রানার ডেস্ক : যখন কংগ্রেসে ছিলেন দুজনই তখন নিজেদের মধ্যে দূরত্ব রেখেই চলতেন। একই দল করলেও মমতা-অধীরের মধ্যে সম্পর্কে তিক্ততা ছিলই। মমতা কংগ্রেস ভেঙে তৃনমূল তৈরি করার পর সেই তিক্ততা আরও বাড়তে শুরু করে। বাম আমলে ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক চাপ ছিল। তবুও মুর্শিদাবাদে বাম বিরোধীদের কংগ্রেসের ছাতার তলায় রাখতে পেরেছিলেন অধীর, এবং সাফল্যের সঙ্গেই।
তৃনমূল জন্ম নিতেই সেই ছাতার তলা থেকে লোক টানার চেস্টা শুরু হলো বাড়ল দ্বন্দ্ব। যদিও সেই প্রচেষ্টা খুব একটা সফল হয়নি তৃণমূলের। বর্তমান শাসক দল কংগ্রেসকে ভেঙে ফেলতে শুরু করে ক্ষমতায় আসার পর থেকে। তিক্ততা বাড়তে বাড়তে চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। অধীরের এখন একদফা কর্মসূচি, তৃনমূল হটাও। সেই তৃনমূল নেত্রী আজ সকলকে অবাক করে দিয়ে ব্যাট ধরলেন অধীরের হয়ে।
নাম না করে তিনি বলেন,” বিরোধী দলের নেতার প্রতি যদি এতই সম্মান তাহলে গত দু’বছর ধরে লোকসভায় বিরোধী দল নেতাকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন না কেন? গত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ১০ শতাংশ আসন জিততে পারেনি। দেশ জুড়ে ৫৪৩ টি আসনে ভোট হলেও কংগ্রেস জিতেছে মাত্র ৫২ টি আসন। লোকসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে হলে দরকার ৫৫ টি আসন।
ফলে লোকসভায় এখন সরকারিভাবে কোনও বিরোধী দল নেতা নেই। আইন অনুযায়ী সাংবিধানিক পদে নিয়োগের জন্য যে প্যানেল আছে, তার অন্যতম সদস্য হলেন বিরোধী দলনেতা। বাকি সদস্যরা হলেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার স্পিকার, সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি। বিরোধী দল নেতা না থাকায় ওই প্যানেলের বৈঠকে অধীর চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানানো হয় বিরোধী আসনের সর্ববৃহৎ দলের নেতা হিসেবে।
২০১৪ সালে লোকসভা ভোটের পরেও একই অবস্থা হয়েছিল কংগ্রেসের। সেবার লোকসভায় কংগ্রেস দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন মল্লিকার্জুন খার্গে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে খার্গেকে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেবার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তৎকালীন স্পিকার সুমিত্রা মহাজন নিয়ম দেখিয়ে সেই আবেদন খারিজ করে দেন। এবার খার্গে ভোটে হেরে গেছেন।
নতুন দল নেতা হয়েছেন অধীর চৌধুরী। প্রয়োজনীয় সংখ্যা থেকে মাত্র তিনটে আসন কম থাকা সত্বেও অধীরকে বিরোধী দল নেতার মর্যাদা দেওয়া হয়নি। আজ সেই প্রসঙ্গ তুলেই প্রধানমন্ত্রীকে পাল্টা আক্রমণ করলেন মমতা। বোঝাতে চাইলেন, বিরোধীদলের নেতার প্রতি এই সম্মানের প্রসঙ্গ বিজেপির মুখে শোভা পায় না। সম্মান দেওয়ার থাকলে এতদিন অধীর চৌধুরীকে বিরোধী দল নেতার মর্যাদা দিতেন।
