রানার ডেস্ক : নিরাপত্তা নিয়ে দলের অন্দরে অসন্তোষ দূর করতে উদ্যোগী হলো বিজেপি নেতৃত্ব। ভোটের আগে মুড়ি-মুরকির মতো কেন্দ্রীয় বাহিনী বিতরণের ঘটনায় দলের ভেতরে ক্ষোভ মাথাচাড়া দিচ্ছিল ব্যাপকভাবে। যাদের দীর্ঘ ত্যাগ ও পরিশ্রমের বিনিময়ে শাসক দলের চোখে চোখ রেখে লড়াই করার জায়গায় পৌঁছেছে বিজেপি, তারাই একটা সময় হীনমন্যতায় ভুগতে শুরু করেছিল।
কারন যে সমস্ত তৃনমূল নেতার ভয়ঙ্কর প্রতিরোধের মুখে মাটি কামড়ে লড়াই করে দলকে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হয়েছে, বিপক্ষ দলের সেই নেতাই ভোটের আগে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বেষ্টনী সহযোগে জকিয়ে এসে বসে গেছেন গেরুয়া কার্যালয়ে। তাঁর আশে পাশে ভিড়তে গেলে কেন্দ্রীয় জওয়ানের ধাক্কা-কনুইয়ের গুঁতো সবই হজম করতে হয়েছে।
শুধু বিপক্ষ শিবিরের নেতাই নন, তারসঙ্গে যে চ্যালা চামুন্ডারা এসে ভিড়ে ছিল, দু’দিন পর দেখা গেল তারাও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নিয়ে এমনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যেন বিজেপিটা গড়ে তুলেছে তারাই। ভোটের আগে যারাই অন্যদল থেকে এসেছেন তারাই কলার তুলে নিরাপত্তা বলয় নিয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। পুরনো কর্মীরা বলতে শুরু করলেন, এখন আদি কর্মীরাই তো দলের মধ্যে কোণঠাসা।
যারা এতদিন বিজেপি কর্মীদের মারধর করতো তারাই এখন দলটাকে কার্যত হাইজ্যাক করে নিয়েছে। ভোটে পরাজয়ের পর সেই দুঃখ ফেটে পড়ে ক্ষোভে আর ক্রোধে। পুরনো কর্মীরা বলতে শুরু করেন, দল যদি লড়াকু পুরনো মুখ গুলোর ওপর ভরসা রাখতো তাহলে এই বিপর্যয় হতো না। সৈন্য সামন্ত নিয়ে দলবদলু নেতাদের ঘুরে বেড়ানো, প্রচার চালানো, এসব সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেয়নি।
এই ক্ষোভ এবং বাস্তবতা মেনে নিয়েই নিরাপত্তা প্রত্যাহারের সিধান্ত নিয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ঠিক হয়েছে, ভোটের আগে অন্য দল থেকে এসেই যারা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পেয়েছিলেন, তাদের নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হবে। নিরাপত্তা দেবার প্রশ্নে পুরনো নিয়ম মেনেই চলা হবে এখন থেকে। অর্থাৎ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে জমা পড়া গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে, নির্দিষ্ট কমিটি সুপারিশ করে, কার নিরাপত্তা প্রয়োজন।
যার ওপর হামলার আশঙ্কা আছে একমাত্র তাকেই নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এতদিন এভাবেই চলে আসছিল। সেই নিয়ম ভেঙে চুরমার হয়ে যায় বিধানসভা ভোটের আবহে। একই সঙ্গে ঠিক হয়েছে দলের প্রথম সারির যে নেতারা আগে থেকেই কেন্দ্রীয় জওয়ান পান, তাদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার একই থাকবে। একইসঙ্গে সিধান্ত হয়েছে, দলের সমস্ত বিধায়ক কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার অধিকারী।
কোনও বিধায়ক নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করলে তার আবেদন অবশ্যই মঞ্জুর করা হবে। ভোটের আগে পাইকারি হারে যাদের নিরাপত্তা দেয়া হয়েছিল, তাদের নিরাপত্তার রক্ষী প্রত্যাহার করা হবে ৩১ মে তারিখ থেকেই। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, দিল্লি এমাসের প্রথম সপ্তাহেই নিরাপত্তা তুলে নিতে চেয়েছিল।
রাজ্য থেকে আমরা অনুরোধ করেছিলাম, এই মাসটা অন্তত থাক। কারন বাংলা জুড়ে বল্গাহীন সন্ত্রাসের প্রেক্ষিতে এই অনুরোধ করা হয়েছিল। দিল্লি সেটা মেনে নিয়েছে। ফলে এদের নিরাপত্তা বলয় থাকবে মে মাস পর্যন্ত।
