বিধানপরিষদ গঠনে মরিয়া মমতা, পাশ মন্ত্রিসভায়, কলকাঠি বিজেপির হাতেই

|

রানার ডেস্ক : ২০১১ সালে যখন ক্ষমতায় আসেন সেই সময় মমতা ব্যানার্জি ঘোষণা করেছিলেন, তারা বিধানপরিসদ গঠন করবেন। বিধান পরিষদ গঠন হলে তার সদস্য কে হবেন ,মূলত সেই সিধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থাকে সরকার এবং বিধানসভার ওপর। দিল্লিতে রাজ্যসভার সদস্য যেমন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হতে পারেন তেমনি বিধানপরিষদের সদস্যের ক্ষেত্রে মন্ত্রীসভার সদস্য হতেও কোনও বাধা নেই।

আরও পড়ুন : বিশ্ব জুড়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঈশ্বর, ব্যাপক জনপ্রিয়তা বাড়ছে ভুতপ্রেতের

২০০৪ সালে কেন্দ্রে যখন ইউপিএ সরকার গঠন হয়, সেই সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া মনমোহন সিং ছিলেন সংসদে রাজ্যসভার সদস্য। তিনি ছিলেন অসম বিধানসভা থেকে নির্বাচিত। ২০১১ সালে মমতা ক্ষমতায় আসার পর, সরকার বিধানপরিসদ গঠনের প্রস্তাব নিয়ে সেবার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছিল। কিন্তু বৈঠকের মুড বুঝে সে যাত্রায় পিছিয়ে যান মমতা।

কিন্তু যারা মন্ত্রী হতে না পেরে ক্ষোভ চেপে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তাদের খুশি করতে তৈরি হয় পরিষদীয় সচিবের পদ। মন্ত্রীদের জন্য যাবতীয় সুযোগ সুবিধাও পেতে শুরু করেন তারা। কিন্তু আচমকাই এনিয়ে মামলা দায়ের হয় আদালতে। শুনানি শেষে আদালত জানিয়ে দেয়, এই পদ অসাংবিধানিক, এবং এক্ষুনি এই পদ অবলুপ্ত করতে হবে। এবার নতুন করে ঝাপিয়েছেন মমতা।

আরও পড়ুন : গো-মাতার বিশ্বরেকর্ড! নামেই গরু, দাম প্রায় তিন কোটি

সোমবার এক বিরল নজির তৈরি করে টেলিফোনেই মন্ত্রিসভার বৈঠক সারেন মমতা। কেননা সেই সময় তিনি নিজাম প্যালেসের ১৫ তলায় ধর্ণায় বসেছিলেন। সেই বৈঠকেই পাশ হয়ে যায়, বিধান পরিষদ গঠনের প্রস্তাব। এবার সেই প্রস্তাবে রাজ্যপালের সই হবার পর তা পাঠানো হবে দিল্লিতে। সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যপাল মন্ত্রীসভার পাঠানো প্রস্তাবে সই করতে কার্যত বাধ্য।

রাজ্যপাল সই করার পর সেটা পৌছবে দিল্লিতে। তারপর? এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্য মন্ত্রীসভার প্রস্তাব পাশ করতে হবে সংসদে। এখন প্রশ্ন বিজেপি সখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ কি অত সহজে মমতার প্রস্তাবে মঞ্জুরি দেবে? নন্দীগ্রামে হেরে গেছেন মমতা। ভোটে হেরেও তিনি এখন মুখ্যমন্ত্রী। সংবিধান অনুযায়ী, বিধানসভা কিংবা বিধান পরিষদের সদস্য নন, এমন ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিতেই পারেন।

শপথ গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে তাকে কোনও একটি কক্ষের সদস্যপদ অর্জন করতেই হবে। অন্যথায় বাতিল হবে তার মুখ্যমন্ত্রীত্ব। এরফলে শুধু মমতা নন, অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র যিনি এবার শারীরিক কারনে ভোটে লরেননি, তিনি এখন অর্থমন্ত্রী। তাকেও ছয়মাসের মধ্যে বিধানসভার সদস্যপদ অর্জন করতে হবে। সেটা করতে হলে, মমতা এবং অমিত মিত্র দুজনকেই ছয় মাসের মধ্যে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে আসতে হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করেন, নন্দীগ্রামে হেরে যাবার পর মমতার আত্মবিশ্বাসে চির ধরেছে। আবার যদি হেরে যান? মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকেই সরে যেতে হবে। সেই ঝুঁকি না নিয়ে বিধানপরিষদের সদস্য হয়ে দিব্যি মুখ্যমন্ত্রীত্ব চালাতে পারবেন। রাজ্য গেরুয়া শিবিরের একাংশ মনে করেন, মমতার সব দৌড়ঝাঁপ আটকে যাবে সংসদে।

পশ্চিমবঙ্গের নাম পাল্টে বঙ্গ রাখার যে প্রস্তাব দিল্লিতে পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার, গত দু’বছর ধরে তা পরে আছে হিমঘরে। বিধান পরিষদের ক্ষেত্রেও একই জায়গা বরাদ্দ আছে বলেই মনে করেন তারা। ফলে মমতা কিংবা অমিত মিত্র, দুজনকেই ভোটে লড়ে এবং জিতে নিজেদের চেয়ার ধরে রাখতে হবে। এই রাজ্যে দীর্ঘদিন আগে বিধানপরিষদের অস্তিত্ব ছিল।

১৯৫২ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত রাজ্যের আইনসভা ছিল দুই কক্ষ বিশিষ্ট, বিধানসভা এবং বিধান পরিষদ। ১৯৬৯ সালে দ্বিতীয় যুক্তফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় এসে বিধানপরিষদ তুলে দেয়। লোপ পায় এর অস্তিত্ব।। দ্বিতীয় যুক্তফ্রন্ট সরকারের বক্তব্য ছিল, বিধান পরিষদের অনির্বাচিত প্রতিনিধিদের জন্য বিপুল অর্থ খরচ হয়, এবং বিধানপরিষদ আখেরে একটি স্বজন-পোসনের আখড়া।

আরও পড়ুন