গোটা বিশ্বের কাছে বিস্ময় হোটেল প্যালেসিও দে সাল, কিন্তু কেন?

|

রানার প্রতিবেদন : আমাদের বাস্তবের পৃথিবীতেই এমন একটি জায়গা আছে যেখানে প্ৰাসাদ তৈরি করা হয়েছে নুন তথা লবণ দিয়ে। বিশ্বাস না হওয়ারই কথা, কিন্তু এটা বাস্তব। ঘটনাটি ঘটেছে বলিভিয়াতে ( Bolivia )। বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজে ( La Paz ) এখন পৰ্যটকদের সংখ্যা আচমকাই অনেকটা বেড়ে গেছে, তার নেপথ্যের কারণটি হল এই নুনের প্ৰাসাদ। লা পাজের দক্ষিণাংশে সালার দে ইয়ুনি ( Salar de Uyuni ) নামক একটি স্থানে তৈরি হয়েছে নুনের প্ৰাসাদ, স্থানীয় ভাষায় এর নাম প্যালেসিও দে সাল ( Palacio de Sal )।

তবে আদতে এটি একটি হোটেল। সেই হোটেলটি দেখতেই বলিভিয়ার এই দক্ষিণাংশটিতে এখন পৰ্যটকদের ভিড় সামাল দিতে রীতিমতো নাজেহাল হয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্ৰশাসন। কেননা হোটেলের সবকিছুই নুন দিয়ে তৈরি। তা সে চেয়ার-টেবিল, খাট মানে আসবাব হোক কিংবা দেওয়াল, মেঝে, সিলিং সবকিছুই। হোটেলটি কিন্তু বেশ পুরনো।

১৯৯৩ সালে যখন হোটেলটি প্ৰথম তৈরি হয়, তখন সেখানে ছিল মাত্ৰ বারোটি ঘর। কিন্তু পয়ঃপ্ৰণালি ব্যবস্থা ঠিকমতো না থাকায় তা থেকে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, সেই অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া হয় হোটেলটি। বন্ধ হলে কী হবে প্যালেসিও দে সাল কিন্তু তখন থেকেই আগত দৰ্শনাথীদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছিল। ২০০৭ সাল থেকে সেটাকে নতুন পরিকল্পনায় নিমাণ করার প্ৰকল্প নেওয়া হয়। এবার তার জন্য বাছা হয় নতুন স্থান, ইয়ুনি শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে, একেবারে দেশের পূৰ্ব প্ৰান্তে।

হোটেলটি দ্বিতীয়বার তৈরির সময় মাথায় রাখা হয়েছিল সেখান থেকে যেন পরিবেশদূষণ না হয়। সেভাবেই তৈরি হয় পুরোটা, প্ৰায় ৩০টি পরিবেশবান্ধব ঘর তৈরি করা হয়। সঙ্গে বানানো হয় ছোট্ট একটি রেস্তোরঁ। আর সেই রেস্তোরঁর সবচেয়ে জনপ্ৰিয় পদের মধ্যেও জাঁকিয়ে বসেছে নুন–কেননা এখানে এসে প্ৰায় ৯০ শতাংশ লোকই সল্ট চিকেন খেতে পছন্দ করেন। অনেকে এখানে এসে হয়তো-বা ভাবতে পারেন যে এখানে তো ফাৰ্নিচার, ভাস্কৰ্য, দেওয়াল, মেঝে সব জায়গাতে ভৰ্তি ভৰ্তি নুন, তাহলে খানিকটা নিয়ে খাবারে মিশিয়ে নিলেই তো হয়।

কিন্তু কেউ যাতে সেই নুনে ভাগ পৰ্যন্ত বসাতে না পারে, সেজন্য হোটেল কৰ্তৃপক্ষের কড়া নজরদারি রয়েছে। নিয়মের কড়াকড়িও রয়েছে, কোথাও থেকে এক বিন্দুও খাওয়া যাবে না। পৃথিবীতে এত কিছু থাকতে হঠাৎই কেন নুন দিয়ে হোটেল বানানোর পরিকল্পনা মাথায় এল? স্বাভাবিক প্ৰশ্ন। আসলে বলিভিয়ার সালার দে ইয়ুনি হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লবণাক্ত সমতলভূমি।

৪০৮৬ বৰ্গমাইলের পুরোটাই যে নুন দিয়ে ঢাকা তা না দেখলে কেউ বিশ্বাস করতে চাইবে না। এমনকী মহাকাশ থেকেও এই স্থানটি নজরে পড়ে। অঞ্চলটিকে ঘিরে নানা লোকগাথা আছে। স্থানীয়দের একটা বড় অংশ মনে করে প্ৰাগৈতিহাসিক যুগে এখানকার একটি হ্ৰদ শুকিয়েই বৰ্তমানের লবণভূমি তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন