রানার ডেস্ক : এবারের ভোটে ৭৭টি বিধানসভা কেন্দ্রে জয় পেয়েছে বিজেপি ( BJP )। ৭৭ টির মধ্যে দুটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী ছিলেন দুই সাংসদ জগন্নাথ সরকার ( Jagannath Sarka ) এবং নিশীথ প্রামানিক ( Nisith Pramanik )। ভোটে জেতার পর দুজনই জানিয়ে দিয়েছেন তারা সাংসদই থাকতে চান বিধায়ক নয়। বিধায়ক ( MLA ) পদ থেকে ইস্তফাও দিয়েছেন তারা। বাকি ৭৫ জনের মধ্যে একজন অর্থাৎ মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে ফিরে গেছেন তৃণমূল কংগ্রেসে।
এই অবস্থায় মোট ৭৪ জন বিধায়ক এখন হাতে রয়েছে বিজেপির। যাদের নেতা শুভেন্দু অধিকারী ( Suvendu Adhikari )। বাজেট অধিবেশন ( Budget Session ) উপলক্ষে এই মুহূর্তে প্রায় সমস্ত বিধায়কই কলকাতায়। বিজেপির টিকিটে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের সিংহ ভাগেরই বিধানসভার কাজকর্মে কোন অভিজ্ঞতাই নেই। হাতেগোনা কয়েকজনের অভিজ্ঞতা রয়েছে যারা তৃণমূল কংগ্রেসের কিংবা বামেদের বিধায়ক ছিলেন। আনকোরা বিধায়কদের প্রশিক্ষিত করে তুলতে দুদিনের কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।
বিজেপি রাজ্য দপ্তরে আজ সকালে এই কর্মশালার উদ্বোধন করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ( Dilip Ghosh )। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হাজির ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও সহকারী পর্যবেক্ষক শিবপ্রকাশ। উদ্বোধনী ভাষণে দিলীপ ঘোষ বলেন, আপনি একজন এমএলএ হয়েছেন বলে এটা কখনোই ভেবে নেবেন না আপনি বিরাট একটা কিছু হয়েছেন। সবসময় মাথায় রাখতে হবে, মানুষ আপনাকে নির্বাচিত করেছে।
মানুষের পাশে যদি না থাকেন তাহলে মানুষই আপনাকে টেনে নামিয়ে দেবে। প্রতিনিয়ত মানুষের সঙ্গে থাকতে হবে, মানুষের মাঝে মিশতে হবে। এলাকার সঙ্গে যেন কখনোই আপনার দূরত্ব তৈরি না হয়। কোনও অবস্থাতেই দলকে না জানিয়ে দলের বাইরে গিয়ে কিছু করার চেষ্টা করবেন না বলেও সতর্ক করে দেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন যাই করুন না কেন দলকে সঙ্গে নিয়ে করবেন। তারপরে রসিকতা সুরে বলেন, নিজেরাই ঠিক করে নিন যে আপনারা আগামী দিনে কি হবেন বিড়ালের বাচ্চা নাকি বাঁদরের বাচ্চা।
বিধায়ক মিহির গোস্বামী ছিলেন অন্যতম প্রশিক্ষকের ভূমিকায়। তিনি একসময় কংগ্রেসের বিধায়ক তারপর তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হয়েছিলেন। বর্তমানে বিজেপির বিধায়ক। প্রশিক্ষকের ভূমিকায় ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও। এদিন বিধায়কদের কী করতে হবে, বিধানসভার অধিবেশন এর মধ্যে কখন কোন ইস্যুতে কি ধরণের রণকৌশল নিতে হবে তা নিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রশিক্ষকরা। বলেন, সরকারকে কিভাবে জবাবদিহি করাতে হবে তাও বলেন তারা।
বিধানসভার ভেতরে কিভাবে মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরতে হবে, কিভাবে সময়ের সদ্ব্যবহার করতে হবে সেই নিয়েও খুটিনাটি পরামর্শ দেওয়া হয়। কর্মশালায় বিধায়কদের ড্রেসকোডও বেঁধে দেন শুভেন্দু অধিকারী। সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি কেউ যদি ধুতি পরতে চান শুধু ধুতি-পাঞ্জাবি সেইসঙ্গে কপালে তিলক। বিধানসভায় বিরোধী বাম কংগ্রেসের কোনও প্রতিনিধিত্ব নেই। বিরোধী শিবিরের সমস্ত দায়-দায়িত্ব বিজেপির কাঁধে।
