নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : বিজেপি ভাঙ্গানোর খেলা শুরু করলেন মুকুল রায়। বাংলার রাজনীতিতে দল ভাঙানোর খেলায় তিনি যে অত্যন্ত দক্ষ তা অনস্বীকার্য। তৃণমূলের হয়ে কংগ্রেসকে কার্যত গিলেই ফেলে ছিলেন মুকুল। বিজেপিতে গিয়ে তৃণমূলকে ভাঙতে একসময় চেষ্টার ত্রুটি রাখেন নি। এখন তৃণমূলে ফিরেই আবার নিজের কাজে নেমে পড়েছেন তিনি।
এবার তার নিশানায় বিজেপি। শনিবার অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রীটের অফিসে দীর্ঘক্ষন বৈঠক করেন মুকুল। সূত্রের খবর, বিজেপি মুকুল ঘনিষ্ঠ কিংবা অন্য কারা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করতে পারে, সেই নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। আপাতত তিনজন হেভিওয়েট বিজেপি সাংসদের নাম শোনা যাচ্ছে। ব্যারাকপুরের সংসদ অর্জুন সিং, বাঁকুড়ার সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এবং কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামানিক।
এই তিনজন আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দিতে পারে বলে সূত্রের খবর। ইতিমধ্যেই মুকুল রায়কে তাঁরা সম্মতি জানিয়েছেন বলে মুকুল ঘনিষ্ঠ সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও বড় অংশের বিজেপি বিধায়কের সঙ্গে প্রাথমিক কথা বলেছেন মুকুল রায়। শুক্রবার রাতেই অনে একাধিক বিধায়ককে প্রস্তাব দিয়েছেন মুকুল।
রাতেই উত্তরবঙ্গের এক সাংসদের (নিশীথ প্রামাণিক) কাছে ফোন যায়। বিধায়কদেরকেও মুকুল ফোন করেছিলেন। সেই বিধায়করা হলেন শিখা চট্টোপাধ্যায়, মিহির গোস্বামী, সুদীপ মুখোপাধ্যায়, নরহরি মাহাতো, বিশ্বনাথ কারক, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ দাস, সত্যেন রায়। মুকুল রায় রাতেই ফোন করেন বলে বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে।
যদিও এর মধ্যে কয়েকজন বিধায়ক সঙ্গে সঙ্গে দলকে ফোন করে জানিয়ে দেয় মুকুল রায় দল ভাঙ্গানোর চেষ্টা করছেন। চার পাঁচ-জন। বিধায়ক (শিখা, সুদীপ, নরহরি, বিশ্বনাথ) বিজেপি নেতৃত্বকে জানিয়ে দেন মুকুল রায় ফোন করে মোটা অর্থের প্রলোভন দিয়েছেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনো পর্যন্ত বিজেপি নেতৃত্ব সেভাবে মুখ খোলেনি।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসতে তোড়জোড় শুরু করেছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। হাওড়া ডোমজুড় এর এই প্রাক্তন বিধায়ক শনিবার তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের সঙ্গে দেখা করেন। তাহলে কি তৃণমূলের ফিরতে চলেছেন রাজিব? প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য পুরো বিষয়টিকে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
যদিও বিষয়টি নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমরা প্রমান করে দিয়েছি রাজিব একটা শূন্য। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন বিশ্বাসঘাতকদের দলে ফেরানো হবে না। কিন্তু বিশ্বাসঘাতকের মাপকাঠি কোনটা সেটা বলতে পারবো না। আমি দলের একজন কর্মী। আমার আপত্তি দলকে জানাবো।
তারপর পুরো বিষয়টি মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিবেচনাধীন। একই বক্তব্য শোনা গিয়েছে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর গলাতেও। মুকুল ঘনিষ্ঠ সব্যসাচী দত্ত বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরতে পারেন। এই জল্পনা মাথাচাড়া দিতে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সুজিত।
বলেছেন, অশুভ লোকের হাত থেকে সাধারণ মানুষ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে। আপত্তির কথা দলকে জানাব। দিদি তো কালকে বলেই দিয়েছে যারা দলের ক্ষতি করেছে তাঁদের নেওয়া হবে না। আমার দলের উপর ভরসা আছে, বিশ্বাস আছে।
