করোনার ধাক্কা, কমে গেল ১১০০ কোটি টাকা বেতন

|

রানার ডেস্ক : করোনার গ্রাসে বিশ্বজুড়ে যে আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে, তাতে কাজ হারিয়েছেন কয়েক কোটি মানুষ। আবার অনেকের বেতন কমে গেছে। আর্থিক সংকট এড়াতে খেলোয়াড়দেরও পারিশ্রমিকে কাটছাঁট চলছে। ব্যাতিক্রম নয় বার্সেলোনাও। দুনিয়ার অন্যতম ধনী ক্লাব হওয়া সত্ত্বেও তাদের অবস্থা নাকি খারাপ। করোনায় আর্থিকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বার্সেলোনা।

ঘাটতি পোষাতে খেলোয়াড়দের বেতন ব্যাপক আকারে কমানো ছাড়া আর অন্য কোনো উপায় ছিল না তাদের হাতে। নইলে আগামী জানুয়ারিতে দেউলিয়াও হয়ে যেতে পারত ক্লাবটি! সবমিলিয়ে বিশাল অঙ্কের অর্থ বাঁচাতে হতো বার্সাকে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে দলটির সব খেলোয়াড়কে বেতনের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ ছাড় দিতে হতো। তাই আরেক দফা বেতন কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিল বার্সেলোনা।

শুরুতে আপত্তি জানালেও অবশেষে প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন লিওনেল মেসিরা। ১২ কোটি ২০ লাখ ইউরো বেতন কমাচ্ছেন তারা। ভারতীয় মুদ্রায় যা ১১০০ কোটি টাকা। বার্সার পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ক্লাব ও খেলোয়াড়রা বেতন কমানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে লিওনেল মেসিদের বেতন এক দফাতেই এত পরিমাণ কমানো হচ্ছে না।

ধাপে ধাপে বেতন কাটা হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে এই ১২২ মিলিয়ন পারিশ্রমিক কাটা হবে খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। বেতনে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে গত কিছুদিনে ফুটবলারদের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে বার্সার অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ডের কর্তাদের। সেসব আলোচনায় মেসি, আতোঁয়ান গ্রিজমান ও কোচ রোনাল্ড কোম্যানের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ পর্যন্ত এসেছে শান্তিপূর্ণ সমাধান। এ সিদ্ধান্তের ফলে সব মিলিয়ে বার্সার কোষাগারে যোগ হবে মোট ১৯০ মিলিয়ন ইউরো তথা প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা। বার্সার পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ম্যানেজিং কমিশন ফুটবলার, কোচ এবং কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছে যে, তারা পারিশ্রমিক কর্তনের বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেটা বাস্তবায়ন করেছে।

এতে করে ক্লাবের অর্থনৈতিক স্থিতাবস্থার ক্ষেত্রে একটা নিশ্চয়তা তৈরি হলো।’ একই সঙ্গে বার্সার বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি জানিয়ে দিয়েছে, ক্লাবের আগামী প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের সময়সীমা। আগামী বছর জানুয়ারির ২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে প্রেসিডেন্টসহ বার্সার কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন। হোসে মারিয়া বার্তেম্যু এবং তার নেতৃত্বাধীন পরিষদ পদত্যাগ করার পর একটা শূন্যতা চলছিল বার্সার কার্যনির্বাহী কমিটিতে।

যদিও একটি অন্তর্বর্তিকালীন কমিটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারাই নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন হওয়ার অর্থ, জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোর মাত্র এক সপ্তাহ সময় পাবেন নতুন নির্বাচিত সভাপতি।

আরও পড়ুন