রানার ডেস্ক : অসংসদীয় কাজের জন্য সংসদের রাজ্যসভা থেকে সাসপেন্ড হলেন তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন ( Santunu Sen )। গতকাল তার আচরণের জন্য বিজেপির পক্ষ থেকে রাজ্যসভার ( Rajya Sabha ) অধ্যক্ষ ভেঙ্কাইয়া নাইডুর কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিল বিজেপি ( BJP )। অভিযোগ খতিয়ে দেখে শেষ পর্যন্ত শান্তনু সেনকে বাদল অধিবেশনের ( Monsoon Session ) বাকি দিনগুলোর জন্য সাসপেন্ড করা হয়।
গতকাল তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী যখন পেগাসাস ( Pegasus ) বিতর্কে সরকারি বক্তব্য পাঠ করছিলেন, সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেস ( TMC ) ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করে। রাজ্যসভায় হইচই চলাকালীন ড.শান্তনু সেন ছুটে গিয়ে মন্ত্রীর হাত থেকে কাগজগুলো ছিনিয়ে নেন, তারপর তিনি সেগুলো ছিঁড়ে বাতাসে ভাসিয়ে দেন। তৃণমূলের অভিযোগ, অসত্য বক্তব্য পাঠ করছিলেন মন্ত্রী তাই তাদের এই আচরণ।
এনিয়ে বিজেপি ব্যাপকভাবে সরব হয় এবং তারা জানায়, অধ্যক্ষের কাছে বিষয়টি নিয়ে তারা অভিযোগ জানাবে। কারন এটা কখনোই সংসদীয় আচরণের মধ্যে পড়ে না। বিজেপি যখন এনিয়ে হৈচৈ শুরু করেছে, তখনই সাংবাদিকদের সামনে আসে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব। তারা জানায় শান্তনু সেন কে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং কি তাকে শারীরিকভাবে হেনস্থার চেষ্টা করা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ এই রকম, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর হাত থেকে কাগজ ছিনিয়ে নিয়ে শান্তনু সেন ছিঁড়ে ফেলার পর বিজেপির হরদীপ সিং পুরি এসে শান্তনু সেনকে হুমকি দিতে শুরু করেন, এবং শারীরিকভাবে নিগ্রহ করার চেষ্টা করেন। এই অভিযোগে ফেটে পড়ে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও বিজেপির বক্তব্য, এটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা। হরদীপ সিং না তাকে কোনও হুমকি দিয়েছেন, না তাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছেন।
সকলে চোখের সামনে দেখেছে, শান্তনু সেন কি করেছেন। যে আচরণ রীতিমতো লজ্জাজনক। এ ধরনের আচরণ সাংসদের কাছ থেকে আশা করা যায় না। এ জিনিস চলতে থাকলে সংসদ অধিবেশন চালানোই মুশকিল হয়ে যাবে। তারা তখন সিদ্ধান্ত নেয়, বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হবে। ঘটনার সময় ভেঙ্কাইয়া নাইডু ( Venkaiah Naidu ) সভায় ছিলেন না।
বিষয়টি গতকালই তার দৃষ্টিতে নিয়ে আসা হয়। আজ তিনি তার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। এরপর তুমুল হৈচৈ শুরু হয় রাজ্যসভায়। তৃণমূল কংগ্রেস সদস্যরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তারপরই অধিবেশন সাময়িক মুলতবি রাখার সিদ্ধান্ত নেন অধ্যক্ষ।
