নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি। এই অবস্থায় তৈরি হয়েছে বিতর্ক। একাধিক প্রাক্তন আমলা কেন্দ্রীয় ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন। এই অবস্থায় রাজ্য বিজেপি নেতারা কিছুটা কোণঠাসা। এবার আলাপন ইস্যুতে ‘সেন্সর’ করা হল বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বকে।
দলের তরফ থেকে এই ইস্যুতে কোনও মন্তব্য না করতে রাজ্য নেতৃত্বকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিজেপি। সেই নির্দেশ পেয়েই মুখে কুলুপ দিলীপ ঘোষ এবং শমীক ভট্টাচার্যদের। কেন্দ্র-রাজ্য বা রাজ্য-রাজ্যপাল সঙ্ঘাতে এর আগে বার বার মুখ খুলেছেন বিজেপি নেতারা। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্যের শাসক দলের সঙ্ঘাত নিয়ে তাঁরা বার বার মন্তব্য করেছেন।
সেই সব মন্তব্যের অনেকগুলিই বিতর্ক তৈরি করেছিল। বেশ কিছু ‘আলটপকা’ মন্তব্যে দলের ক্ষতিই হয়েছিল বলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করছেন। তাই এবারের সঙ্ঘাতে রাজ্য নেতাদের মন্তব্যে রাশ টানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বাংলা সফরে রাজ্য প্রশাসন প্রোটোকল ভেঙেছে বলে কেন্দ্র এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব অভিযোগ করছেন।
এই বিষয়টি একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয় বলে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মত। কিন্তু আলটপকা মন্তব্য এলেই মমতা তাকে হাতিয়ার করবেন বলে আশঙ্কা বিজেপি নেতৃত্বের। তাই ৩১ মে অর্থাৎ আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত দলকে মুখ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এই কয়েক দিনে বিজেপি কোনও মুখপাত্রকে টেলিভিশন চ্যানেলেও বসতে দেয়নি।
শুধুমাত্র শুভেন্দু অধিকারী শনিবার একটি সাংবাদিক সম্মেলন করার নির্দেশ পেয়েছিলেন। শুভেন্দু সেখানে অত্যন্ত মেপেজুপে মন্তব্য করেন। সেই সাংবাদিক সম্মেলনের দিকেও নজর রেখেছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সারাক্ষণ সাংবাদিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি হাজির ছিলেন বিজেপির ন্যাশনাল মিডিয়া ইনচার্জ অনিল বালুনি।
দিনের শেষে রাজ্যের মানুষের মনে উল্টে বিজেপি নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই পরিস্থিতিতে তাই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্যুতে দলের নেতাদের কোনও মন্তব্য করতে নিষেধ করা হয়েছে। যাতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়ে বিজেপি কোণঠাসা না হয়।
