পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি ? ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এলো নয়া গবেষণা পত্রে

|

রানার ডেস্ক : সম্প্ৰতি এক গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী জানা গেছে, পৰ্নোগ্রাফির প্রতি আসক্তির কারণে পুরুষদের জননতন্ত্ৰের কাৰ্যক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে।আসছে না কোনও যৌন উত্তেজনা।পুরুষাঙ্গ পাচ্ছে না দৃঢ়তা। কেউ কেউ হয়ে পড়ছেন নপুংসক। আর এই গবেষণার ফল বিস্তারিতভাবে পাওয়া গেছে আমেরিকান ইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের এক গবেষণায়।

আমেরিকান ইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সভায় এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। গবেষকরা গবেষণাটি করেছেন তাঁদের নিয়ে যাঁরা সান দিয়েগো ইউরোলজি ক্লিনিকে জননতন্ত্ৰের চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। আর এই চিকিৎসা নিয়েছেন ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সি তিন শতাধিক পুরুষ। গবেষকরা বলেন, এঁদের অধিকাংশই পৰ্নোগ্রাফির প্রতি আসক্ত।

আসলে পুরুষরা পৰ্নো দেখে যতটা যৌন উত্তেজনা উপভোগ করেন, শারীরিক সংসৰ্গের সময় ততটা তাঁরা উপভোগ করতে পারেন না। নিউ ইয়ৰ্ক ইউনিভাৰ্সিটির পুরুষ জনন স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ও ইউরোলজির অধ্যাপক জোসেফ অ্যালুকাল। তিনি বলেছেন, স্ক্ৰিনে দেখা উদ্দীপক দৃশ্য কখনও কখনও নারী ও পুরুষের যৌন উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয় ঠিকই, তবে তা সাময়িক।

কিন্তু কেউ কেউ পৰ্নোগ্রাফিতে মাত্ৰাতিরিক্ত সময় ব্যয় করেন। নিয়মিত পৰ্নোগ্রাফি দেখে হস্তমৈথুন করেন। তাহলে বাস্তব জীবনে তিনি শারীরিক সংসৰ্গের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। একই অভিমত সান দিয়েগোর নাভাল মেডিক্যাল সেন্টারের ইউরোলজি গবেষক ম্যাথিউ ক্রিস্তমানের।তিনি বলেছেন, পৰ্নো ছবির প্রতি আসক্তি আসলে যৌনবিকার।

ফলে পুরুষদের জননতন্ত্ৰের কাৰ্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। একজন পুরুষ শারীরিক সংসৰ্গের সময় যতটা উত্তেজিত থাকেন, পৰ্নো দেখার সময় তার চেয়ে বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। আর ঠিক এই কারণেই তা সহ্যক্ষমতার বাইরে চলে যায়। ফলে জননতন্ত্ৰের কাৰ্যকারিতা নষ্ট হয়।মহিলার সঙ্গে যৌনসঙ্গম করবার ক্ষমতা তাঁরা হারিয়ে ফেলেন।

অনেকেই বিকৃত যৌনতার জন্য মহিলাদের বাধ্য করেন।শেষ পর্যন্ত এইসব পুরুষদের অনেকেই নপুংসক হয়ে যান। গবেষকরা ২০-৪০ বছর বয়সি নারী যাঁরা পৰ্নো ছবির প্রতি আসক্ত, তাঁদের ওপরও সমীক্ষা চালান। আশ্চর্যের বিষয়, তাঁদের ক্ষেত্রে জননতন্ত্ৰের কাৰ্যক্ষমতা কম হওয়ার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জোসেফ অ্যালুকান বলেছেন, যৌন উত্তেজনা সংক্রান্ত সমস্যা নারীদের ক্ষেত্ৰে খুব কমই ঘটে থাকে।

তিনি আরও বলেন, মনে রাখতে হবে, যৌনতা শুধু শারীরিক ব্যাপার নয়। এটা মানসিক ব্যাপারও বটে। পৰ্নোগ্রাফির ক্ষেত্রে পুরুষদের মানসিক বিকৃতি অনেক বেশি। সমীক্ষায় দেখা গেছে, তিন শতাধিক পুরুষের মধ্যে ৩.৮ শতাংশ পৰ্নো দেখে নিয়মিত হস্তমৈথুন করেন। তারপর কোনও মহিলা সঙ্গে শারীরিক সংসৰ্গ করেন।

ফলে ঠিকঠাক তৃপ্তি দুজনের কেউই পান না। তাছাড়া চারজনের মধ্যে একজন বলেন, তাঁরা সপ্তাহে অন্তত একবার পৰ্নো দেখেন। আর ২১.৩ শতাংশ বলেন, তাঁরা সপ্তাহে ৩-৬ বার দেখেন। সপ্তাহে ৬-১০ বার দেখেন পাঁচ শতাংশ এবং ৮.৩ শতাংশ সপ্তাহে ১১ বারের বেশি পৰ্নো দেখে থাকেন। এঁদের অধিকাংশই মহিলাদের সঙ্গে যৌনসঙ্গমে চূড়ান্ত অক্ষম।

আরও পড়ুন