রানার ডেস্ক : ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে দলবদলুদের হা-হুতাশ সব ঝরে পড়ছে ফেসবুকে ( face Book )। এমনকি ফেসবুকে এদের বেসুরো কথাবার্তার জেরে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে বিজেপিকে ( BJP )। শুভ্রাঙসু হোক কিংবা রাজীব ব্যানার্জি ( Rajib Banerjee ), ভোটে হেরে যাবার পর এখন কার্যত মেঘের আড়াল থেকে ফেসবুক তীর ছুড়ছেন বিজেপিকে লক্ষ করে।
বিজেপি নেতারা তৃণমূলের সমালোচনা করলে এই দলবদলু বেসুরদের গায়ে ফোস্কা পড়ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিজেপির সমালোচনা করে এরা তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ হতে চাইছেন। এদের হিসেব নিকেশে ভুল হয়ে গেছে, ভেবেছিলেন বিজেপি ক্ষমতায় আসছে, হয়ে গেল উল্টো, ফলে এখন আবার উল্টো সুরে গান ধরেছেন তারা।
দলের ভেতরে প্রবল চাপ তৈরি হচ্ছে এই ফেসবুক নেতাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মঙ্গলবার বিজেপি রাজ্য পদাধিকারিদের বৈঠকে অনেকেই এনিয়ে সরব হন। অনেকেই দাবি করেন, দলের শৃঙ্খলার স্বার্থে এদের সাসপেন্ড করা হোক। কিন্তু এরা যে শৃঙ্খলা ভাঙছেন, সেই মর্মে দলে তো রিপোর্ট জমা পড়তে হবে। এটাই নিয়ম।
হটাৎ সকলের খেয়াল হলো, রাজ্য বিজেপিতে কোনও শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটিই নেই। নিয়ম হলো, নতুন সভাপতি তার দায়িত্ব পাওয়ার পর যখন শাখা সংগঠনগুলি গড়ে তোলেন, তেমনি একই সঙ্গে গড়ে তুলতে হয় শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। দিলীপ ঘোষ ( Dilip Ghosh ) দায়িত্ব নেবার পর তিনি এই কমিটি গঠনের কথা ভেবেও দেখেননি। আগের কমিটি তার মেয়াদ শেষ করে শিকেয় উঠেছে, নতুন কমিটিও নেই।
চরম বিড়ম্বনায় বিজেপি নেতারা। অবশেষে ঠিক হলো এক্ষুনি কমিটি তৈরি করতে হবে। তড়িঘড়ি পাঁচ সদস্যের টিম তৈরি হলো, মাথায় বসানো হলো সাংসদ সুভাষ সরকারকে। এই কমিটি এখন থেকে সাধারণ শৃঙ্খলা জনিত স্খলন ছাড়াও সামাজিক মাধ্যমে দলের নেতাদের পোস্টের ওপরেও নজর রাখবে। যদি ফেসবুক পোস্ট দলের শৃঙ্খলা বিরোধী মনে হয় তাহলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে কমিটি।
