শ্যাম বেনেগালের ছবিতে নায়কের ভূমিকায়, পারিশ্রমিক মাত্র এক টাকা

|

রানার প্রতিবেদন : বরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগাল ( Shyam Benegal ) অনেকদিন নতুন মুভি পরিচালনা করছেন। তাঁর এই নতুন মুভিতে ১ টাকায় কাজ করছেন বাংলাদেশের ( Bangladesh ) সুপারস্টার আরিফিন শুভ ( Arifin Shuvoo  )। ব্যাপারটা বেশ মজার বৈকি। একে বেনেগাল, তায় বাংলাদেশ, এর ওপর শুভ। অনেক প্রশ্নই মনে আসা স্বাভাবিক। তাহলে সব খুলেই বলা যাক।

বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার শেখ মুজিবুর রহমানের ( Sheikh Mujibur Rahman ) জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর বায়োপিক নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলিউডের বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা শ্যাম বেনেগালকে। কিন্তু করোনা মহামারি এবং পরপর দুটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিকল্পিত সিনেমাটি তৈরির কাজ ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েও থমকে রয়েছে।

‘বঙ্গবন্ধু’ সিনেমাটি ( Bangabandhu Film ) নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায়। শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকীতে এটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেটের এই সিনেমাকেই নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন মনে করছেন শুভ।

নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ১ টাকার চেকের ছবি প্রকাশ করে ক্যাপশনে শুভ জানান, ‘পারিশ্রমিক নেব এক টাকা। অর্থ দিয়ে হয়তো পার্থিব কিছু সুখ পাওয়া যায়, কিন্তু আত্মার তৃপ্তি মেলে না।’ আরিফিন আরও বলেন, ‘‘বঙ্গবন্ধু’তে অভিনয় করতে পারা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করি। অর্থ দিয়ে এই কাজকে আমি মাপতে চাই না।

সে কারণেই এমন ভাবনা মাথায় আসে। কিন্তু শুরুতে তাঁরা আমার শর্তে রাজি হতে চাননি। এ জন্য ফাইট করতে হয়েছে। এক টাকার চেকটা ফাইনালি হাতে পেয়ে খুব আনন্দ লাগছে।’ মুম্বাইয়ে ছবির শুটিঙে অংশ নিয়েছেন আরিফিন । দাদাসাহেব ফিল্ম সিটি, গোঁরেগাও ফিল্ম সিটিসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ি, টুঙ্গিপাড়ার গ্রামের বাড়ির আদলে সেট সাজিয়ে শুটিংকরা হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বছরের শেষভাগে বাংলাদেশে ছবিটির শেষদিকের শুটিং হবে।এ প্রসঙ্গে শ্যাম বেনেগাল জানিয়েছেন, ‘দুটি বড়সড় ঘূর্ণিঝড় এবং করোনার সমস্যা ছিল। তবে আমি ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাকে এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার জন্য আশ্বস্ত করেছেন।

যদি কোনো সমস্যা না আসত, তবে আমি দেড় বছর আগেই ছবিটি শেষ করতে পারতাম। ফিল্ম সিটির মধ্যেই বেশিরভাগ অংশের শুটিং করা গেছে। আশা করছি বাকি থাকা মাত্র ২০ শতাংশের শুটিং এ বছরই শেষ করতে পারব।’

আরও পড়ুন