রানার ডেস্ক : শুভেন্দু এসে হাজির হতে পারে, এই সম্ভাবনা তৈরি হতেই মোদি-মমতা বৈঠক ভেস্তে গেল। শুক্রবার কলাইকুন্ডায় প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক হবার কথা ছিল। রাতের দিকে খবর আসে ওই বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী থাকতে পারেন। তিনি ঘূর্ণিঝড় বিধস্ত এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং দলের গুরুত্বপূর্ন নেতা, কারন শুভেন্দুই এখন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা।
মুখ্যমন্ত্রীর কানে বিষয়টি পৌঁছতেই দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করে নবান্ন। সূত্রের খবর, শুভেন্দু কলাইকুন্ডায় থাকবে না, এমন নিশ্চয়তা আসেনি দিল্লি থেকে। বরং জানা যায়, শুভেন্দু থাকছেন। আজ সকালেই ঝড় বিধস্ত সাগর দ্বীপে রওনা হয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার দেখা করা হলো না।
সরকারের পক্ষ থেকে পরে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠাবেন দিল্লিতে।যদিও পরে সিধান্ত পাল্টে হেলিকপ্টারে কলাইকুন্ডায় পৌঁছন মমতা। সেখানে গেলেও তিনি বৈঠকে যোগ দেননি। শুধু প্রধানমন্ত্রীর হাতে রিপোর্ট তুলে দিয়েছেন। কারন বৈঠকে তখন হাজির শুভেন্দু অধিকারী। ইয়াস ঝরে তছনছ হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর।
সেই জেলার ডাকসাইটে নেতা শুভেন্দু, যিনি নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে বিষ্ময় সৃষ্টি করেছেন। বিধানসভার ভোট প্রচারে তৃনমূল নেত্রী নিয়ম করে প্রতিটা সভায় শুভেন্দুকে সবচেয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। কখনো গদ্দার , কখনো মীরজাফর। শুভেন্দুও কম যান না। নিয়ম করে মমতাকে বেগম বেগম বলে খোঁচা দিয়েছেন, আর নন্দীগ্রামের হিন্দু ভোটে কব্জা করার চেষ্টা করেছেন।
নন্দীগ্রামে মমতা-শুভেন্দু দ্বৈরথ এমন তিক্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে কলাইকুন্ডায় পাশাপাশি বসে বৈঠক, নিঃসন্দেহে অস্বস্তিকর। আকাশপথে মেদিনীপুরের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে দুটো নাগাদ কলাইকুন্ডায় এসে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। তাকে সেখানে স্বাগত জানান রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রী। তারপর মুখ্যমন্ত্রী ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির একটি প্রাথমিক রিপোর্ট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে।
তারপর বৈঠকে যোগ না দিয়ে তিনি সরাসরি উড়ে যান দিঘা। সেখানে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন তিনি। এদিকে কলাইকুন্ডা বিমানঘাঁটিতেই সংশ্লিষ্ট সরকারি আমলাদের কাছ থেকে বিস্তারিত খোঁজ খবর নেন এবং তাদের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
এই বৈঠকে হাজির ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এখানে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করে দিল্লির উদ্যেশে রওনা হয়ে যান তিনি। মেদিনীপুরে আসার আগে ওড়িশার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। তারপর মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক সহ সরকারি আমলাদের সঙ্গে বৈঠক করে উড়ে আসেন মেদিনীপুর।
