Japan – Runner Bangla https://runnerbangla.com Bengali News, Latest Bengali News, Bengali Khabor, Bangla Newspaper, Bengali News Headlines, Bengali Top News, Breaking News, Bengal News Wed, 30 Jun 2021 06:39:29 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.1.2 https://runnerbangla.com/wp-content/uploads/2021/03/cropped-Runner-Bangla-Favicon-Large-32x32.png Japan – Runner Bangla https://runnerbangla.com 32 32 করোনা বাধা বিপত্তি কাঠিয়ে জাপানে পুনরায় আগমন অলিম্পিকের https://runnerbangla.com/upcoming-tokyo-2020-summer-olympics-japan-update/ Wed, 30 Jun 2021 04:30:00 +0000 https://runnerbangla.com/?p=3059 রানার প্রতিবেদন : আধুনিক অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বজুড়ে ২০০ টিরও বেশি দেশের কয়েক হাজার প্রতিযোগী অংশ নেয় এই প্রতিযোগিতায়। অলিম্পিক গেমস সাধারণত প্রতি চার বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি চার বছরের সময়কালে গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন অলিম্পিকের ( Winter Olympics ) মধ্যে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন হয়।

খুব শীঘ্রই জাপানের টোকিওতে শুরু হতে চলেছে আন্তর্জাতিক মাল্টি-স্পোর্টস ইভেন্ট ২০২০ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক ( Summer Olympics ), যা টোকিও অলিম্পিক ( Tokyo Olympics ) নামেও পরিচিত। ২০২০ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের জন্য ২০২০ সালের ২৪ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়সূচি ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে তা স্থগিত রাখা হয়। মহামারীর প্রকোপ কমায় পুনরায় ২৩ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট ২০২১ সময়সূচির মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে “২০২০ গ্রীষ্মকালীন টোকিও অলিম্পিক গেমস।”

অলিম্পিকের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো অলিম্পিক প্রতিযোগিতা বাতিল না করে, স্থগিত ও পুনঃনির্ধারিত করা হলো। ২০২১ সালে ইভেন্টটি পুনরায় নির্ধারণ করা হলেও ব্যবসা ও ব্র্যান্ডিংয়ের উদ্দেশ্যে “টোকিও অলিম্পিক ২০২০” নামটি রাখা হয়েছে। এই নিয়ে জাপান ( Japan ) দ্বিতীয়বারের জন্য গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। এর আগে ১৯৬৪ সালে টোকিওতেই গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের আয়োজন করেছিল জাপান। তাছাড়াও ১৯৭২ সালে স্যাপ্পোরোতে ( Sapporo ) এবং ১৯৯৮ সালে নাগানোতে ( Nagano ) শীতকালীন অলিম্পিক নিয়ে চতুর্থবারের জন্য আন্তর্জাতিক অলিম্পিক্স ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে চলেছে জাপান।

এই প্রথম অলিম্পিক গেমস ধারাবাহিক তিনবার পূর্ব এশিয়াতে ( East Asia ) অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমে ২০১১ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাং ( Pyeongchang, South Korea ) শহরে, দ্বিতীয়বার ২০২০ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকস এবং তারপরে ২০২২ সালে চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এবার টোকিও অলিম্পিকে সংযোজন হিসাবে পাঁচ নতুন খেলা যুক্ত হবে যার নামগুলো হলো কারাটে, আরোহণ, সার্ফিং এবং স্কেটবোর্ডিংয়ের পাশাপাশি প্রথমবারের জন্য বেসবল বা সফটবলও আত্মপ্রকাশ করবে।

টোকিও অলিম্পিকে এই পর্যায়ে, ৯,৮০০ এরও বেশি ক্রীড়াবিদ ইতিমধ্যে এই গেমসের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে। ২০২০ গেমসে আইওসি-র শরণার্থী অলিম্পিক দলের অংশ হিসাবে ২৯ জন অ্যাথলেট যোগ্যতা অর্জন করেছে। টোকিও অলিম্পিকে ৩৪ রকমের খেলা প্রদর্শন হবে। এবং এই অলিম্পিকে 11,800 – এর বেশি অ্যাথলিটকে অলিম্পিক সংহতি টোকিও ২০২০ বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এবং ২০২১ সালের ২৫ জুন পর্যন্ত ২০১ জাতীয় অলিম্পিক কমিটি টোকিও অলিম্পিকের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে, যার মধ্যে ভারতও একটা।

