পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন আসন্ন? শুভেন্দুর কথায় পর্যাপ্ত ইঙ্গিত

|

রানার ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গ কি রাষ্ট্রপতি শাসনের ( Presidential Rule ) দিকে এগোচ্ছে? কিংবা বলা যায় পশ্চিমবঙ্গে কি রাষ্ট্রপতি শাসন আসন্ন? এই প্রশ্নগুলোর জন্ম দিলেন বিজেপি নেতা এবং বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ( Suvendu Adhikari )। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠন হওয়ার আড়াই মাসের মধ্যেই এই সরকারের যা কাজকর্ম, সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেট, সরকারের আট মাসের বাজেট এবং তারপর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ( NHRC ) রিপোর্ট, সব মিলিয়ে তার মনে হচ্ছে এই সরকারটা আগামী ভোট পর্যন্ত হয়তো আর টিকবে না।

অর্থাৎ তার স্পষ্ট ইঙ্গিত রাষ্ট্রপতি শাসনের দিকেই। তিনি বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তাদের রিপোর্টে দিয়ে বলেছে ,এই রাজ্যে আইনের শাসন নয় শাসকের আইন কায়েম হয়েছে। অর্থাৎ যেখানে আইনের শাসন নেই সেখানে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের যুক্তিযুক্ত কারণ রয়েছে বলেই তার ইঙ্গিত। শুভেন্দু বললেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওই একটা কথাই সরকারটাকে শেষ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, তার দল বিজেপি চায় সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেই ক্ষমতায় আসতে।

তিনি এটাই বোঝাতে চাইলেন, দল হিসেবে বিজেপি রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন চাইছে না কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলই পরিস্থিতি এমন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে রাষ্ট্রপতি শাসন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্ট কে হাতিয়ার করে বিজেপি এখন সরকারের সমালোচনায় কার্যত ঝাঁপিয়ে পড়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে পুলিশ-আমলা – শাসকদল তিন শক্তি হাতে হাত মিলিয়ে সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।

এখানে আইনের কোনও শাসন নেই। পুলিশ এক পক্ষের হয়ে কাজ করছে। আক্রান্ত,অত্যাচারিত মানুষ পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পায়নি। ভোটের পর যে বল্গাহীন সন্ত্রাস নেমে এসেছিল রাজ্য জুড়ে তার কোনো সুরাহা পাননি আক্রান্ত মানুষেরা। এমনকি পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে থানায় এফআইআর পর্যন্ত নেয়নি, এই অভিযোগ করা হয়েছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, এ রাজ্যের পুলিশের প্রশাসনিক সংস্থার অত্যন্ত জরুরী।

সেইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের আমলাতন্ত্রের আমূল পরিবর্তনের সুপারিশ করেছেন তারা। একই সঙ্গে বলেছেন, ভোটের পর পশ্চিমবঙ্গের নারকীয় ঘটনা ঘটেছে। কোন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ জিনিস কখনোই কাম্য নয়। যদি পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ অন্যান্য রাজ্যের দলগুলিও গ্রহণ করতে শুরু করে, যদি এটা সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ে তাহলে ভারতবর্ষের গণতন্ত্র অস্তমিত হবে, এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

আরও পড়ুন