রানার ডেস্ক : রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সৌমিত্র খাঁ ( Saumitra Khan )। বিষ্ণুপুরের ( Bishnupur ) সাংসদ সৌমিত্র খাঁ তার নিজের ফেসবুক পেজ থেকে এই ঘোষণা করেছেন। তিনি লিখেছেন, যুব মোর্চার সভাপতি ( Youth Front ) পদ থেকে অব্যাহতি নিলেন, কিন্তু তিনি বিজেপিতে ছিলেন, বিজেপিতে থাকবেন। ছাড়ছেন না দল, শুধু পদ ছেড়েছেন তিনি। তার এই ঘোষণা রীতিমতো আলোড়ন ঘটিয়েছে বিজেপিতে।
দলীয় নেতৃত্বকে না জানিয়ে নিজের ফেসবুক পেজে তিনি এই ঘোষণা করায় অনেকেই ক্ষুব্ধ। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের ( Dilip Ghosh ) কাছে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ইস্তফা পত্র জমা দেননি। সূত্রের খবর আজ রাতেই দলের রাজ্য শীর্ষ নেতৃত্ব, তার সঙ্গে কথা বলবেন । সৌমিত্র যুব সভাপতি হবার পর থেকেই বিভিন্ন কারণে দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাত হয়েছে বারবার।
অভিযোগ উঠেছে, সৌমিত্র উপরতলার নেতৃত্বকে না জানিয়ে সমস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে নিচ্ছেন, এবং একাই সেগুলো কার্যকর করার চেষ্টা করছেন। এমনকি বিভিন্ন জেলাতে যাচ্ছেন জেলা সভাপতি কে কোন খবর না দিয়েই। তারপরেই সৌমিত্রর আন্দোলনে লাগাম টেনে ধরেন দলের রাজ্য সভাপতি। যানিয়ে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, যেটা বারবার করে প্রকাশ্যও এসেছে। আবার ধামাচাপাও পড়েছে।
সর্বশেষ সৌমিত্রর ক্ষোভের কারণ হিসেবে দলের একাংশ মনে করছেন, তাদের যুব সভাপতি আশা করেছিলেন তাকে অন্তত প্রতিমন্ত্রীর পদ এবার দেয়া হবে । সৌমিত্র তার ঘনিষ্ঠ মহলে বারবার দাবি করেছিলেন একুশের বিধানসভা নির্বাচনে কোনো সংসদ এর পারফর্মেন্স যদি ক্ষতিয়ে দেখা হয়, তাহলে দেখা যাবে রাজ্যের ১৮ জন বিজেপি সাংসদের মধ্যে মাত্র তিনজন বিজেপি সাংসদ এর পারফর্মেন্স সবচেয়ে ভালো।
একজন তিনি ,একজন শান্তনু ঠাকুর, অন্যজন নিশীথ প্রামানিক। কারণ হিসেবে তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন তিনি, নিশীথ এবং শান্তনু, তাদের লোকসভার অন্তর্গত সাতটি করে বিধানসভার মধ্যে প্রত্যেকেই অন্তত ছয়টি বিধানসভা আসনে দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে সক্ষম হয়েছেন। এক্ষেত্রে বাকিদের পারফরম্যান্স তাদের ধারে কাছেও নেই।
সুতরাং পারফরম্যান্সের বিচারে যদি দল পুরস্কৃত করতে চায় তাহলে মন্ত্রিত্বের হকদার তিনিও। শেষ পর্যন্ত তার ডাক আসেনি। দলের একাংশ মনে করছেন তার এই না পাওয়া নিজেকে বঞ্চিত মনে করার এই অনুভূতি তাকে খুব করে তুলেছে এবং যে খুব আছে যে খুব আছড়ে পড়েছে তার ফেসবুকের পাতায়।
