পিকার? কাগজে-কলমে একজন বিরোধীদলের বিধায়ককে তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন? বিরোধীদের পক্ষ থেকে ছটি নাম জমা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে আছেন অশোক লাহিড়ী। অর্থনীতির বিশেষজ্ঞ অশোক লাহিরিকে পিএসি চেয়ারম্যান পদ দেবের প্রস্তাব দিয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে ১৪টি নাম জমা পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। মোট ২০ জনের মধ্য থেকে মুকুলকে বেছে নেবেন স্পিকার?
এদিকে বিজেপি সূত্রের খবর, স্পিকারের কাছে মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের যে দাবী পেশ করেছেন সে ব্যাপারে স্পিকার যদি যথাযথ পদক্ষেপনা নেন, তাহলে বিষয়টি নিয়ে তারা আদালতের দ্বারস্থ হবেন। দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী একজন বিধায়ক দল ত্যাগ করে যদি অন্য দলে যান, সে ক্ষেত্রে তার সদস্যপদ খারিজ হওয়ার কথা। নিয়ম অনুযায়ী ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ বিধায়ক কোন দল ত্যাগ করলে সেই ৩৩ শিতাংশ বিধায়ক গোষ্ঠী বিধানসভায় স্বীকৃতি পান।
তাদের বিধায়ক পদ বজায় থাকে। কিন্তু সেটা না হলে বিচ্ছিন্নভাবে একজন-দুজন গেলে তার বিধায়ক পদ খারিজ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু গত কয়েক বছরে এই নিয়মের ব্যতিক্রম হচ্ছে বলে ইতিমধ্যেই অভিযোগ করেছে বিজেপি। তারা জানিয়েছে আইনকে যেভাবে বুড়োআঙুল দেখানো হচ্ছে তার বিরুদ্ধে আদালতে যাবে বিজেপি।
