মুকুল ঘরের ছেলে, ঘরে ফিরে এসেছে, মন্তব্য মমতার

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : দীর্ঘ ৩ বছর ৯ মাসের ব্যবধান। তৃণমূল কংগ্রেস ( TMC ) ছেড়ে বিজেপিতে গিয়ে ফের ঘাসফুলে ফিরলেন নেতা কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক মুকুল রায় ( Mukul Roy )। শুক্রবার তৃণমূল ভবনে যে যোগদান পর্বকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ( Mamata Banerjee ) আখ্যা দিয়েছেন, ‘ঘরের ছেলে ঘরে ফেরা’। মুকুলের সঙ্গে তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু রায়ও তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দিয়েছেন।

আগামী দিনে আরও বেশ কয়েকজন বিজেপির বিধায়ক এবং সাংসদ তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দেবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুকুল রায়। পাশাপাশি, মুকুলকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, মুকুল ঘরের ছেলে। ও ফিরে এসেছে। মানসিক ভাবেও এখন ভালো থাকবেন। বিজেপিতে কেউ ভালো থাকতে পারে না।

ওখানে কোনও গণতন্ত্র নেই। শুধু শোষণ চলে। পাশাপাশি মুকুলের সঙ্গে কোনওদিন মত বিরোধ ছিল না বলেই জানিয়েছেন মমতা। মুকুলকে ভয় দেখিয়ে মানসিক অত্যাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী। নেত্রীর বক্তব্যে সায় দিয়ে মুকুল রায় শুধু বলেছেন, পুরনো জায়গায় এসেছি। পুরনো মানুষজনকে কাছে পেয়ে ভাল লাগছে। এখন দেশের ভবিষ্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

যদিও তৃণমূল ভবন সূত্রে খবর, এদিন তৃণমূল ভবনে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হওয়ার পর হাত জোড় করে পায়ে হাত দিয়ে তৃণমূল নেত্রীকে প্রণাম করেছেন মুকুল। বলেছেন, বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছে। বড় ভুল করে ফেলেছি। ক্ষমা করে দাও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘদিনের সঙ্গী ছিলেন মুকুল। একটা সময় কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড বলে পরিচিত ছিলেন তিনি।

সংগঠনে তিনি ছিলেন শেষ কথা। মুকুল তাঁর এতটাই আস্থাভাজন ছিলেন যে তাঁর সিদ্ধান্তে শুধু সীলমোহর দিতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এহেন ‘মধুর’ সম্পর্ক ধাক্কা খেল ২০১৭ সালে। সারোদা এবং নারদা ( Narada ) কাণ্ডে নাম জড়িয়ে সিবিআই ( CBI ) নোটিশ পেলেন মুকুল। ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছিলেন, তিনি কখনওই জেলে যাবেন না। সেই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বেড়ে ওঠা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ( Abhishek Banerjee ) কর্তৃত্ব নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে মতবিরোধ তৈরি হচ্ছিল মুকুলের।

শেষমেষ, ২০১৭ সালের দুর্গাপুজোর পঞ্চমী দিন নিজাম প্লেসে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল ছাড়ার ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তার কয়েক সপ্তাহ পর বিজেপিতে যোগ দেন মুকুল। দীর্ঘ কয়েক বছর কার্যত কোনও ভালো পদ ছাড়াই বিজেপিতে ছিলেন তিনি। ২০২১ সালে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুকুল রায়কে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি পদে ছিল বিজেপি। সেই সঙ্গে কৃষ্ণনগর ( Krishnanagar ) উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে জয় পান তিনি।

মুকুলের তৃণমূল কংগ্রেসের যোগদানের খবর চাউর হতে সকাল থেকেই বহু বিজেপি ( BJP ) নেতার ফোন এসেছে বলে সূত্রের খবর। কিন্তু সেই ফোন তিনি ধরেননি। যদিও এই বিষয়টি গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ( Dilip Ghosh )। তিনি কটাক্ষ করে বলেছেন, কেউ যেতে চাইলে যাবে। তবে উনার থাকাতে বিজেপির কোনও লাভ হয়নি। না থাকাতেও কোনও ক্ষতি হবে না। স্বাভাবিকভাবেই এই যোগদান ঘিরে আলোরন পড়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

এদিন মুকুল বলেন, আরও অনেকেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসবে। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মুকুল ভোটের সময় তৃণমূল সম্পর্কে কোনও খারাপ কথা উল্লেখ করেনি। কিন্তু যাঁরা বিজেপিতে গিয়ে নিম্নরুচির পরিচয় দিয়েছেন, সেই গদ্দারদের কখনওই দলে ফেরানো হবে না। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূল কংগ্রেসের কোর গ্রুপ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন