রানার ডেস্ক : জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫১ অনুযায়ী, কোনও প্রার্থী তার ভোট প্রচারে কখনোই ধর্মের ভিত্তিতে ভোট চাইতে পারেন না। এই আইন লঙ্ঘন করলে তাঁর প্রার্থিপদ বাতিলের সংস্থান আছে আইনে। এই আইনের কবলে কি পরতে চলেছেন মমতা ব্যানার্জি? কমিশনের কড়া চিঠির পরই এই জল্পনা জোরালো হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বুধবার মমতাকে চিঠি দিয়ে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তারকেশ্বরে ভোট প্রচারে গিয়ে সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে জনতার কাছে ভোট প্রার্থনা করেছেন।গত শনিবার তারকেশ্বরে ভোট প্রচারে গিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। সেখানে জনসভায় তিনি বলেন, বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে ভয়ঙ্কর বিপদ। বিশেষ করে মুসলিমদের বিপদ। মুসলিমদের বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হতে বলেন তিনি। মুসলিমদের কাছে তৃনমূল প্রার্থীর জন্য ভোটের আবেদন করেন মমতা।
একই অভিযোগ উঠেছে মমতার কুছবিহারের সভা নিয়েও। সেখানেও তিনি মুসলিমদের এককাট্টা হতে বলেছেন। একইসঙ্গে তাদের তৃণমূলের পাশে দাঁড়ানোর ডাক দিয়েছেন বলে অভিযোগ।কোচবিহারে আব্বাসকে আক্রমণ করেন মমতা। বলেন, মুসলিম ভোট ভাগ করার জন্য আব্বাস সক্রিয় হয়েছে। আব্বাস আসলে বিজেপির কমরেড। মুষলিমরা যাতে আব্বাসের কথায় প্রভাবিত না হন, সেই আবেদন জানান মমতা।
তিনি বলেন, মুসলিমদের ভোট ভাগাভাগি আটকানো জরুরি। এনিয়ে ব্যাপকভাবে সোচ্চার হয়েছে বিজেপি। এমনকি মঙ্গলবার রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে এনিয়ে মুখ খোলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, আমি যদি এই আচরণ করতাম তাহলে এতক্ষন সমালোচনার ঝড় বয়ে যেত।অথচ উনি দিব্যি এসব কথা বলে চলেছেন। বুধবার কমিশন চিঠি পাঠিয়েছে মমতা ব্যানার্জিকে। চিঠিতে তৃনমূল নেত্রী হিসাবে নয়, মমতাকে সম্বোধন করা হয়েছে নন্দীগ্রাম বিধানসভার প্রার্থী হিসেবে।
অর্থাৎ তারসঙ্গে একজন প্রার্থীর মতোই যে আচরণ করবে কমিশন তা পরিষ্কার। একারণেই জল্পনা মাথাচাড়া দিয়েছে। চিঠিতে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন লঙ্গনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। মমতাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ৪৮ ঘন্টা সময় দেওয়া হয়েছে। এই আইন লঙ্ঘন করলে কমিশন প্রার্থীপদ বাতিল করে দিতে পারে। আইনে সেই কথা বলা আছে। এখন দেখার মমতার জবাবী চিঠি পাওয়ার পর কমিশন কি ভূমিকা নেয়।
