রানার ডেস্ক : উপলক্ষ মুকুলের অসুস্থ স্ত্রী। কোভিড আক্রান্ত হয়ে ভর্তি শহরের এক নার্সিং হোমে। সূত্রের খবর তাকে বর্তমানে সংকটজনক অবস্থায় ভেন্টিলেশন রাখা হয়েছে। গতকাল এই খবর পেয়ে নার্সিং হোমে ছুটে আসেন তৃনমূল নেতা ও সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি ( Abhishek Banerjee )। নার্সিং হোমেই তারসঙ্গে দেখা হয় মুকুল রায়ের ছেলে সুভ্রংশু রায়ের ( Subhranshu Roy )। কিছুক্ষণ তার সঙ্গে কথা বলে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসেন অভিষেক।
এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে বিজেপি শিবির। পত্রপাঠ নার্সিংহোমে ছুটে যান বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ( Dilip Ghosh )। সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটে আজ সকাল সাড়ে দশটায়। মুকুল রায়কে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী। মুকুল রায়ের ( Mukul Roy ) স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন তিনি। রাজনৈতিক মহল মনে করছে মুকুলকে নিয়ে নতুন করে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে।
কারন, ভোট মিটে যাবার পর, মুকুল যখন কোভিড আক্রান্ত হয়েছিলেন, তখন তারসঙ্গে নাকি বিজেপির রাজ্যস্তরের কোনও নেতাই যোগাযোগ করেননি। নিজের ঘনিষ্ঠ মহলে মুকুল নাকি সেই অভিমান প্রকাশও করেছেন। এনিয়ে সংবাদ মাধ্যমে খবরও হয়, যা অবশ্যই নজর এড়ায়নি তৃণমূলের। ভোটে হারের পর মুকুল পুত্রের ফেসবুক পোস্ট নিয়েও তৈরি হয়েছে জল্পনা। অনেকের ধারণা, বিজেপি নেতৃত্বের প্রতি বিরক্তি প্রকট হয়েছে এই ফেসবুক পোস্টে।
গেরুয়া শিবিরের প্রতি বাবা-ছেলের এই অভিমান-অনুযোগকি নতুন রাজনৈতিক উপাদান তৈরি করবে? এই জল্পনা উস্কে দিয়েছে। অভিষেক- শুভরাংশু সাক্ষাৎ । আজ নরেন্দ্র মোদির ( Narendra Modi ) ফোনের পর তাতে নতুন করে ঘৃতাহুতি দেন তৃণমূলের কুনাল ঘোষ ( Kunal Ghosh )। তার মন্তব্য, মুকুল রায়কে ধরে রাখতেই তৎপরতা বিজেপি শিবিরে। তার দাবি, ২০২০ সালেই তৃনমূলে ফিরে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন মুকুল রায়।
এনিয়ে পিকে’র সঙ্গে বৈঠকও হয়। বিজেপির কানে সেই খবর যেতেই তড়িঘড়ি তাকে দলে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। এনিয়ে মুকুলের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি কিন্তু বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের ওপর মুকুল যে রুষ্ঠ তা ব্যক্ত করতে কসুর করেননি আজ।
গতকালের দিলীপ ঘোষের নার্সিং হোম যাওয়া নিয়ে তিনি বলেন,” দিলীপ ঘোষ কাকে দেখতে গিয়েছিলেন আমি জানি না। কারন উনি যে নার্সিং হোমে যাচ্ছেন সেধরনের কোনও খবর আমাকে বা আমার পরিবারের কাউকে দেওয়া হয়নি। মুকুল রায়ের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে ডানা মেলছে রাজনৈতিক জল্পনা।
