রানার প্রতিবেদন : আজ দিল্লি যাচ্ছেন রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকর ( Jagdeep Dhankhar )। সূত্রের খবর দু’দিনের সফরে তিনি দেখা করতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ( Home Minister ) এবং প্রধানমন্ত্রীর ( Prime Minister ) সঙ্গে। আজ রাতেই তার দিল্লি পৌঁছে যাওয়ার কথা আগামীকাল এবং পরশু এই দুদিন দিল্লি থাকবেন তিনি। শুক্রবার তার ফিরে আসার কথা। এই দুদিনের মধ্যে একদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ( Amit shah ) এবং পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ( Narendra Modi ) সঙ্গেও তিনি দেখা করতে পারেন, তেমন সম্ভাবনা রয়েছে।
মনে করা হচ্ছে, রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা ( Law And Order ) পরিস্থিতি নিয়ে তিনি রিপোর্ট দিতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। এছাড়া ভোট পরবর্তী হিংসা হানাহানি বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসতে পারে। গতকাল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ( Suvendu Adhikary ) নেতৃত্বে ৫১ জন বিধায়ক তার সঙ্গে দেখা করেন রাজভবনে। ভোট পরবর্তী হিংসা হানাহানি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিতভাবে বিধায়কদের অভিযোগ তিনি শোনেন। বৈঠক শেষে, সাংবাদিকদের সামনে এসে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বারবার নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করতে থাকেন রাজ্যপাল।
রাজ্যের প্রশাসন যাতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করে বারবার সেই পরামর্শও দেন তিনি। কাল বিরোধী বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলার পর আজই বিকেলে তিনি দিল্লি যাচ্ছেন, স্বভাবতই, জল্পনা তুঙ্গে। বারবার করে বিজেপির নেতারাও ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে রাজ্যে কেন্দ্রীয় শাসন তারা চান। তারা চান বর্তমান আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে হস্তক্ষেপ করুক কেন্দ্র। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি গতকাল বিরোধীদলের পক্ষ থেকে রাজ্যপালের কাছে অভিযোগ জানানো হয়, গত ১০ বছর ধরে এ রাজ্যের দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করা হচ্ছে না।
তাদের দাবি ছিল ,যাতে এই আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয় সেটা যেন রাজ্যপাল নিশ্চিত করেন। তাদের। লক্ষ্য মুকুল রায়। বিজেপি ছেড়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের ( TMC ) ফিরে গেছেন। মুকুল রায় ( Mukul Roy ) বিজেপি টিকিটে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত বিধায়ক। তিনি বিধায়ক পদে ইস্তফা না দিয়েই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করায়, বিজেপি ( BJP ) দাবি তুলেছে তার বিধায়ক পদ খারিজ করতে হবে। এই দাবি নিয়ে তারা রাজ্যপালের কাছে সরব হয়েছে।
বিজেপির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার এর মধ্যে মুকুল রায় পদত্যাগ না করেন, তাহলে বুধবার তারা লিখিতভাবে তার বিধায়ক পদ খারিজের জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন জানাবেন। তারপর ১৫ দিন তারা অপেক্ষা করবেন, সেই সময়ের মধ্যে স্পিকার যদি কোন ব্যবস্থা না নেয় সেক্ষেত্রে তারা আইনের দ্বারস্থ হবেন জানিয়েছে বিজেপি।
