নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : কে মন্ত্রী থাকতে চাও? কিংবা জেলা সভাপতি হয়ে কে খুশি আছেন? জেলা সভাপতি এবং মন্ত্রিত্ব, দুই দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের থেকে তাঁদের এই মতামত জানতে চাইল তৃণমূল কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। ঠিক ছিল, জুলাই মাস থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ( Mamata Banerjee ) দোলে কার্যকর হবে ‘এক ব্যক্তি এক পদ নীতি’ ( One Person One Post Policy )। যা দ্রুত কার্যকর হতে চলেছে বলে জল্পনা তৃণমূল কংগ্রেসের ( TMC ) অন্দরে। মনে করা হচ্ছে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে সাংগঠনিক রদবদল করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেক্ষেত্রে একাধিক জেলার সাংগঠনিক শীর্ষ মহলের বড়সড় রদবদল হতে পারে। তার আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ( Abhishek Banerjee ) সঙ্গে বৈঠক করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেখানেই ঠিক হয়েছে দ্রুত এই নীতি কার্যকর করা হবে। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, মলয় ঘটক, স্বপন দেবনাথদের মত নেতাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, যাঁরা ইতিমধ্যেই দ্বিমুখী দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। অন্যদিকে একাধিক মন্ত্রীকে জেলা সভাপতির পদ অফার করা হয়েছে।
এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের মতামত চেয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক নিজের আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। সূত্রের খবর, তিনি তৃণমূল নেত্রীকে বলেছেন, তাঁকে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত পেয়েছেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে কোনও সদুত্তর দেননি মুখ্যমন্ত্রী। ঠিক তেমনি নিজের দপ্তর নিয়েও নিজের অসন্তোষ সুপ্রিমোর কাছে ব্যক্ত করেছেন জ্যোতিপ্রিয়।
ঠিক তেমনভাবেই নদীয়া জেলার জেলা সভাপতির পদ থেকে সরানো হতে পারে মহুয়া মৈত্রকে। মুকুল রায় বা তাঁর কোনও ঘনিষ্ঠকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, নতুন নীতি কার্যকর করতেই হবে। দল বড় হয়েছে। ফলে সকলকে সুযোগ করে দিতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে কাউকে কোনও কিছু চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সকলের নিজস্ব মতামত চাওয়া হয়েছে।
তার উপর ভিত্তি করেই জেলা সভাপতিদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে। যেমন কোচবিহার, মুর্শিদাবাদ এবং মালদার ক্ষেত্রে জেলার দায়িত্ব সরিয়ে একাধিক নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসবে হতে পারে বলেই সূত্রের খবর। ঠিক তেমনভাবেই মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই। যাঁরা শুধুমাত্র সংগঠনেই মনোনিবেশ করবেন।
