ব্যাপক সাংগঠনিক পরিবর্তন হতে চলেছে তৃণমূলে, শনিবার মহা বৈঠক

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : নির্বাচন-পরবর্তী সাংগঠনিক বৈঠকে বসতে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৫ জুন শনিবার দুপুরের তৃণমূল ভবনে বসতে চলেছে মহাবৈঠক। দলের সব বিধায়ক, লোকসভা এবং রাজ্যসভার সাংসদ, রাজ্যের সব জেলার সংগঠনের সভাপতি, জেলা পরিষদের সভাধিপতি সহ বিভিন্ন পদাধিকারীদের ডাকা হয়েছে।

সাংগঠনিক রদবদল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর। বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee), রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ কোর কমিটির নেতারা উপস্থিত থাকবেন। হঠাৎ কেন এই সাংগঠনিক বৈঠক? নেতৃত্ব জানাচ্ছে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দলের সব স্তরের সংগঠনের পদাধিকারীদের সঙ্গে বসা হয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর আশু দায়িত্ব ছিল করোনা সামলানো। বর্তমানে করোনা সংক্রমণ যখন একটু নিয়ন্ত্রণে তখন দলের সংগঠনের দিকে নজর দিতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী। শোনা যাচ্ছে, রাজ্য থেকে জেলা সংগঠনের খোলনলচে বদলানো হতে পারে। একাধিক নতুন মুখকে দায়িত্বে আনার কথা চলছে। পাশাপাশি দায়িত্ব বদল হতে পারে অভিজ্ঞ নেতাদের। এমনকি জেলা পরিষদের পদাধিকারীদের বদল করা হতে পারে বলে খবর।

তবে, তৃণমূলের অন্দরে এখন সবথেকে আলোচনার বিষয় হল, এক ব্যক্তি এক পদ নীতি। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে এমন কোনও নীতি দলের অভ্যন্তরে ছিল না। তবে এখন দল আড়ে-বহরে বেড়েছে। এই অবস্থায় সকলকে সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এটা নিয়ে আলোচনা হলেও তা বাস্তবায়িত করা যায়নি। কিন্তু এখন দল এবং সরকারে পরিস্থিতি ভিন্ন। বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক কিংবা সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায় জেলা সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।

এই অবস্থায় এমন অনেক নেতাই রয়েছেন, যাঁরা একাধিক পদ সামলাচ্ছেন। সূত্রের খবর, রদবদল ঘটতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদে। সংগঠনের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে সরানো হতে পারে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতির পদ খোয়াতে পারেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। নদীয়া জেলার সভাপতির পদ থেকে সরানো হতে পারে মহুয়া মৈত্রকে। যদিও ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ বিষয়টি কতদূর বাস্তবায়িত করা সম্ভব তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন দলের এক শীর্ষ নেতা।

তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই নীতির পক্ষে। কিন্তু অভিজ্ঞতারও দাম রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কতদূর এই নীতি বাস্তবায়িত করা যাবে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ অভিজ্ঞ নেতাদের পদ থেকে সরানো উচিত হবে না। তবে কিছু রদবদল অবশ্যই হবে। এই ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

আরও পড়ুন