রানার ডেস্ক : আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট হয়নি কংগ্রেসের। ভাইজান আব্বাস সিদ্দিকী (Abbas Siddiqui )সংক্রান্ত যাবতীয় দায় সিপিএমের ( CPM ) ঘাড়ে চাপিয়ে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস ( Indian National Congress ) সভাপতি অধীর চৌধুরী ( Adhir Ranjan Chowdhury )। আজ প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি। অধীর বাবু বলেন , কংগ্রেস এবং সিপিএম একটি আসনও না পাওয়ার কারণ বিজেপির প্রচার। বিজেপির প্রচারের ফায়দা তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস ( TMC )। এ প্রসঙ্গে স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ভোটের আগে যেভাবে এনআরসি ( NRC ) নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বিজেপি তার ফায়দা তুলতে পেরেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
তিনি বলেন, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ( Amit Shah ) পর্যন্ত এনআরসি নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন এ রাজ্যে। স্বভাবতই সংখ্যালঘু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তারা জানেন যে বাম এবং কংগ্রেস এই দুই দলই ধর্মনিরপেক্ষ কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য ছিল বিজেপিকে ঠেকানো। বিজেপিকে হারানোর এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তারা ভোট দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসকে।
এনআরসি নিয়ে প্রচারের ফলে সংখ্যালঘুদের মনে ভীতির সঞ্চার হয়েছিল, তার ফায়দা পুরোপুরি ঘরে তুলতে পেরেছে তৃণমূল কংগ্রেস একই সঙ্গে তিনি এদিন আইএসএফ ( ISF )-এর সঙ্গে জোট সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি বলেন, আই এস এফ এর সঙ্গে কংগ্রেসের কোন ধরনের কোনো সমঝোতা বা জোট হয়নি আর হয়নি বলেই মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিল আইএসএফ। অধীর চৌধুরী বলেন, জোট সংক্রান্ত আলোচনা এবং সমঝোতা কংগ্রেস করেছিল শুধুমাত্র সিপিএমের সংগে।
এই জোট আগামী দিনে থাকবে কিনা সেই প্রসঙ্গে অধীর বাবু জানান, জোট ভোটের আগে তৈরি হয়েছিল সেই জোট এখনো রয়েছে। জোট ভাঙার ব্যাপারে কোনো দলই কোন দলকে কোন বার্তা দেয় নি।রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, আব্বাস সিদ্দিকীর সঙ্গে নির্বাচনী গাঁটছড়া বাঁধার জন্য অসংখ্য শিক্ষিত শহুরে মানুষ এবারের ভোটে তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছেন। পর্যবেক্ষক মহলের দাবি যে সমস্ত শহুরে শিক্ষিত মানুষ এবার তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন,তাদের মূল লক্ষ্য ছিল যে কোনো মূল্যে ভোটে বিজেপিকে পরাস্ত করা।
অনেকের মধ্যে এই ধারণাটাও ছিল, আব্বাস সিদ্দিকীর মত মৌলবাদী কথাবার্তা বলা একজন ধর্মীয় নেতা রাতারাতি কি করে ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে যান। কি করে বামেদের সঙ্গে নির্বাচনী গাঁটছড়া বাঁধতে পারেন? এই প্রশ্নে দ্বিধা দ্বন্দ্ব ছিল শহুরে শিক্ষিত মানুষের মনে।তাই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের বক্তব্য, শহুরে শিক্ষিত মানুষের ভোটের একটা বড় অংশ তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে চলে যাওয়ায় বিপর্যয় হয়েছে বামেদের সেই সঙ্গে বামেদের বিপর্যয়ের আরও একটি কারণ সংখ্যালঘু ভোট পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নেওয়া।
