United Nations – Runner Bangla https://runnerbangla.com Bengali News, Latest Bengali News, Bengali Khabor, Bangla Newspaper, Bengali News Headlines, Bengali Top News, Breaking News, Bengal News Mon, 26 Jul 2021 09:29:41 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.1.2 https://runnerbangla.com/wp-content/uploads/2021/03/cropped-Runner-Bangla-Favicon-Large-32x32.png United Nations – Runner Bangla https://runnerbangla.com 32 32 ইমরানের ফোনেও আড়ি? ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার হুমকি পাকিস্তানের https://runnerbangla.com/imran-khan-phone-pegasus-pakistan-threatens-india/ Mon, 26 Jul 2021 04:48:56 +0000 https://runnerbangla.com/?p=4475 রানার প্রতিবেদন : পেগাসাস ( Pegasus ) কাণ্ডে ক্রমশ সুর চড়াচ্ছে ইসলামাবাদ ( Islamabad )। তাদের অভিযোগ স্পাইওয়্যার ( Spyware ) ব্যবহার করে তাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ( Imran Khan ) ফোনেও আড়ি পেতেছে মোদি সরকার। এমনকি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অফিসার এবং অন্যান্য আমলাদের ফোনেও আড়িপাতা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পরামর্শদাতা শাহজাদ আকবর।

সেই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফাহাদ চৌধুরী। তাদের অভিযোগ, পাকিস্তানের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত সরকার ( Indian Govt )। বেশকিছু এনজিওর মাধ্যমে সেই কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। তারা বলেন, এবার সামনে এলো ফোনে আড়ি পাতার মতো ভয়ঙ্কর ঘটনা।

পাক মন্ত্রীর দাবি,পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির মাধ্যমে গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তারপর সেই তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে তারা দ্বারস্থ হবেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে। ভারত সরকারের পাকিস্তানবিরোধী এই আচরণ তুলে ধরা হবে রাষ্ট্রসঙ্ঘে ( United Nations ) এমনকি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মঞ্চেও। নয়া দিল্লির উদ্দেশ্যে তারা হুমকি দিয়ে বলেন, এর একটা হেস্তনেস্ত তারা করেই ছাড়বেন।

ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী ভারত সরকার বেশকিছু আমলা, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এবং মানবাধিকার কর্মীর ফোনে আড়ি পেতেছে। শুধু তাই নয় সেই তালিকায় ইমরান খানের নামও যুক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ইমরান খানের একটি ফোনে স্পাইওয়ারের মাধ্যমে আড়ি পাতার চেষ্টা হয়েছে।

কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়েছে কিনা ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টে তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। সেই রিপোর্ট নিয়েই এখন জলঘোলা করতে চাইছে ইসলামাবাদ। সাংবাদিক সম্মেলন থেকে বলা হয়, খুব দ্রুত এর যথাযথ তদন্ত শুরু হবে এবং সেই রিপোর্ট নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে সরব হবে ইসলামাবাদ।

]]>
“স্বাধীন রাষ্ট্র হতে পারে কাশ্মীর”, গণভোটের পক্ষে ইমরান, বিতর্ক পাকিস্তানে https://runnerbangla.com/pak-pm-imran-khan-people-want-kashmir-independent-state-referendum/ Sat, 24 Jul 2021 15:59:28 +0000 https://runnerbangla.com/?p=4434 রানার প্রতিবেদন : কাশ্মীরের ( Kashmir ) মানুষ যদি মনে করে তারা পাকিস্তানের ( Pakistan ) সঙ্গে থাকবেন না, তারা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে থাকবেন, সে ক্ষেত্রে কোনও আপত্তি নেই ইসলামাবাদের। প্রকাশ্য জনসভায় এই মন্তব্য করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ( Imran khan )। পাক নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মীরে প্রকাশ্য সভায় তিনি বলেন, ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মীরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন চালাচ্ছে। অসংখ্য প্রাণ গেছে, রক্তে ভেসেছে উপত্যাকা।

তারা যে আত্মত্যাগ করে চলেছে তা কখনো বিফলে যেতে পারে না, দাবি ইমরানের। তিনি বলেন, রাষ্ট্রসঙ্ঘের ( United Nations ) মধ্যস্থতায় ভারতের অংশে থাকা কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের কাশ্মীর ভূখণ্ড, এই দুটির মধ্যে যদি গণভোট নেওয়া হয় তাহলে ইসলামাবাদের কোন আপত্তি নেই। কাশ্মীরের মানুষ যদি চায় তাহলে তারা পাকিস্তানের সঙ্গে না এসে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। ইমরানের এই বক্তব্য ঘিরে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে পাকিস্তানে।

