মুকুলের চেয়ারে অভিষেক, পদ পেলেন কুনাল, ব্যাপক রদবদল তৃনমূলে

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : সর্বভারতীয় রাজনীতিতে ‘অভিষেক’ ঘটল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ( Abhishek Banerjee )। শনিবার তৃণমূল ভবনে দলের সাংগঠনিক বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই সবথেকে বড় চমক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জাতীয় রাজনীতিতে উত্থান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ( Mamata Banerjee ) পাশাপাশি এবার সারাদেশে তৃণমূলের অন্যতম মুখ অভিষেকও।

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন এই দায়িত্ব সামলেছেন অধুনা বিজেপি নেতা মুকুল রায়( Mukul Roy )। মুকুল দল ছাড়ার পর সুব্রত বক্সীকে দেয়া হয়েছিল সেই দায়িত্ব। তিনি আবার তৃণমূলের রাজ্য সভাপতিও। ডবল দায়িত্ব সামলাতেন বক্সী। সেখানে সর্বভারতীয় স্তরে সংগঠনের দায়িত্ব অভিষেককে দিলেন মমতা।

সাম্প্রতিক অতীতে তামিলনাড়ুতে স্ট্যালিনের মন্ত্রিসভার শপথে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। সঙ্গে গিয়েছিলেন তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর ( Prashant Kishor )। তখনই ইঙ্গিত মিলেছিল। এবার সেটা বাস্তবায়িত হল। তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, মুখ মমতা। কিন্তু তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাতে হয়।

সেখানে জাতীয় রাজনীতিতে মমতার হয়ে লিয়াজোঁর দায়িত্ব সামলাবেন অভিষেক। এই কাজটাই দক্ষতার সঙ্গে করতেন মুকুল রায়। যেখানে মমতা যেতে পারতেন না সেখানে তাঁর দূত হয়ে পৌঁছে যেতেন মুকুল। এবার সেই দায়িত্ব পড়ল অভিষেকের কাঁধে। পাশাপাশি এদিন সংগঠনের একাধিক পদে রদবদল করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের জায়গায় তৃণমূল যুব সভাপতি হলেন সায়নী ঘোষ ( Saayoni Ghosh )।

তিনি আসানসোল দক্ষিণের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী। রাজ্য শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রমিক সংগঠনের সর্বভারতীয় সভানেত্রী দোলা সেন। প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধায়ক পূর্ণেন্দু বসু পেয়েছেন কিষান মোর্চার দায়িত্ব। কাকলি ঘোষ দস্তিদার সর্বভারতীয় মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী হয়েছেন। বঙ্গ জননীর প্রধান হলেন মালা রায়। তাঁকে সহযোগিতা করবেন লাভলী মিত্র ( Lovely Maitra ) এবং জুন মালিয়া।

তৃণমূলের সাংস্কৃতিক সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ চক্রবর্তীকে। সাধারণ সম্পাদক হলেন কুণাল ঘোষ ( Kunal Ghosh ) এবং অন্যান্য সম্পাদক পদে নিয়ে আসা হল আশীষ চক্রবর্ত্তী, সায়ন্তিকা ব্যানার্জি ও অসীম মাঝিকে। বৈঠক শেষে তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে এই রদবদলের কথা ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র ওয়াকিং কমিটির সদস্য না হলেও বৈঠকে ডাক পেয়েছিলেন। ফেসবুক লাইভ নিয়ে মদনকে তীব্র ভৎসনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন : Madan Mitra Facebook Live : বিরক্ত মমতা, “কি হচ্ছে এসব?”

স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন তখন যা খুশি বলা যাবে না। শুরু হয়েছে দুয়ারে ত্রাণ ( Duare Tran ) কর্মসূচি। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, এই সরকারি কর্মসূচিতে দলের কেউ নাক গলাবে না।

গতবছর আম্ফান দুর্নীতিতে মুখ পুড়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সাবধানী পদক্ষেপ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এছাড়া কয়লা, বালি, মাটি পাচার নিয়ে দলের কোনও নেতার বিরুদ্ধে যেন অভিযোগ না ওঠে সেই ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

আরও পড়ুন