১৯২০ সাল থেকে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের প্রতিটি সংস্করণে ভারতীয় অ্যাথলেটরা অংশগ্রহণ করেছে, যদিও ভারত প্যারিসে ১৯০০ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে অফিসিয়াল আত্মপ্রকাশ করেছিল। তাছাড়াও ১৯৬৪ গেমস থেকে শুরু করে, ইন্ডিয়া ( India ) প্রত্যেক শীতকালীন অলিম্পিক গেমসে অংশগ্রহণ করেছে। আর এবছর ২০২১ সাল ভারত টোকিও অলিম্পিকেও অংশগ্রহণ করতে চলেছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মন কি বাত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অলিম্পিকের জন্য ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করেছেন। এই অলিম্পিকে ১৮ রকমের স্পোর্টসের সাথে ১০৯ ভারতীয় ক্রীড়াবিদ জাপানে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করতে চলেছে, যার মধ্যে দীপিকা কুমারী, শিবপাল সিং, বিকাশ কৃষ্ণ, বিনাশ ফোগাট, পিভি সিন্ধু, সায়না নেহওয়াল এবং নেত্র কুমানান নাম উল্লেখযোগ্য। এখনও পর্যন্ত ভারত অলিম্পিক ইতিহাসে ২৮ পদক জিতেছে যার মধ্যে গোল্ড ৯, সিলভার ৭ এবং ব্রোঞ্জ 12।

]]>
যন্ত্র নার্সের সহায়তা নিতে পরামর্শ দিচ্ছে জাপান সরকার https://runnerbangla.com/japan-government-advising-using-robots-nurse-instead-human/ Thu, 24 Jun 2021 04:00:00 +0000 https://runnerbangla.com/?p=2859 দিবাকর দত্ত : জাপানে ( Japan ) বৃদ্ধদের মানুষের পরিবর্তে রোবটের সেবা নেওয়ায় অভ্যস্ত হওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছে সরকার। দক্ষ প্রযুক্তিবিদরা তাই শারীরিক দিক দিয়ে দুর্বল বয়োবৃদ্ধদের শয্যাত্যাগ, হুইল চেয়ারে বসানোয় সহায়ক রোবট প্রযুক্তি ( Robot Technology ) উদ্ভাবনে মন দিয়েছেন। জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড ইন্ডাস্ট্রিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের আওতাধীন রোবট উদ্ভাবন গবেষণা কেন্দ্র এ-বিষয়ে এগিয়েও এসেছে।

এ-জাতীয় রোবট প্রযুক্তির ( Robot Technology ) উৎকর্ষ সাধিত হলে রোবটগুলো বৃদ্ধ অথর্বদের কোলে তুলে নিয়ে বাথটাবে বসিয়ে দিতেও সক্ষম হবে। ২০২৫ সাল নাগাদ জাপানে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার সেবকের ঘাটতি দেখা দেবে। তাই জাপান সরকার ( Japan Government ) এই ঘাটতি রোবট দিয়ে মেটাতে বদ্ধপরিকর। বৃদ্ধরা মানুষের পরিবর্তে রোবটের কাছ থেকে সেবা নেওয়ার বিষয়টিকে যেন স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেন, সে প্রচারও চলছে। সেই সঙ্গে সরকার রোবটের সম্ভাব্য কাজের প্পরিধিও বাড়াতে চায়।

কারও টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন কখন হতে পারে সেটা যেন রোবট আগেভাগে বুঝতে পারে। এই বিষয়টিও রোবটের কার্যক্রমে রাখা হয়েছে। প্রবীণদের সহায়তা করা ছাড়াও এসব রোবটকে কীভাবে আরও ব্যাপক পরিসরে কাজে লাগানো যায়, সেই চিন্তাভাবনাও জাপান সরকারের আছে। এ-প্রসঙ্গে জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড ইন্ডাস্ট্রিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির রোবট প্রযুক্তি গবেষণার পরিচালক ডক্টর হিরোহিশা হিরুকাওয়া বলেন, এসব রোবট তৈরি হয়ে গেলে নার্সদের কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে।