পাকিস্তানের বিরোধী দল ইমরানের সমালোচনা করে বলেছে, পাকিস্তানের সংবিধান, আইন এবং জনগণের মনোভাব কে উপেক্ষা করছেন ইমরান। অর্থাৎ বিরোধীরা বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে তারা ভারত ভূখণ্ডের কাশ্মীরকেও পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করতে চান। যদিও তাদের সেই ইচ্ছা বাস্তবায়িত হবে কিনা সেটা নির্ভর করছে ভারত সরকারের উপর। কারণ ভারত সরকার আগাগোড়াই বলে আসছে কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

শুধু ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা অংশটুকুই নয়,পাক নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মীরকেও নিজেদের ভুখন্ড বলেই দাবি করে আসছে নয়াদিল্লি। কাশ্মীর যে আর পাঁচটি ভারতীয় রাজ্যের মতই, দুনিয়ার সামনে তা তুলে ধরতে ৩৭০ ধারা লুপ্ত করা হয়েছে। সুতরাং এক্ষেত্রে পাকিস্তানের ইমরান খানের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর দাঁড়িয়ে নেই বিষয়টি।

রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক মহল থেকে মনে করা হচ্ছে, কাশ্মীর ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাবার নতুন কৌশল খুঁজছেন ইমরান খান ( Imran Khan )। যতই বিষয়টিকে দ্বিপাক্ষিক বিষয় হিসেবে দেখানো হোক না কেন, পাকিস্তান চাইছে কাশ্মীরকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়ে গিয়ে সমাধান খুঁজতে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়ে যাবার জন্যই এখন নতুন নতুন ফিকির খুঁজতে শুরু করেছে ইসলামাবাদ।

]]>
পৃথিবীকে ক্রমশ উত্তপ্ত করছে ঠান্ডা পানীয় কোম্পানিগুলি https://runnerbangla.com/cold-drink-companies-cause-global-warming/ Wed, 16 Jun 2021 08:30:00 +0000 https://runnerbangla.com/?p=2538 রানার প্রতিবেদন : করোনাকালে ২০২০ সালে কাৰ্বন ( Carbon ) নিঃসরণ রেকৰ্ড সাত শতাংশ কমেছে। এই কাৰ্বন নিঃসরণ কমার কারণ লকডাউন এবং যোগাযোগ ও চলাচলের বিধিনিষেধ। গ্লোবাল কাৰ্বন প্রোজেক্ট ( Global Carbon Project ) সম্প্ৰতি তাদের বাৰ্ষিক সমীক্ষায় এ-কথা উল্লেখ করেছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, এ পৰ্যন্ত সৰ্বোচ্চ আনুমানিক ২.৪ বিলিয়ন টন নিঃসরণ হ্ৰাস পেয়েছে। এর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে ০.৯ বিলিয়ন টন অথবা ২০০৯ সালের অৰ্থনৈতিক মন্দার সময় ০.৫ বিলিয়ন টন নিঃসরণ কমে যায়।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতৰ্ক করে দিয়ে বলেছেন, ২০১১ সালে নিঃসরণ পুনরায় দ্ৰুত বাড়তে পারে। কাৰ্বন নিঃসরণ কমার বিষয়ে আন্তৰ্জাতিক গবেষক দলের রিপোৰ্টে বলা হয়েছে, জৈবজ্বালানি ও শিল্পকারখানা থেকে ২০২০ সালে ৩৪ বিলিয়ন টন কাৰ্বন নিঃসরণ হয়েছে। এ বছর সবচেয়ে বেশি আমেরিকার ২ শতাংশ এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে ১১ শতাংশ কাৰ্বন নিঃসরণ কমেছে। যদিও বেজিংয়ের ( Beijing ) অৰ্থনৈতিক অক্ষশক্তি হিসাবে অৰ্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় ২০২০ সালে চিনে মাত্ৰ ১.৭ শতাংশ কাৰ্বন নিঃসরণ হ্ৰাস পেতে পারে।

