রানার ডেস্ক : জিটিএ দুর্নীতির ( GTA Corruption ) অভিযোগ তুলে কার্যত নবান্নে ( Nabanna ) আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর ( Governor Jagdeep Dhankar )। আজ রাজ্যপাল বলেন, জিটিএ-তে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে, সেই ঘটনার তদন্ত হওয়া জরুরি। তিনি বলেন, পাহাড়ের উন্নতির জন্য হাজার কোটি টাকা বরাদ্ধ হয়েছিল কিন্তু পাহাড়ের কোনও উন্নতি হয়নি এমনকি সেই টাকার কোনও হিসেবও নেই।
২০১৭ সালের পর থেকে পাহাড়ে কোনও নির্বাচন পর্যন্ত করা হয়নি। রাজ্যপাল বলেন, এসব উপেক্ষা করলে হবে না। পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য বিপুল অর্থ কোথায় গেল, তার হিসেব বার করার জন্য সিএজি-কে দিয়ে তিনি তদন্তের ব্যবস্থা করবেন বলে মন্তব্য করেন। বলেন, তদন্ত হলেই পরিষ্কার হবে, কতটুকু দুধ আর কতটুকু জল আছে। রাজ্যপালের এই বিবৃতি আক্ষরিক অর্থেই আগুন ধরিয়ে দিয়েছে নবান্নে।
এই মুহূর্তে যারা জিটিএ’র ক্ষমতায় তারা শাসকদলের ঘনিষ্ট। জিটিএ প্রধান এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার ( Gorkha Janmukti Morcha ) নেতা বিমল গুরুং ( Bimal Gurung ) রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাতে যাবার পর ক্ষমতা হারান গুরুং। বিনয় তামাংকে বসিয়ে দেওয়া হয় জিটিএ’র মাথায়। সেই জিটিএ-কে আক্রমণ করায় কার্যত তেলে বেগুনে হয়ে ওঠে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী আজ সাংবাদিক বৈঠক ডেকে বলেন, জিটিএ’র তদন্ত পরে হবে, আগে উনি কেন দার্জিলিং গিয়েছিলেন, কে কে সঙ্গে ছিল, কত টাকা খরচ করেছেন সেইসব তদন্ত হওয়া দরকার।
কারন এই রাজ্যপাল দুর্নীতিগ্রস্থ। জৈন-হাওয়ালা দুর্নীতি মামলায় রাজ্যপালের নাম ছিল বলেও পরোক্ষে ইঙ্গিত করেন তিনি। রাজ্যপালকে নিশানা করে মমতা ব্যানার্জি আরও বলেন, রাজ্যপাল উত্তরবঙ্গে ( North Bengal ) গিয়ে সেখানে রাজ্য ভাগের চক্রান্তে ইন্ধন দিয়ে এসেছেন। মমতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এদিন বিজেপির নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর কথা থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার, জিটিএ দুর্নীতি হয়েছে, এবং সেই দুর্নীতি ঢাকতেই রাজ্যপালকে এই ভাষায় আক্রমণ করছেন তিনি।
