হাঁ করে অপেক্ষাই সার হলো পুলিশের, বিজেপি গেল না নবান্নে

|

রানার ডেস্ক : বলা নেই কওয়া নেই দুম করে খবর ছড়িয়ে পড়লো শনিবার নবান্ন অভিযান ( Nabanna Campaign ) করবে বিজেপি। বিভিন্ন সংবাদ মাধমে শুক্রবার রাতে সেই খবর দেখে হতচকিত হয়ে যায় বিজেপি ( BJP ) রাজ্য নেতৃত্ব। আচমকা এই খবরে জোর তৎপরতা শুরু হয় পুলিশেও। রাতে অনেকেই যোগাযোগ করতে শুরু করে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে,তখন তাদের আকাশ থেকে পরার দশা।

কারন দল ঠিক করেছে জুন মাসে করোনা মোকাবিলায় নানাবিধ বিধি নিষেধ জারি আছে বলে কোনও বড় আন্দোলনের কর্মসূচি নেওয়া হবে না। তাহলে নবান্ন অভিযান এলো কোথা থেকে? বিজেপি নেতৃত্ব খোঁজ নিয়ে জানলেন, তাদের সঙ্গে কথা না বলেই উত্তর কলকাতা বিজেপি’র কিছু অতি উৎসাহী সদস্য ভারতীয় জনতা মজদুর সেল-এর ব্যানারে নবান্ন অভিযানের সিধান্ত নিয়েছে।

কসবায় জাল টিকা কাণ্ডের প্রতিবাদে এই মিছিলের আয়োজন। গোটা কয়েক লোক নিয়েই সেন্ট্রাল এভিনিউ থেকে এই মিছিলের তোড়জোড় করছিল তারা। খবর কানে যেতেই মজদুর সেলের প্রেসিডেন্ট মিঠু চ্যাটার্জিকে ফোন করে এই ধরনের কর্মসূচি না করার জন্য নির্দেশ দেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। রাতেই বিজেপির তরফ থেকে জানানো হয়, দল এই ধরণের কোনও কর্মসূচি নেয়নি।

দল তো নেয়নি, কিন্তু মজদুর সেল? কোনও ঝুঁকি নিতে চায়নি পুলিশ। খবরের জেরে প্রযুক্তি শুরু করে দেয় তারা। নবান্ন অভিযান রুখতে সকাল থেকেই লালবাজারের শুরু হয় সাজসাজ রব। পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়ে যায় হাওড়া পুলিশও। চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয় নবান্নের নিরাপত্তায় থাকা কর্মীদের জন্য। সকাল থেকে ধর্মতলা,সেন্ট্রাল এভিনিউ শুধু থিক থিক করতে থাকে পুলিশে।

ধীরে ধীরে বিভ্রান্তি, উত্তেজনাও ছড়াতে শুরু করে। পুলিশের যুদ্ধকালীন তৎপরতার মাঝেই প্রশ্ন ওঠে মিছিলের তৎপরতা কোথায়? অবশেষে সব বিভ্রান্তি দূর করতে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে মজদুর সেল জানায়, প্রস্তাবিত কর্মসূচি বাতিল করেছে তারা। ঘাম দিয়ে জর ছাড়ে প্রশাসনের। কারন সাম্প্রতিক কয়েক বছরে নবান্ন অভিযান মানেই যেন রক্তারক্তি কান্ড। মজদুর সেলের ঘোষণার পরই নিজেদের ঠিকানায় ফেরৎ যায় পুলিশ বাহিনী।

আরও পড়ুন