কাৰ্বন নিঃসরণ হ্ৰাসে বড় অংশের অবদান পরিবহন খাতের। কোভিড-১৯ ( Covid-19 ) মহামারির প্রথম ধাপে যাতায়াত ও পরিবহন সারা দুনিয়াতেই অৰ্ধেকে নেমে আসায় এই নিঃসরণ কমে যায়। বিমান চলাচল ৪০ শতাংশ কমে যাওয়ায় এবং সড়ক পরিবহন ১০ শতাংশ কমে যাওয়ায় কাৰ্বন নিঃসরণ হ্ৰাস পায়। শিল্পকারখানা থেকে নিঃসরণের মাত্রা ২২ শতাংশ হ্ৰাস পেয়েছে। কড়া লকডাউনের কারণে কিছু কিছু দেশে ৩০ শতাংশ নিঃসরণ কমেছে।

কিন্তু গ্রিনহাউস গ্যাস ( Greenhouse gas ) নিঃসরণ হ্ৰাস ও বিশ্বনেতাদের প্রতিশ্ৰুতি সত্ত্বেও পৃথিবী আরও তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির পথেই এগোচ্ছে।উষ্ণতা আদৌ কমেনি।চলতি বছরের সাত শতাংশ কম কাৰ্বন নিঃসরণ উষ্ণায়ন প্রক্ৰিয়ায় যৎসামান্য প্রভাব ফেলেছে। মাত্ৰ এক শতাংশ ধনী দুনিয়ার অৰ্ধেক জনগোষ্ঠী বা ৩১০ কোটি মানুষের তুলনায় দ্বিগুণ কাৰ্বন নিঃসরণ করে। এর ফলে দ্ৰুতগতিতে বাড়ছে উষ্ণায়ন। ঘটছে জলবায়ু পরিবৰ্তন ( Climate change )। আসছে একের পর এক সাইক্লোন ( Cyclone )।

এর মোকাবিলায় তাই ধনীদেরই এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য চলতি শতাব্দীর মধ্যে বিপজ্জনক সব প্রাকৃতিক দুৰ্যোগ ও প্রভাব এড়াতে অনতিবিলম্বে পরিবেশ দূষণ করে এমন বিলাসী ও আয়েশি জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্ৰপুঞ্জের ( United Nations ) এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে এবং জলবায়ু বিষয়ক বাৰ্ষিক প্রতিবেদনটি প্রকাশিতও হয়েছে। অক্সফামের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কাৰ্বন নিঃসরণের এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী ধনী দেশগুলো।

অক্সফাম পরিচালিত এই গবেষণায় স্টকহোম এনভায়রনমেন্ট ইন্সটিটিউট ( Stockholm Environment Institute ) বলেছে, ১৯৯০-পরবৰ্তী সময়ে ৯ শতাংশ কাৰ্বন নিঃসরণ করেছে ১ শতাংশ ব্যক্তি বা ৬ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ। এই এক শতাংশ মানুষের কাৰ্বন নিঃসরণের পরিমাণ বিশ্বের অৰ্ধেক দরিদ্ৰ জনগোষ্ঠীর নিঃসরণের চেয়ে তিন গুণ বেশি। এদিকে প্লাস্টিক সৃষ্ট দূষণেও বড় সংকটে পড়েছে পৃথিবী। ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এর প্রকৃতি ও পরিবেশ।

আর এই দূষণের পুরো ভাগে রয়েছে বিশ্বের হাতেগোনা নামীদামি কয়েকটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। কোকা-কোলা, পেপসির মতো পানীয় কোম্পানির সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগের তালিকার শীৰ্ষে রয়েছে খাদ্যপণ্য কোম্পানি নেসলেও। প্লাস্টিকবিরোধী আন্তৰ্জাতিক সংগঠন ফ্ৰি ফ্ৰম প্লাস্টিক-এর বাৰ্ষিক গবেষণা রিপোৰ্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। রিপোৰ্ট মতে, পরপর তিন বছর শীৰ্ষ দূষণকারী কোম্পানি কোকা-কোলা, পেপসি ও নেসলে।