এছাড়া যারা বৃদ্ধাশ্রমে না গিয়ে নিজেদের বাড়িতে থাকতে চান, তাঁদেরও বাড়িতে থাকা আরামদায়ক ও ঝঞ্ঝাটমুক্ত হবে। হিরুকাওয়ার মতে, রোবট প্রযুক্তি সব ধরনের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না ঠিকই, তবে এটি বৃদ্ধদের অনেক শারীরিক সমস্যার সমাধানেই সহায়ক হবে। হিরুকাওয়ার গবেষণা কেন্দ্র নার্সিং সেবা প্রদানে সক্ষম এমন ৯৮টি প্রতিষ্ঠানকে কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান সরকারি সহায়তা প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত হবে।

গত পাঁচ বছর ধরে এই প্রকল্পের সমন্বয়ক হিসেবে হিরুকাওয়ার প্রতিষ্ঠান অনলস কাজ করে চলেছে। তবে এসব সংস্থা থেকে যেসব রোবট বেরিয়ে আসে তার সবই যে বৃদ্ধদের কাজে লাগে তা নয়। এর মধ্যে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হয় ১৫টি প্রতিষ্ঠানের এমন রোবটও বাজারে স্থান করে নিয়েছে। হিরুকাওয়ার মত অনুসারে, রোবট প্রযুক্তি সব ধরনের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না সেটা ঠিক। তবে বৃদ্ধদের অনেক একান্ত ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে।

তাঁদের উদ্ভাবনী সেবাদানকারী রোবটের মাত্র ৮ শতাংশ নার্সিং হোমগুলোতে কাজে লাগানো হয়েছে। রোবটের সংখ্যা এত কম কেন? এ-সম্পর্কে হিরুকাওয়া ব্লেন, মূলত দুটি কারণে রোবটের ব্যাপক ব্যবহার শুরু করা সম্ভব হয়নি। প্রথমত, এটি তুলনামূলকভাবে ব্যয়সাপেক্ষ এবং দ্বিতীয়ত, প্রবীণ সেবাগ্রহণকারীদের মধ্যে অবিশ্বাসী মানসিকতা। অনেক বৃদ্ধই যান্ত্রিক সেবা গ্রহণের বিষয়টিকে পছন্দ করেন না, বরং মানুষের সেবা গ্রহণেই বেশি আগ্রহী।

]]>
বেড়েই চলেছে বিধ্বংসী ঝড়ের সংখ্যা, অভিযোগের কাঠগড়ায় ধনী দেশগুলি https://runnerbangla.com/destructive-storms-increase-because-of-rich-countries/ https://runnerbangla.com/destructive-storms-increase-because-of-rich-countries/#respond Sun, 30 May 2021 15:00:22 +0000 https://runnerbangla.com/?p=1637 রানার প্রতিবেদন : ইয়াস সাইক্লোনে বিধস্ত পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশাসহ ভারতের পূর্ব উপকূল। প্ৰকৃতির কাছে মানুষ কত অসহায় সে কথা মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে। ‘প্ৰাকৃতিক বিপৰ্যয়’ এই বিশেষণে এখন কিন্তু নেহাতই একটা আত্মপ্ৰবঞ্চনা, একটা দায় এড়ানো ভাব প্ৰচ্ছন্ন থাকে। যাঁরা অজ্ঞ নন বা সচেতন বা ওয়াকিবহাল, তাঁরা কিন্তু জানেন প্ৰাকৃতিক বিপৰ্যয়ের অনেকটাই আজ আর প্ৰাকৃতিক কিংবা ন্যাচারাল নয়।

মানুষের প্ৰকৃতিবিরোধী নানা কৰ্মকাণ্ড এর জন্য দায়ী। যে গ্লোবাল ওয়াৰ্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে সারা বিশ্ব উদ্বিগ্ন তা তো মানুষের কাণ্ডজ্ঞানহীন কৰ্মকাণ্ডের কারণেই। সাম্প্রতিক গবেষণা জানাচ্ছে আমফান-ইয়াসের মতো বিভিন্ন বিধ্বংসী ঝড়ের সংখ্যা ও প্ৰাবল্য বৃদ্ধির পিছনে বিশ্ব উষ্ণায়ন তথা মানুষের হাত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।

জীবজগতে মানুষই একমাত্ৰ জীব যার বিরামহীন অগ্ৰগতি ও ভোগপিপাসার হাত ধরে অবলা জীবজগৎ ও পরিবেশের ওপর ক্ৰমবৰ্ধমান দূষণ ছেয়ে যাচ্ছে। এই অবলাদের নিৰ্বাক করুণ ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য মানুষের কাছে বহুদিন আগে থেকেই আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছিল: ‘সাউণ্ড ফর দ্য সাউণ্ড অব দ্য সাউণ্ডলেস’। জীবজগতে মানুষ ও মনুষ্যেতর প্ৰাণীর মধ্যে মানুষই দূষণের ব্যাপারে সৰ্বাংশে দায়ী।

তেমনই মনুষ্যজাতির ভিতরেও রয়েছে দূষণ-বৈষম্য। মনুষ্যজাতির ধনী সম্প্ৰদায় দ্বারা সৃষ্ট দূষণের অসহায় ভাগীদার হচ্ছে গরিবগুরবো সম্প্ৰদায়। গরিবগুরবোদের দ্বারা ছড়ানো দূষণ অপেক্ষাকৃত অনেক কম। দূষণের এ এক বিচিত্ৰ দিক। বিশ্ব উষ্ণায়নের প্ৰেক্ষাপটে এই দিকটা ভাবা খুব জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যে বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে এত কথা তার মূলে রয়েছে গ্ৰিন হাউস প্ৰভাব।

গ্ৰিন হাউস গ্যাসসমূহের (যাদের একসঙ্গে জি এইচ জি বলে) মধ্যে আছে কাৰ্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, ক্লোরোফ্লুরোকাৰ্বন, ওজোন, নাইট্ৰাস অক্সাইড, জলীয় বাষ্প ইত্যাদি। এদের মধ্যে প্ৰথম তিনটি কাৰ্বন-ঘটিত গ্যাসের প্ৰভাব যথাক্ৰমে ৫০, ১৯ এবং ১৬ শতাংশ। অৰ্থাৎ গ্ৰিনহাউস প্ৰভাবের ৮৫ শতাংশই কাৰ্বন-ঘটিত। তাই বিশ্ব উষ্ণায়নের আলোচনায় কাৰ্বন-নিঃসরণ একটা সূচক নিৰ্ধারক।

দেখা গেছে যে দেশ যত বেশি ধনী মাথাপিছু কাৰ্বন-নিঃসরণও তত বেশি। যেমন মাৰ্কিন যুক্তরাষ্ট্ৰ, কানাডা, রাশিয়া, জাৰ্মানি, ব্ৰিটেন, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়নে বছরে মাথা পিছু গড় কাৰ্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ যথাক্ৰমে ২৫, ২৩, ১৩, ১২, ১১, ১১, ১১ টন। ভারত, বাংলাদেশ, আফগানিস্তানের ক্ষেত্ৰে তা যথাক্ৰমে ২, ১ ও ০.৫ টন। অৰ্থাৎ বাংলাদেশের তুলনায় ভারতীয়রা দ্বিগুণ এবং ভারতীয়দের তুলনায় মাৰ্কিনরা ১২ গুণের বেশি মাথাপিছু কাৰ্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ করে।

দেশে দেশে এই বৈষম্যের মতো একই দেশের বিভিন্ন আৰ্থিক অবস্থাপন্ন মানুষদের মধ্যেও মাথাপিছু কাৰ্বন-নিঃসরণের বৈষম্য লক্ষ করা যায়। উদাহরণ হিসাবে আমাদের দেশের কথাই ধরা যাক। কয়লা, তেল, বিদ্যুৎ ইত্যাদি ব্যবহারের ক্ষেত্ৰে শহরের সৰ্বোচ্চ ব্যক্তিটির সঙ্গে গ্ৰামের সৰ্বনিম্ন ব্যক্তিটির অনুপাতকে ‘চূড়ান্ত বৈষম্য অনুপাত’ (ই ডি আর) আখ্যা দিয়ে ১৯৯৭ সালে মুম্বাইয়ের ইন্দিরা গান্ধী ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট রিসাৰ্চের একদল গবেষক দেখেন কয়লা, তেল ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্ৰে এই ‘ই ডি আর’ যথাক্ৰমে ১০.৩, ১৪.৮ এবং ৯।

অৰ্থাৎ শহরের সৰ্বোচ্চ ওই ব্যক্তিটি গ্ৰামের সৰ্বনিম্ন অবস্থানে থাকা ব্যক্তিটির অপেক্ষা বছরে গড়ে ১২ গুণ কাৰ্বন দূষণ ছড়াচ্ছে। সারা ভারতের বিভিন্ন শহর ও গ্ৰামে চালানো সমীক্ষার ভিত্তিতে গ্ৰিন পিস এক রিপোৰ্ট প্ৰকাশ করে। তাতে বিভিন্ন আয়ের মানুষদের বিভিন্ন খাতে কাৰ্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের বৈষম্য বিকটভাবে ধরা পড়েছে। যেমন মাসিক আয় তিন হাজার টাকা বা তার নীচে এমন মানুষ বিদ্যুৎ, রান্নাবান্না ও পরিবহণ খাতে বছরে মাথাপিছু গড়ে ৩৩৫ কেজি কাৰ্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ করে।

মাসিক আয় ৩০ হাজার টাকা বা তার বেশি মানুষের ক্ষেত্ৰে তখন তা ১,৪৯৫ কেজি। গড় ভারতীয়ের ক্ষেত্ৰে সেটা ৫০১ কেজি। অৰ্থাৎ ধনীদের বিপুল কাৰ্বন-পাপের বোঝা বইতে হচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষজনকে। পলিউটার পেস অৰ্থাৎ দূষণকারীকেই শোধ করতে হবে, এরকম একটা প্ৰবাদ চালু আছে। এ শোধ টাকার বিনিময়ে হয় না, দূষণ নিঃসরণ নিয়ন্ত্ৰণের মধ্য দিয়ে সেই শোধবোধ প্ৰকাশ করতে হয়।

কিয়েতো প্ৰোটোকলেও তো বলা হয়েছিল তথাকথিত উন্নত দেশগুলি ২০১২ সালের মধ্যে তাদের কাৰ্বন-নিঃসরণ ১৯৯০-এর তুলনায় ৫.২ শতাংশ কমিয়ে আনবে। মানুষের ভোগলিপ্সা এতই প্ৰকট যে চুক্তিবদ্ধতার দায়ভার কখন যে কাগজের নৌকার মতো ভেসে চলে যায় টেরই পাওয়া যায় না।

কিন্তু ইয়াসের মতো বিধ্বংসী সাইক্লোন যখন নিৰ্মমভাবে জানান দিয়ে যায়, তখন কিছুদিনের জন্য সংবিৎ ফিরে আসে।আলোচনা-পৰ্যালোচনা, দূষণ পরিবেশ, সাসটেনেবিলিটি, ভবিষ্যৎ প্ৰজন্ম ইত্যাদি নিয়ে কথার ফুলঝুরি ছলে।কুম্ভীরাশ্ৰুপাত হয়।কিন্তু প্রাণ ও বসত হারায় গরিবরাই।

]]>
https://runnerbangla.com/destructive-storms-increase-because-of-rich-countries/feed/ 0
দুনিয়ার আজব দেশ, প্রেমের প্রবেশ কার্যত নিষিদ্ধ https://runnerbangla.com/strange-country-entry-of-love-practically-forbidden/ https://runnerbangla.com/strange-country-entry-of-love-practically-forbidden/#respond Tue, 18 May 2021 15:48:38 +0000 https://runnerbangla.com/?p=1091 রানার প্রতিবেদন : প্ৰেমের কোনও বয়স হয় না, স্থান, কাল, পাত্ৰ দেখেও আসে না। কিন্তু জাপানের ছবিটা একটু ভিন্ন। সেখানে প্ৰাপ্তবয়স্ক মহিলাদের প্ৰায় ৬০ শতাংশরই প্ৰেমে প্রবল অনীহা, আর এর কারণটা হল কৰ্মক্ষেত্ৰে এত বেশি চাপ তাঁদের যে, তাঁরা প্ৰেম করতে বা প্ৰেমের জন্য সময়ই বের করতে পারেন না। সম্প্ৰতি হওয়া একটি সমীক্ষার ফলাফল থেকে এই তথ্য সামনে এসেছে।

জাপানে বৰ্তমানে কৰ্মজগতের যা চিত্ৰ, সেখানে মহিলাদেরও পুরুষদের মতো সমান কাজের চাপ। আর সারাদিনের ক্লান্তির পর বাড়িতে এসে গা এলিয়ে দিতে, কিংবা কোনও সোপ অপেরা দেখে একটু বিনোদনের স্বাদ পেতেই পছন্দ করছেন মহিলারা। সে-সময় সেজেগুজে প্রেম করতে যাওয়াতে তাঁদের প্ৰবল আপত্তি। তাহলে তো সৰ্বক্ষণ যেখানে থাকা হয়, সেই অফিসের কলিগের সঙ্গেই প্ৰেম করার সম্ভাবনাটা সবচেয়ে জোরালো হয়ে উঠছে।

তাতেও কারও উৎসাহ নেই, তাঁদের যুক্তি অফিসে যদি প্ৰেম করা হয়, তাহলে কাজের মূল্যবান সময় নষ্ট হবে। আর এসব জাপানি মহিলাদের কাছে যেরকম অশান্তি আর দুশ্চিন্তার কারণ, তেমনি প্ৰচণ্ড বিরক্তিকর আর ক্লান্তিকরও। সেই সমীক্ষার ফলাফল থেকে আরও একটি চমকপ্ৰদ তথ্য উঠে এসেছে; অনেকেই ডেটিংয়ে গিয়ে অপেক্ষা করতে করতে রেস্তোরাঁ, পাৰ্ক ইত্যাদি জায়গায় ঘুমিয়ে পড়েন, আর তার কারণ হল সারাদিনের কাজের ক্লান্তি।

প্ৰতি চারজনের মধ্যে একজন মহিলা এই বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করে নিয়েছেন। আবার অনলাইন ডেটিং সাইট লাভলি মিডিয়ার পৰ্যবেক্ষণ জানাচ্ছে যে, ক্ৰমাগত বা ঘন ঘন ডেটিং করাকে এক শ্ৰেণির মহিলা শুধুমাত্ৰ সময় নষ্ট বলে সেখান থেকে সরে আসছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। তাঁদের কাছে ডেটিং করে, নিজের সঙ্গে ম্যাচ করিয়ে আদৰ্শ স্বামী খোঁজা আদৌ লক্ষ্য নয়, এজন্য তাঁরা পরিবারের উপর নিৰ্ভরশীল।

তাঁরা মনে করেন, কোনওক্ৰমে একটা বিয়ে করে নিয়ে সন্তানের জন্ম দেওয়াটাই একমাত্ৰ উদ্দেশ্য জীবনের। কিন্তু আশির দশকের দিকে যদি আমরা একবার ফিরে তাকাই, তাহলে পুরো চিত্ৰটাই ছিল বিপরীত। সেখানে কুড়ির কোঠায় বয়স এমন যুবতীদের প্ৰায় ৭০ শতাংশই কোনও না কোনও সম্পৰ্কে জড়িয়েছিলেন। এখন তা কমে তলানিতে এসে ঠেকেছে।

সমীক্ষা বলেছ, কাজের সময় কমিয়ে, মহিলাদের পরিচিতদের সঙ্গে লং ড্ৰাইভে পাঠিয়ে, সন্তানের জন্মের পর মা-বাবাদের একসঙ্গে মাতৃত্বকালীন ও পিতৃত্বকালীন ছুটি কাটানোর মধ্যে দিয়েই ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে প্ৰেমের ইচ্ছা জেগে উঠবে। সেজন্য প্ৰত্যেককেই সৰ্বক্ষণ কাজের চাপ এই বিষয়টা মাথা থেকে সরিয়ে একটু অন্যভাবে জীবনটাকে দেখতে হবে এবং দরকারে মনোবিদেরও সাহায্য নিতে হতে পারে।

