#কলকাতা : চলতি মাসেই সাংগঠনিক রদবদল ( Organizational Reshuffle ) হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেসে ( TMC )। তারপর বড়োসড়ো কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে দল। তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর, ‘দিদিকে বল’-র মত কোনও নির্দিষ্ট কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। যার ব্লুপ্রিন্ট বানাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর ( Prashant Kishor )। উদ্দেশ্য, বিশাল জয়ের পর হাত গুটিয়ে বসে থাকা নয়। বরং দলের সাংগঠনিক স্তরে যেন মরচে না ধরে, সেই কারণেই বছরভর সংগঠনকে ময়দানে নামিয়ে রাখা। সেক্ষেত্রে টার্গেট অবশ্যই ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচন।
সম্প্রতি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ( Mamata Banerjee ) সঙ্গে প্রায় ঘণ্টা তিনেকের বৈঠক হয় প্রশান্ত কিশোরের। সূত্রের খবর সেই বৈঠকে আগামীর কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রশান্ত কিশোরের তরফ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কয়েক পাতার একটি নামের তালিকা দেওয়া হয়েছে। বিশেষত উত্তরবঙ্গ যেমন আলিপুরদুয়ার জলপাইগুড়ি কোচবিহার দার্জিলিং শহর ওই অঞ্চলের একাধিক ছোট এবং মাঝারি তৃণমূল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের পরামর্শ দিয়েছেন প্রশান্ত।
প্রশান্ত কিশোরের টিম তদন্ত করে দেখেছে, এরা প্রত্যেকেই কোনও না কোনও দল বিরোধী কাজ অথবা কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। যদিও বহিষ্কার করা হবে কিনা তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিচারাধীন। তৃণমূল কংগ্রেসের বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, সম্প্রতি পেট্রোল এবং ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছে তৃণমূল। কিন্তু এইটুকু আন্দোলন করেই থেমে থাকা নয়। মোদি বিরোধিতার সুর বছরভর বেঁধে রাখতে হবে। পাশাপাশি থাকতে হবে মানুষের পাশে।
সেই কারণেই বিশেষ রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা হতে পারে। তবে পুজোর আগে সে কর্মসূচিতে নামা হবে নাকি পুজোর পর তা এখনও অবশ্য স্পষ্ট নয়। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, বামপন্থী রাজনীতি বছর পর সংগঠন চাঙ্গা থাকে। কিন্তু ডানপন্থী রাজনীতিতে ভোটের পর আবার ভাটা চলে আসে। দলের সাংগঠনিক রদবদল হচ্ছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে নতুন সংগঠনকে বসে থাকতে দিলে চলবে না। বছরভর কোনও না কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে ময়দানে থাকতে হবে।
পাশাপাশি এখন লক্ষ্য লোকসভা। সেখানে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপুল জয়ের পর এখন সারাদেশ তৃণমূল নেত্রীর দিকে তাকিয়ে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র মোদি ( Narendra Modi ) এবং অমিত শা ( Amit Shah ) বিরোধী মুখ হয়ে উঠতে পারেন মমতাই। সেই কারণে এই রেশ টিকিয়ে রাখতেই রাজ্য সংগঠন কে আরো জোরদার এবং চাঙ্গা করতে হবে। পুরনো ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছিল তৃণমূল। যার ফল হাতেনাতে মিলেছে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে। আগামী দিনের সেই ভুলের জন্য পুনরাবৃত্তি না হয় সেই কারণেই এত কাঠ-খড় পোহানো হচ্ছে, মন্তব্য এক শীর্ষ নেতার।
