রানার প্রতিবেদন : ফের অশান্তির পরিবেশ শ্রীলঙ্কায়। দেশ জুড়ে যে জঙ্গি দমন অভিযান চলছে সেটা এক্ষুনি বন্ধ করতে হবে, এই দাবিতে শ্রীলঙ্কা মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন সমস্ত মুসলিম সদস্য। এই গন ইস্তফায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্রে। পাল্টা প্রশ্ন উঠেছে, এই মুসলিম মন্ত্রীরা দেশকে গোল্লায় পাঠিয়ে নিজের ধর্মের রক্ষাকর্তা হয়ে উঠতে চাইছেন? কিন্তু মন্ত্রীদের অভিযোগ, জঙ্গি বিরোধী অভিযান ক্রমাগত মুসলিম বিরোধী অভিযানে পরিণত হচ্ছে। নিরীহ মুসলিমদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে চলেছে।

আরও পড়ুন : একুশের মোদি বাহিনীকে রুখতে তৃণমূলের পাল্টা অস্ত্র এগারোর টিম মমতা


গত এপ্রিলে ইস্টারের প্রার্থনার সময়, চার্চের ভেতর মুসলিম সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের আক্রমনে সাড়ে তিনশ মানুষের মৃত্যুর পর শান্ত এই দেশটি চূড়ান্ত অশান্ত হয়ে ওঠে। হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় জঙ্গি দল আইসিস। দেশ জুড়ে শুরু হয় জঙ্গি বিরোধী অভিযান। বিভিন্ন প্রান্ত মাথাচাড়া দেয় মুসলিম বিরোধী দাঙ্গা জারি হয় কারফু। জঙ্গি দমনে অভিযানে নামে সেনা বাহিনী। আইসিস হামলার পর সেনা বাহিনীকে এই জঙ্গি দমন অভিযান চালাবার জন্য বিশেষ ক্ষমতাও দেয় শ্রীলঙ্কা সরকার। এই অভিযান নিয়েই আপত্তি মুসলিম মন্ত্রীদের। দশজন মন্ত্রীই পদত্যাগ করেছেন, সেনা অভিযান বন্ধের দাবিতে।

আরও পড়ুন : একুশের মোদি বাহিনীকে রুখতে তৃণমূলের পাল্টা অস্ত্র এগারোর টিম মমতা


এই ঘটনায় নতুন করে তিক্ততা তৈরি হয়েছে সমাজে। তবে মন্ত্রীদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে কট্টরপন্থী বৌদ্ধ সংগঠনগুলি। তাদের দাবি, দেশের কোনও গুরুত্বপূর্ন পদে মুসলিমদের থাকার দরকার নেই। যে যেখানে গুরুত্বপূর্ন পদে আছে, সবাই সরে দাঁড়াক, নইলে পরিণতি ভুগতে হবে। এই পরিস্থিতি নতুন করে যাতে সামাজিক অশান্তি তৈরি না হয়, তারজন্য সকলের কাছে আবেদন রেখেছেন রাষ্ট্রপতি মৈত্রীপালা সিরিসেনা। এক বার্তায় তিনি বলেছেন, সবার উর্ধে দেশ ও তার জনগন, সমস্ত রকম পরিস্থিতি দেশের নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সকলে সহযোগিতার মন নিয়ে এগিয়ে আসুন।