চলতি মাসেই রদবদল, তৃনমূল ছাত্রপরিষদের মাথায় আসছে নতুন মুখ

|

#কলকাতা : চলতি মাসেই রদবদল ( Reshuffle ) হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে। প্রত্যেকটি জেলার সভাপতি বদল করা হবে। সেইসঙ্গে বিভিন্ন শাখা সংগঠনের নেতৃত্বতেও বদল নিয়ে আসবে তৃণমূল কংগ্রেস ( TMC )। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বেশ কয়েকটি বড় জেলা লোকসভা ভিত্তিক ভাগ করা হতে পারে। নতুন জেলা সভাপতি বসানো হলেও তার তলায় মহকুমা ভিত্তিক জেলা ভাগ করে একজন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হতে পারে বলেই তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর।

সবথেকে বেশি চর্চার বিষয়, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দায়িত্বেও কে আসবে। বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র পরিষদের দায়িত্বে রয়েছে তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। শোনা যাচ্ছে তার জায়গায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে দলের অন্যতম যুব মুখপাত্র সুদীপ রাহাকে ( Sudip Raha )। প্রেসিডেন্সি প্রাক্তন ছাত্র সুদীপ সৌম্য দর্শন। ভালো কথা বলতে পারে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে একদম স্বচ্ছ ভাবমূর্তির সুদীপকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সুদীপের নামে নিজের সম্মতি দিয়েছেন। ফলে সুদীপ দৌড়ে এগিয়ে গেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কে হবে তার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিবেচনাধীন। অন্যদিকে, পশ্চিম ও পূর্ব মেদিনীপুর এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতন একাধিক বড় জেলা সাংগঠনিকভাবে ভাগ করা হতে পারে বলে তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি হিসেবে নারায়ন গোস্বামীকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা দলের অন্দরে একপ্রকার সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে।

নৈহাটির তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক পার্থ ভৌমিকও এই বিষয়ে নারায়ন গোস্বামীকে জানিয়ে দিয়েছেন বলেই সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে। পার্থ ভৌমিক দলের অন্দরে অভিষেক ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তবে শেষ পর্যন্ত নারায়ণকে দায়িত্ব দেওয়া হবে নাকি জেলাকে ভাগ করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হবে তা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যদিও দলের এক শীর্ষ নেতার বক্তব্য, জেলা সভাপতির পাশাপাশি মহকুমা ভিত্তিক বা লোকসভা ভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হতে পারে।

বড় বড় জেলার ক্ষেত্রে এই কৌশল কাজে লাগানো হবে। উদাহরণ স্বরূপ ওই নেতা জানিয়েছেন, উত্তর ২৪ পরগনাকে মোটামুটি তিনটি ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটি বসিরহাট এবং বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা, ব্যারাকপুর এবং বারাসাত সাংগঠনিক এবং দমদম সাংগঠনিক জেলা। এরমধ্যেও অবশ্য রদবদল হতে পারে। অন্যদিকে উত্তর কলকাতার বর্তমান জেলা সভাপতি রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেতা তথা উত্তর কলকাতার সাংসদ।

তাকে সেই পথ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। দৌড়ে রয়েছেন কাশীপুরের তৃণমূল বিধায়ক অতীন ঘোষ এবং বেলেঘাটা তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতা জীবন সাহা। যদিও দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি দেবাশীষ কুমারের অবশ্য পদ বদল হচ্ছে না। তাঁর জায়গায় যোগ্য কাউকে পাওয়া যায়নি বলেই তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর। ঠিক এভাবেই নদীয়া, দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব নিজের হাতে রাখতে পারেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের অন্দরে গুঞ্জন, ২১ জুলাইয়ের পর সম্ভবত ২৩ কিংবা ২৪ জুলাই সাংগঠনিক বৈঠক করে রদবদলের ঘোষণা করতে পারেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

আরও পড়ুন