আলাপনকে ছাড়বো না, মমতার ৫ পাতার কড়া চিঠি কেন্দ্রকে

|

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লি যাওয়ার ছাড়পত্র দিলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সপ্তাহের প্রথম দিন আজ সোমবার অফিস আওয়ার শুরু হবার আগেই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন তাঁর সরকার আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছাড়বেন না। সকাল দশটার আগে পাঁচ পাতার সেই চিঠি মেইল করা হয়েছে।

আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে না ছাড়ার নেপথ্যের কি কি কারণ রয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে পাঁচ পাতার চিঠি  মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে লিখেছেন। সেই চিঠিতে তিনি যেমন বলেছেন যে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোট ভাই অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় মারা গেছেন তার পরিবার এখন শোকস্তব্ধ। একইভাবে রাজ্যের বর্তমান মহামারী পরিস্থিতি এবং যশ পরবর্তী পুনর্বাসন প্রকল্পগুলি সঠিকভাবে কার্যকরী করতে হলে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত যোগ্য অফিসারকে প্রয়োজন বলে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর আজকের চিঠির পর আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলীর বিষয় চাপা পড়ে গেল বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। তিন দিন ধরে চলা নাটকের যবনিকাপাত আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি চিঠিতেই হয়ে গেল বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। ওই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেছেন রাজ্যের কোন অফিসারকে ডেপুটেশনে নিতে হলে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নেওয়া উচিত।

তাছাড়া আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ম অনুসারে ৩১ মে সোমবার অবসর নেওয়ার কথা। কিন্তু রাজ্য সরকারের অনুরোধে কেন্দ্র সরকার তার তিন মাস সময় বাড়িয়েছে। এর মূল কারণ হল রাজ্য সরকারের কাজকর্মের সুবিধার জন্য এই কাজ করা হয়েছে। ওই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেছেন যেভাবে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠিয়ে দিল্লিতে বদলির কথা বলা হয়েছে তাতে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে আঘাত করা হয়েছে।

পাশাপাশি, কেন্দ্রের ওই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের জন্য লিখিত আবেদন জানিয়েছেন মমতা। দাবি, অনুরোধ, সমালোচনার মিশেলে নরমে-গরমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের  তরফে ৫ পাতার চিঠি পৌঁছল প্রধানমন্ত্রী মোদির  কাছে। ৩১ মে অর্থাৎ সোমবার সকালেই রাজ্যের মুখ্যসচিবের দিল্লিতে গিয়ে নর্থ ব্লকে কর্মীবর্গ বিভাগের কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।

গত শুক্রবার আচমকা কেন্দ্রের তরফে চিঠি পাঠিয়ে এ কথা জানানো হয়। তারপর থেকেই তাঁর এই বদলি নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়। রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করে, মতামত না নিয়ে একতরফাভাবে কেন্দ্রের এই চিঠি ‘রাজনৈতিক অভিসন্ধিমূলক’ বলে অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন মহলে। জল্পনা চলছিলই, মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখনই ছাড়বে না রাজ্য।

করোনা, যশ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি এত গুরুত্বপূর্ণ বলে তাঁর কার্যকালের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে কেন্দ্রের অনুমতি সাপেক্ষে। তা সত্ত্বেও সংশয় ছিল। সূত্রের খবর আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্য সচিব পদে না রেখে অন্য কোনও কমিটির মাথায় বসিয়ে সামগ্রিকভাবে রাজ্যের প্রশাসনিক নানা কাজকর্ম পরিচালনার ভার দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন