হাত জোড় করে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ মমতার, আলাপনকে রেহাই দিন

|

রানার ডেস্ক : মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সরাসরি সংঘাত নয়, বরং অনুরোধের রাস্তায় হাঁটলেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক চলাকালীন তিনি হাত জোড় করে বলেন,”প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি আপনি দয়া করে মুখ্যসচিবের বদলির আদেশ প্রত্যাহার করে নিন। এখন কোভিড আর ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতির সঙ্গে আমরা লড়াই করছি, সেই সময় এই আদেশ সেই লড়াইকে দুর্বল করে দেবে।”

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ৩১ মে মুখ্যসচিবের চাকরির মেয়াদ শেষ, তাঁর অবসর নেবার কথা। কিন্তু বর্তমান কোভিড সংকটে দাঁড়িয়ে, সরকার মনে করেছে ওনার আরও কিছুদিন দায়িত্বে থাকা দরকার। একারণেই ওনার চাকরির মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়িয়ে দেবার জন্য কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। সেই আর্জি মঞ্জুর করেছে দিল্লি।

তারপর হটাৎ তাকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হলো। আলাপন প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে একটু আক্রমনাত্মক ভঙ্গিতেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। বলেন, কলাইকুন্ডা নিয়ে প্রতিশোধের মেজাজেই এই সিদ্ধান্ত দিল্লির। তার মন্তব্য, এটা মুখ্যসচিবকেই অপমান নয়, এটা রাজ্য সরকারকেও অপমান করা হলো। এটা শুধু আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে অপমান নয়, দেশের সমস্ত আইএএস অফিসারদের জন্য এটা অবমাননাকর।

মমতা বলেন, কেন্দ্রের সিধান্ত আইন বিরুদ্ধ এবং সংবিধান বিরোধী। এদিন তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে কলাই কুন্ডায় কোনওভাবে অপমান করা হয়নি। তারসঙ্গে দেখা করে, তার হাতে রিপোর্ট দিয়ে আলাদাভাবে কথা বলার পর আমি দিঘা যাবার জন্য তার কাছ থেকে অনুমতি চেয়ে নি। কারন দিঘার বৈঠক আগে থেকে ঠিক করা ছিল। সবাই অপেক্ষা করছিল। মুখ্যসচিব আমার সঙ্গেই দিঘার বৈঠকে ছিলেন।

আইএএস অফিসাররা কেন্দ্র থেকে নিয়োগ হলেও তারা কাজ করে রাজ্য সরকারের অধীনে। সুতরাং রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা বা সিধান্ত ছাড়াই তিনি দুম করে নিজের মতো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন না। মন্তব্য মমতার। বলেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন