রানার ডেস্ক : সৌমিত্র খাঁ’র পর, শুভেন্দুর ( Suvendu Adhikari ) বিরুদ্ধে ফেসবুকে আক্রমণাত্মক রাজীব ব্যানার্জি ( Rajib Banerjee )। ডোমজুড়ে ( Domjur ) বিজেপির প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন রাজীব। হেরে গিয়েছে তিনি, তাঁর দলও সরকারে আসতে পারেনি। তারপর থেকেই রাজীব বেসুরো। ভোটে পরাজয়ের পর ফেসবুক পেজেই তিনি প্রথম আক্রমণাত্মক হয়ে ছিলেন দলের বিরুদ্ধে। দলীয় নেতৃত্ব কে নিশানা করে বলেছিলেন, রাজ্যের মানুষ দু’হাত ভরে যাকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে তাকে আক্রমণের নিশানা না করে, বিজেপি নেতৃত্বের উচিত, আত্মবিশ্লেষণ করা।
তারা সেটা না করে, ভুলভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করছেন। রাজীবের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল। রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব চেয়েছিলেন তাকে শোকজ করতে। কিন্তু বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কানে যাবার পর তারা রাজ্য নেতৃত্বকে পরামর্শ দেন আর কিছুদিন অপেক্ষা করে তারপর যা সিদ্ধান্ত নেবার নেয়ায় হোক। সেই অপেক্ষার পালা চলতে চলতেই আজ ফের তৃণমূলের হয়ে মাঠে নামলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন রাজ্যের মানুষ যার মুখ দেখে ২১৩ জন প্রতিনিধিকে বিধানসভায় ( Assembly ) পাঠিয়েছে, তাকে আক্রমণ না করে, বিরোধী দলনেতার উচিত, পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য রাজ্যের মানুষের যে সমস্যা হচ্ছে তা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া। এটা পুরোপুরি তৃণমূল নেতাদের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি রাজীবের গলায়। ভোটে তিনি হেরেছেন। বিজেপিও সরকারে আসতে পারেনি।মোহভঙ্গ হয়েছে তার।
তারপর থেকেই তিনি আবার ফিরে যাবার চেষ্টা করছেন তার পুরনো দল তৃণমূল কংগ্রেসে ( TMC )। দলেরএকটি বড় অংশ রাজীবকে তৃণমূলে ফিরিয়ে নেবার প্রশ্নে বিরোধিতায় সরব। তাদের বক্তব্য, দল ছেড়ে যাবার পর, যে ভঙ্গিমায়, যে ভাষায় তৃণমূল নেত্রী কে তিনি আক্রমণ করেছেন সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তাকে আবার তৃণমূলকে ফেরানোটা দলের জন্য ক্ষতিকারক হবে। দলের শৃঙ্খলা আনুগত্য এই প্রশ্নগুলো তখন সারবত্তা হীন হয়ে দাঁড়াবে।
দলের নেতাকর্মীদের কাছেও ভুল বার্তা যাবে। রাজিব যদিও নাছোড়বান্দা। ক্রমাগত তিনি চেষ্টা করছেন তৃণমূলে ফিরে যাবার। এনিয়ে কুণাল ঘোষের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। যে গাড়িতে এসেছিলেন সে গাড়িতে ছিল তৃণমূলের উত্তরীয়, ব্যাজ। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ( Mamata Banerjee ) অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কয়েকজন এর সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন রাজিব। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলের হয়ে ব্যাটিং করে শুভেন্দু কে আক্রমণ করলেন রাজীব। তৃণমূলকে খুশি করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্ব আবারও ক্ষুব্ধ। তারা চাইছেন রাজীবের বিষয়টি যত দ্রুত সম্ভব একটা হেস্তনেস্ত করা উচিত।
