রানার ডেস্ক : তৃতীয়বারের জন্য সরকার তৈরি করেই আবার বিধান পরিষদ ( Legislative Assembly ) গঠনে তৎপর হয়ে উঠেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ( Mamata Banerjee )। চলতি বিধানসভার বাজেট অধিবেশনেই ( Legislative Budget Session ) এনিয়ে আলোচনা প্রস্তাব পেশ হবে। আগামী মঙ্গলবারই সম্ভবত এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভার মোট সদস্য সংখ্যার এক তৃতীয়াংশ সদস্য থাকবে বিধান পরিষদে। ফলে প্রতাবিত পরিষদে সদস্য সংখ্যা হতে পারে মোট ৯৭ জন।
নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্র থেকে একজন করে প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে আসবেন। এদের নির্বাচন করবেন লোকসভার সমস্ত পুর এবং পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা। বাকি ৫৫ জনের মধ্যে সিংহভাগ অংশই নির্বাচিত হবেন বিধান সভার সদস্যদের দ্বারা। খুব সামান্য কয়েকজনকে মনোনীত করবেন রাজ্যপাল ( Governor )। স্বাধীনতার পর এরাজ্যেও ছিল বিধান পরিষদ ( Legislative Assembly )। ১৯৬৯ সালে অজয় মুখার্জির নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট সরকার কার্যত সর্বসম্মতিতেই ইতি টেনে দেয় বিধান পরিষদে।
সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের নেতৃত্বাধীন বিরোধীদল কংগ্রেস সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেনি। সেইসময় সরকারের যুক্তি ছিল, বিধানপরিষদের বাস্তবিক কোনও কার্যকরী ভূমিকা নেই। পরিষদ না থাকলে কোনও ক্ষতিই হবে না। তাহলে বিপুল অর্থ খরচ করে হাতি পোষার বিলাসিতার কী দরকার। ৫২ বছর পর সেই বিধানপরিসদকে আবার বাঁচিয়ে তুলতে চাইছেন মমতা ব্যানার্জি। প্রশ্ন উঠেছে কেন আবার বিধান পরিষদ তৈরি করতে চান মমতা?
তৃনমূল কংগ্রেসের যুক্তি হলো, ভোট রাজনীতির বাইরে বহু বিশিষ্ট মানুষ আছেন। যাদের মতামত এবং পরামর্শ অত্যন্ত মূল্যবান। তাদের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ যোগদান সরকার ও প্রশাসনকে সমৃদ্ধ করে। মমতার প্রস্তাবের ঘোর বিরোধী বিজেপি। বর্তমানে প্রধান এবং একমাত্র বিরোধী দল বিজেপি ( Bjp ) মমতার নয়া উদ্যোগ ভেস্তে দিতে বদ্ধ পরিকর। বিজপি’র যুক্তি, মমতা ব্যানার্জি তার কাছের আরও কিছু মানুষকে খুশি করতে এই পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন।
এর বাইরে পরিষদের কোনও ভূমিকাই নেই। সুতরাং এই প্রস্তাব রুখতে তারা কোনও চেষ্টার ত্রুটি রাখবেন না। বামেরা এখন বিধানসভায় শূন্য। ২০১১ সালে মমতা যখন প্রথম এই প্রস্তাব আনেন তখন তীব্র বিরোধিতা করেছিল বামেরা। এবার তাদের বক্তব্য, মমতা ব্যানার্জি ভালো করেই জানেন, বিজেপি বিরোধিতা করছে মানে বিধানপরিষদ গঠন সম্ভব না।
কারন বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ হলেও সেই প্রস্তাব পাশ করাতে হবে লোকসভাতেও। বিজেপি লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ। বিজেপি নেতারা তাই মমতার উদ্যোগ্যেকে কটাক্ষ করে বলছেন, মুখ্যমন্ত্রীর এই সব উদ্যোগ লোক দেখানো। তিনিও জানেন, এই প্রস্তাব কার্যকর করা কার্যত অসম্ভব। কারন এর চাবিকাঠি আছে বিজেপি’র পকেটে।