]]>
লকডাউনে বিশ্বজুড়ে বেড়েছে নারী নির্যাতন, দৈনিক খুন হচ্ছে ১৪০ জন মহিলা https://runnerbangla.com/torture-against-women-increased-all-over-the-world-during-lockdown/ https://runnerbangla.com/torture-against-women-increased-all-over-the-world-during-lockdown/#respond Fri, 11 Jun 2021 07:28:18 +0000 https://runnerbangla.com/?p=2277 রানার প্রতিবেদন : পৃথিবীব্যাপী নারী নির্যাতন যে ভয়ংকরভাবে বেড়ে গেছে, তা অতি বড় নারীবিদ্বেষীও বিনা দ্বিধায় মেনে নেবেন। কন্যাভ্ৰূণ হত্যা থেকে এর শুরু হয়, তারপর একটু বড় হলে কন্যাসন্তান জন্মানোর জন্য তাকে হত্যা করা, যৌননিগ্ৰহ, বধূনিগ্রহ এবং অবশেষে তাকে খুন, সব মিলিয়ে ক্ৰমশ বিশ্বজুড়ে বাড়ছে মহিলাদের হত্যার ঘটনাও। সম্প্ৰতি রাষ্ট্ৰপুঞ্জের ( United Nations ) একটি গবেষণা এই বিষয়ে এমন একটি পরিসংখ্যান প্ৰকাশ করেছে যা দেখলে অবাক হওয়া ছাড়া আর কোনও গত্যন্তর থাকে না।

বিশ্বজুড়ে প্ৰতিদিন গড়ে প্ৰায় ১৩৭-১৪০ জন মহিলা খুন হচ্ছেন। এবং তাঁদের মারছে হয় পুরুষসঙ্গী নয়তো পরিবারের সদস্যদের হাতে তাঁরা খুন হচ্ছেন। রাষ্ট্ৰপুঞ্জের ড্ৰাগ ও অপরাধ-সংক্ৰান্ত দপ্তর তাদের এক গবেষণায় এই ভয়ংকর প্ৰতিবেদন তুলে ধরেছে। তাদের মতে, এই পরিসংখ্যান আরও একটি ভয়ংকর তথ্যের দিকে আঙুল তুলছে এবং তা হল মহিলারা বাড়িতে থাকলেও যে সুরক্ষিত থাকবেন, সে-বিষয়েও কোনও নিশ্চয়তা নেই।

এই সমীক্ষা জানাচ্ছে ২০১৭ সালে সারা পৃথিবী জুড়ে মোট ৮৭ হাজার মহিলা নিহত হয়েছেন। আরও দুঃখজনক হল তাঁদের অৰ্ধেকেরও বেশি মারা গেছেন বাড়ির লোক কিংবা ঘনিষ্ঠজনদের হাতেই। আরও একটি সমীক্ষা স্পষ্টভাবে বিষয়টি জানিয়েছে প্ৰায় ৩০ হাজার মহিলা খুন হয়েছেন খুব কাছের সঙ্গীর জন্য আর বাকি কুড়ি হাজারের মৃত্যুর জন্য দায়ী কোনও না কোনও আত্মীয়।

ইউনাইটেড নেশনসের দেওয়া তথ্যকে অনুসরণ করে আরও বলা যায় যে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের হিসাবে পুরুষদের খুন হওয়ার হার মহিলাদের তুলনায় চারগুণ কম। তাদের মতে, সারা বিশ্বে যত মহিলা মারা যান, তাঁদের মধ্যে আটজনই পুরুষসঙ্গীর হাতে। কিন্তু কেন এভাবে নিৰ্বিচারে মহিলা হত্যা বাড়ছে? এ-প্ৰসঙ্গে রীতিমতো চিন্তিত সমাজবিদ থেকে শুরু করে চিকিৎসকমহল, মনোবিদ সকলেই।

এর উত্তরে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের ( Boston University ) একটি গবেষণাপত্ৰে বলা হয়েছে, এখনকার মহিলাদের খুন হওয়ার পিছনে অন্যতম প্ৰধান কারণ পারিবারিক হিংসা। বিয়েতে পাত্ৰপক্ষ পণ না পেলে, পরে পাত্ৰপক্ষর দাবিমেটাতে না পারলে, কিংবা কন্যাসন্তান জন্মদানের অপরাধে স্ত্ৰীকে মেরে ফেলার ঘটনা অহরহ বাড়ছে আর এর পিছনে রয়েছে মানুষের অজ্ঞতা আর অশিক্ষা, সঙ্গে কুসংস্কার। পাশাপাশি সম্পত্তির লোভের মতো বিষয়টিকেও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আবার আরেক দল এর সঙ্গে যুক্ত করেছেন মহিলাদের জীবনধারা ও বদলে যাওয়া সমাজের চিত্ৰকে। পাশ্চাত্যদেশের মতো এখন এ-দেশেও লিভ ইন বাড়ছে আর পরকীয়া তো বৈধই। এই লিভ ইনের ফলে যখন সঙ্গীদের ছাড়াছাড়ি হচ্ছে বা কোনও কারণে মতের মিল হচ্ছে না, তখন পুরুষসঙ্গী মহিলাসঙ্গীটিকে খুন করতেও দুবার ভাবছেন না। খোদ রাষ্ট্ৰপুঞ্জের রিপোৰ্টও সে-কথা বলেছে, ঘনিষ্ঠ পাৰ্টনারের হিংসর কারণে প্ৰচুর মহিলাকে প্ৰাণ হারাতে হচ্ছে।

