রানার প্রতিবেদন : শিশির অধিকারী ( Shishir Adhikari ) এবং সৌমেন্দু অধিকারীর ( Soumendu Adhikari ) আদৌ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ( Dilip Ghosh )। মঙ্গলবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন,”তারা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই। তারা সমর্থন করতে পারেন কিন্তু দলে যোগ দিয়েছেন এমন কোন খবর আমার কাছে নেই।” অর্থাৎ শুভেন্দু অধিকারীর ভাই সৌমেন্দু অধিকারীর এবং তার বাবা শিশির অধিকারী বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন কিনা বা বিজেপির সদস্য হয়েছেন কিনা এই নিয়ে বড় প্রশ্ন তুললেন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
ইতিমধ্যে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে শিশির অধিকারী যেহেতু তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, সেইসঙ্গে সুনীল মণ্ডলও ( Sunil Kumar Mandal ) তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, সুতরাং দুজনের সাংসদ পদ খারিজ করতে হবে। তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে দু’দফায় কথা বলেছেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার ( Om Birla ) সঙ্গে। গতকালও তিনি কথা বলেন এবং জানতে চান, এই দুই জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, এর স্বপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণপত্র আপনার দপ্তরে জমা করা হয়েছে তার পরেও কেন এই দুজনের সদস্যপদ খারিজ করা হচ্ছেনা?
উত্তরে ওম বিড়লা সেইসময় জানান , অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি একটি কমিটি গঠন করছেন,সেই কমিটির সদস্যরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখবে এবং সেই কমিটি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ডেকে পাঠাবে। ইতিমধ্যে মুকুল রায় ( Mukul Roy ) যিনি বিজয়ী হয়েছেন কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে অথচ বিজেপি বিধায়ক হয়েই তিনি সরাসরি যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসে ( TMC )। দল ত্যাগের সময় তার উঁচিত ছিল, বিধায়ক পদ থেকে যদি ইস্তফা দেয়া।
মুকুল ইস্তফা না দিলে সে ক্ষেত্রে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় তারা স্পিকারের কাছে আবেদন করবেন। স্পিকার সাড়া না দিলে তারা আইনের সাহায্য নেবেন। শুভেন্দু অধিকারী ( Suvendu Adhikari ) এই দাবি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং আজকেই তার চরম সীমার শেষ দিন। তিনি বলেছেন, মঙ্গলবারের মধ্যে মুকুল রায়কে পদত্যাগ করতে হবে,নইলে বুধবার তারা স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস শিশির অধিকারীকে নিয়ে পাল্টা চাপ দিতে শুরু করেছে। তাদের বক্তব্য, দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগের দৃষ্টান্ত শুভেন্দু নিজের ঘরে আগে প্রয়োগ করছেন না। যেখানে তার বাবা নিজেই দল ত্যাগ করে বসে আছেন সুতরাং তিনি কেন পদত্যাগ করছেন না? এই প্রশ্ন তুলে তৃণমূলের বক্তব্য, আইন যদি বাস্তবায়িত করতে হয় তাহলে সকল ক্ষেত্রেই সেই আইন বাস্তবায়ন হওয়া জরুরী। অন্যের বিরুদ্ধে আঙুল তোলার আগে নিজের দিকটা। খতিয়ে দেখা উচিত। সুতরাং শুভেন্দুর উচিত মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার আগে তার বাবা শিশির অধিকারীকে পদত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া।
