নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : বদলে গেল সরকারি বিজ্ঞাপনের ভাষা। এখন থেকে সরকারি প্রকল্পে আর ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায়’ শব্দবন্ধ ব্যবহার হবে না। বদলে ‘ঐকান্তিক উদ্যোগে’ লেখা হবে। বিগত ১০ বছর ধরে সরকারি প্রকল্প হোক বা তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কোনও কর্মসূচি, ‘অনুপ্রেরণা’ ছিল শেষ কথা। তা নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। সরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে বাস স্ট্যান্ড এমনকি শৌচাগার পর্যন্ত পৌঁছেছিল ‘অনুপ্রেরণা’র মাহাত্ম্য।
উদ্বোধন হোক কিংবা শিলান্যাস কিংবা নবরূপে সংস্কার, সবেতেই অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হওয়ার পালা। সরকারি এবং দলীয় কর্মসূচি সঙ্গে অনুপ্রেরণা শব্দ কার্যত সমর্থক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কোন জায়গা থেকে ১০ বছর পর পুরোপুরি এই শব্দবন্ধ তুলে দেওয়া হতে চলেছে। পুরোটাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইচ্ছানুসারে। এই অনুপ্রেরনা নিয়ে বিরোধীরা কম কটাক্ষ করেনি। সব জায়গাতেই এই শব্দের বহর দেখে রাজ্য বিধানসভার অন্দরেও একটা সময় মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল।
কিন্তু তা নিয়ে কোনদিন পাত্তা দেয়নি রাজ্যের শাসক দল। এবার হঠাৎ এই শব্দ বদলে যাচ্ছে। ঠিক হয়েছে সমস্ত সরকারি কর্মসূচিতেই ব্যবহার করা হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঐকান্তিক উদ্যোগে’ এই শব্দ বন্ধ। কিন্তু হঠাৎ কেন এই রদবদল? তা নিয়ে অবশ্য স্পষ্ট করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। অনেকেই মনে করছেন, বহু বছর ধরে এই শব্দ একঘেয়ে হয়ে গিয়েছে। তাছাড়া বিরোধীদের কটাক্ষ শুনতে হয়েছে বহুবার।
এই অবস্থা প্রায় সমার্থক অন্য কোনও শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে। সেই কারণেই ‘ঐকান্তিক উদ্যোগ’ এই শব্দবন্ধ বেছে নেওয়া হয়েছে। যাতে শুনতে একটু অন্যরকম লাগে। তাছাড়া ‘উদ্যোগ’ শব্দের মধ্যে দিয়ে সরকারি সব আধিকারিকদের সহযোগিতা মেনে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের খাটনিকে সম্মান দেওয়া হয়েছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সকলের এক সঙ্গে মিলিত প্রয়াসে একটা প্রকল্প বা একটা কর্মসূচি সাফল্যমন্ডিত হয়। এই শব্দবন্ধের মধ্যে দিয়ে সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