তাছাড়া মানুষের মধ্যে বিকৃত মানসিকতা ক্ৰমশ বেড়ে যাওয়ায় যৌন নিগ্ৰহ বা ধৰ্ষণের পরেও খুনের সংখ্যা বাড়ছে। আপাতত সরকারি সূত্ৰে যেসব তথ্য পাওয়া গিয়েছে তার উপর নিৰ্ভর করেই রাষ্ট্ৰপুঞ্জ ওই প্ৰতিবেদনটি তৈরি করেছে, এবার ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর থেকে সারা বিশ্বে যত মহিলা নিহত হয়েছেন, তা নিয়ে তাঁরা বিশ্লেষণ করবেন। মহিলা মানে পূৰ্ণবয়স্কা মহিলাদের উপরই যে শুধু নিযাতন বাড়ছে এমন নয়, সমাজের বিভিন্ন স্তরের, বিভিন্ন বয়সের বালিকা, কিশোরী, যুবতী নানাভাবে অপমানিত, লাঞ্ছিত, শারীরিক নিযাতনের শিকার হচ্ছেন।

সম্প্ৰতি এই বিষয়ে প্ৰকাশিত আরেকটি রিপোৰ্টে ভয়ংকর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে–তাতে বলা হয়েছে সারা বিশ্বে যত মহিলা আছেন তাঁদের মধ্যে গড়ে তিনজনের মধ্যে একজন হিংসার শিকার। এই হিংসা বলতে একদিকে পারিবারিক হিংসা, সামাজিক অপমান, যৌনহিংসা সবকিছুকেই বোঝানো হয়েছে। পরিসংখ্যানটি রীতিমতো উদ্বেগজনক। আর এই সংখ্যাটা বেড়ে গেছে গত বছর থেকে চলে আসা লকডাউনে।

কেননা লকডাউনে অনেক মহিলাকেই সেইসব পুরুষের সঙ্গে বাধ্য হয়ে থাকতে হয়েছে যারা তাঁদের উপর নির্যাতন করে বা করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ( World Health Organization ) তৈরি একটি প্ৰতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। মহিলাদের প্ৰতি হওয়া এ অন্যায় প্ৰতিরোধে সম্মিলিত রাষ্ট্ৰপুঞ্জের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থাটি বিভিন্ন দেশকে আরও বেশি সচেতন হতে ও মহিলাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলেছে। এই হিংসার কারণ হিসাবে একাধিক তথ্যকে তুলে ধরা হয়েছে।

তার মধ্যে পুরুষতান্ত্ৰিক সমাজকাঠামো, সামজে আৰ্থিকভাবে মহিলাদের স্বাবলম্বী না হওয়া কিংবা পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের আয় সেই অনুপাতে না হওয়া, কন্যাভ্ৰূণ হত্যা, বাল্যবিবাহ, পুরুষদের বিকৃত যৌন মানসিকতা ইত্যাদি কারণকে তুলে ধরা হয়েছে। তাই মহিলাদের সঙ্গে পুরুষদের আৰ্থিক বৈষম্যের ব্যাপারটিও যাতে কমিয়ে আনা যায় সেই বিষয়েও নজর দিতে বলা হয়েছে বিভিন্ন দেশকে।

হু ( WHO )-এর প্ৰতিবেদনে আরও বলা হয়েছে অনেক মহিলা শুধু আৰ্থিকভাবে স্বাবলম্বী না হওয়ার কারণে অত্যাচারিত হয়ে পুরুষবা ওই পরিবারের থেকে বেরিয়ে এসে নিজে স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারে না। সেজন্য যেসব দেশে নারীশিক্ষার হার এখনও কম, সেখানে বিষয়টিকে গুরুত্বর সঙ্গে দেখে সকল মেয়েই যাতে নিৰ্দিষ্ট স্তর পৰ্যন্ত পড়াশোনা করতে পারে সেই বিষয়ে নজরদারি করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্ৰকের আছে আবেদন করা হয়েছে।

]]>
https://runnerbangla.com/torture-against-women-increased-all-over-the-world-during-lockdown/feed/ 0