]]>
https://runnerbangla.com/strange-country-entry-of-love-practically-forbidden/feed/ 0
নজিরবিহীন বিশ্ব রেকর্ড, মৃত্যু ভয় বুকে চেপে ৫০ বছরের জেল যাপন https://runnerbangla.com/world-record-longest-held-death-row-inmate-iwao-hakamada-japan/ https://runnerbangla.com/world-record-longest-held-death-row-inmate-iwao-hakamada-japan/#respond Sun, 03 Jan 2021 06:30:00 +0000 https://runnerbangla.com/?p=287 রানার প্রতিবেদন : খুনের দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হন জাপানের ইয়াও হাকামাদা, তাও হয়ে গেল প্রায় ৫০ বছর। অপেক্ষায় ছিলেন এই বুঝি ডাক পড়ে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়ানোর। তবে ২০১৪ সালে মুক্তি মেলে তাঁর। কিন্তু পুনরায় বিচারের রায়ে স্থগিতাদেশ দেওয়ায় পুনরায় মৃত্যুদণ্ডের ভয় জেগেছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের পুনরায় সেই স্থগিতাদেশ বাতিল করে পুনরায় বিচারের আশ্বাস দিলে আশা জেগেছে হাকামাদার মনে।

এর ফলে মুক্তি পেতে চলেছেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দিন বন্দি থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাকামাদা।
৮৪ বছরের হাকামাদা ছিলেন পেশাদার বক্সার। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর মনিব, মনিবের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে খুন করেন। শিজুয়োকা প্রদেশে ঘরের মধ্যে চারজনের মরদেহ পাওয়া যায়। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগও আনা হয়। শুরুতে সব অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত করা হয় হাকামাদাকে।

এরপর আদালতে আবেদন করেন তিনি। কিন্তু বিচারে তাঁর প্রাণদণ্ডের রায় হয়। এরপর তাঁর মৃত্যুদণ্ডের জন্য অপেক্ষা শুরু হয়। মৃত্যুদণ্ডের জন্য সবচেয়ে বেশি দিন অপেক্ষা করা আসামি হিসেবে গিনেস বূক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নামও ওঠে তাঁর। এরপর ২০১৪ সালে কঠোর বিচার ব্যবস্থার দেশ জাপান এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। হাকামাদার বয়স ও বিপর্যস্ত মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে ওই বছর তাঁকে মুক্তি দেন শিজুয়োকা জেলা আদালত।

কিন্তু ভাগ্যের বিড়ম্বনা, চার বছর পর ২০১৮ সালে টোকিওর হাইকোর্ট তাঁর পুনরায় বিচারের রায় স্থগিত করে দেয়। তবে কী কারণে এটি করা হয়েছে তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। হাইকোর্টের এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভয়ে ছিল হাকামাদার পরিবার ও আইনজীবীরা। এরপর তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট টোকিও হাইকোর্টের ওই স্থগিতাদেশ বাতিল করে পুনরায় বিচারের আশ্বাস দেয়।

অ্যামনেসটি ইন্টারন্যাশনালও বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করে। তারা হাকামাদার মুক্তির দাবি তোলে। হাকামাদার আইনজীবী কিওমি সুনাগো বলেছেন, ‘আমাদের ভয় ছিল যে কোনো সময় হাকামাদাকে আবার গ্রেফতার করা হতে পারে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতে পারে। তবে পুনরায় বিচারের আশ্বাস পেয়ে এখন নিশ্চিন্ত যে তিনি নিরাপদ।’

হাকামাদা এখন তাঁর বোন হিদেকো হাকামাদার সঙ্গে বসবাস করছেন। তাঁর মানসিক অবস্থা খুব ভালো নয় বলেই জানান তিনি। একটু একটু করে উন্নতি হলেও তিনি আর কোনদিনই স্বাভাবিক হতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন হিদেকো।

]]>
https://runnerbangla.com/world-record-longest-held-death-row-inmate-iwao-hakamada-japan/feed/ 0