রানার প্রতিবেদন : শেষ পর্যন্ত মুখ খুললেন রুমানা সুলতানা ( Rumana Sultana )। এবছর উচ্চ মাধ্যমিকে ( HS ) ৫০০ এর মধ্যে ৪৯৯ নম্বর পেয়ে রাজ্যে প্রথম স্থান দখল করেছেন তিনি। তার মুসলিম পরিচয় নিয়ে গত ২৪ ঘন্টা ধরে বিতর্ক চলছে। এই বিতর্কে নিজেই মুখ খুললেন রুমানা সুলতানা। গতকাল উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল ঘোষণা করার সময় বোর্ডের প্রধান মহুয়া দাস ( Mahua Das ) বলেন, এবারে যিনি প্রথম হয়েছেন তিনি একজন মুসলমান ছাত্রী। তিনি এককভাবে প্রথম হয়েছেন।
সেই সময় তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, যিনি প্রথম হয়েছেন তার নাম কি? মহুয়া দাস তখন বলেন, তিনি একজন মুসলিম লেডি, মুসলিম ছাত্রী, তার নাম ওয়েবসাইটে দেখে নিন। ওয়েব সাইট ঘেঁটে দেখা যায়, তার নাম রুমানা সুলতানা, এরপরই শুরু হয় বিতর্ক। বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে মুসলিম পরিচয় দেওয়াটা কি খুব দরকার ছিল। অতীতে কোনদিনই পরীক্ষায় সাফল্য পাওয়া কোন ছাত্র-ছাত্রীর ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।
এবার কেন করা হলো? এর পেছনে কি এই সরকারের কোনও রাজনীতি কাজ করছে? ইতিমধ্যে বোর্ড প্রধান মহুয়া দাসের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। শিক্ষামন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে মহুয়া দাসের পদত্যাগ দাবি করেছে ছাত্র পরিষদ। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। যদিও এই ঘটনার পেছনে কোনো নেতিবাচক দিক দেখছে না শাসক শিবির। তারা বলছেন ,মুসলিম সম্প্রদায় সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশ।
একজন মুসলিম মহিলাকে কত রকমের বাধা বিপত্তি পার হয়ে সাফল্যের আঙিনায় আসতে হয় তা কল্পনার অতীত। সুতরাং রুমানা একজন মুসলিম মেয়ে হয়েও যেভাবেই সাফল্য লাভ করেছে তা রীতিমতো উল্লেখযোগ্য। তার ধর্মীয় পরিচয়টাকে উল্লেখ করা হয়েছে সেই কারণে। কিন্তু রুমানা কি বলছেন? সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে গিয়ে রুমানা বলেছেন, তার ধর্মীয় পরিচয় না উল্লেখ করলেই তিনি খুশি হতেন।
তাকে একজন ছাত্রী হিসেবে যদি উল্লেখ করা হতো সেটাই বেশি ভালো হতো। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিজেপি । দলের আইটি সেল এর প্রধান অমিত মালব্য টুইট করে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, রুমানা প্রথম হওয়ায় গোটা মুর্শিদাবাদ ( Murshidabad ) ওর জন্য গর্বিত। খুশি মুর্শিদাবাদের কান্দির মণীন্দ্রচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ( Manindrachandra High School ) শিক্ষকরাও। অধীরের প্রশ্ন, নাম ঘোষণা করার পর, তার ধর্ম পরিচয় ব্যাখ্যা করার মধ্যে কি উদ্দেশ্য ছিল?
বলেন, কেনইবা করা হলো তা বোধগম্য নয়।এটা না করলেই ভালো হতো। এনিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় অস্বস্তিতে রুমানা নিজেও। রুমানা বলেন, প্রতিটি মানুষের কাছে তিনি এটুকুই বলতে চান, এনিয়ে বিতর্ক যেন না হয়, সেটাই তার কাছে কাম্য। রুমানার পরিবারের লোকেদের বক্তব্য, পড়াশোনায় মেয়েরা এগিয়ে আসছে, এই সমাজের সামনে এটা একটা ইতিবাচক ঘটনা। বিষয়টাকে শুধুমাত্র এভাবেই যদি দেখা হয়, তাহলেই এর প্রকৃত মূল্যায়ন হবে।
