কলকাতা : দিল্লি যেতে পারেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ২৪ জুলাই দিল্লি যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৫-৩০ জুলাই দিল্লিতে থাকবেন তিনি। মনে করা হচ্ছে একাধিক বিরোধী নেতা নেত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে পারে। সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনা থাকছে। বেশ কয়েক বছর পর দিল্লি যাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
করোনার কারণে তিনি বহুদিন রাজ্যের বাইরে যান নি। বিধানসভা নির্বাচনে জয় পরবর্তী সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দিল্লি সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কয়েকদিন আগেই প্রশান্ত কিশোর দিল্লিতে যশবন্ত সিং, শরদ পাওয়ার, রাহুল গান্ধীর মত বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রাজনৈতিক মহল মনে করে, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূত হয়ে প্রশান্ত কিশোর এই বৈঠক করেছিলেন।
নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের ঘোড়া অশ্বমেধের ঘোড়া কার্যত থামিয়ে দিয়েছেন মমতা। দেশ জোড়া নজর ছিল বাংলা নির্বাচনে। সেখানে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। স্বাভাবিকভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আগ্রহ তুঙ্গে। অনেকেই বলছেন এবার তিনি বিরোধী মুখ। বারবার ফেল করেছে রাহুল গান্ধী।
সেই অর্থে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফল্য অর্জন করেছেন। আগামী ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে এখন থেকেই বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি বাড়াতে হবে। সলতে পাকাতে হবে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ জোটের উপর। সেই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দিল্লি সফর বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী বছর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। দিল্লির হাওয়ায় ভাসছে, বিরোধীদের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হতে পারে শরদ পাওয়ার।
সেই বিষয়ে নিয়োগ আলোচনা হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চলতি মাসের দিল্লি সফরে। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখনো পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়কে কোনও সময় সূচি জানানো হয়নি। চলতি বছর বাজেট পেশের সময় মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, রাজ্যের পাওনা ৬০ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্র দেয়নি। সেই বিষয়ে নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের দাবি দাওয়া শেষ করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
সেই সঙ্গে একাধিক বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মমতা। তবে কার সঙ্গে কবে বৈঠক তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সফরসূচি পাওয়া গিয়েছে। যদিও এই সহজপুর সূচিতেও বদল ঘটতে পারে পারে, তেমনটাও জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের এক শীর্ষ নেতা। তবে পরিস্থিতি খুব কিছু পরিবর্তন না হলে চলতি মাসের শেষে তৃণমূল সুপ্রিমোর দিল্লি সফর পাকা।
