রানার প্রতিবেদন : সৌরভের নাম শুনলেই যেন বিগড়ে যেতেন রবি শাস্ত্রী। লর্ডস টেস্টে যেদিন সৌরভ মাঠে নামেন সেই দিন থেকেই সৌরভ যেন শাস্ত্রীর চক্ষুশূল। কমেন্ট্রি বক্সেই তিনি মন্তব্য করেছিলেন, সৌরভ আদৌ যোগ্য খেলোয়ার নন ভারতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য। ও এসেছে কোটা সিস্টেমে। পূর্বাঞ্চলের কোটায় ওকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপর সৌরভের খেলা শুরু হতে প্রতিটা শট নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করছিলেন তিনি। কিন্তু ক্রমশ ভয়ঙ্কর হতে থাকেন সৌরভ, শত রানের পাহারেও পৌঁছে যান। শাস্ত্রীর মুখে ক্ষনিকের জন্য কুলুপ পরে। কিন্তু এর পরেও নানা অছিলায় দাদাকে তাচ্ছিল্য করতে ছাড়েননি। এমনকি তাকে কোচ হিসেবে ইন্টারভিউ করার সময় সৌরভের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছিলেন তিনি। যদি সেদিন মুখের ওপর যোগ্য জবাব দিয়েছিলেন মহারাজ।


সৌরভ বোর্ড প্রেসিডেন্ট হবার পর চারদিক থেকে প্রশংসার ঢল নামলেও, শাস্ত্রী ছিলেন চুপ করেই। এতদিনে মুখ খুললেন এবং প্রত্যাশা মতই ডিগবাজি খেলেন এবার। ভুতের মুখে যেন রাম রাম। অকুন্ঠ প্রশংসা করলেন সৌরভের। ক্রীড়া মোদির বলছেন, এছাড়া কোনও উপায় ছিলনা শাস্ত্রীর সামনে। কারন দাদা এখন বোর্ড প্রেসিডেন্ট। শাস্ত্রী বলেন, সৌরভ বোর্ড প্রেসিডেন্ট হওয়ায় আমি খুব খুশি হয়েছে। এতদিনে একজন সেরা ক্যাপ্টেন এবং বিখ্যাত প্লেয়ারের হাতে পড়লো বোর্ডের দায়িত্ব, ফলে তার হাতে বোর্ড অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা নিতে পারবে। দায়িত্ব নিয়েই যেভাবে পাঁচদিনের টেস্ট ম্যাচকে জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি,সেটা অকুন্ঠ প্রশংসার দাবি রাখে।


একজন বড় মাপের খেলোয়াড় হিসেবে সৌরভও দায়িত্ব হাতে নিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, প্রতিহিংসা নেবার মতো ছোট মানসিকতার প্লেয়ার নন তিনি। প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন বলেই শাস্ত্রীকে সমস্যায় ফেলবেন, তেমন ভাবনাকে আদৌ প্রশ্রয় দেননা তিনি। বলেছিলেন, ভারতীয় দল এখন ভালো খেলছে, সুতরাং কোচ- ক্যাপ্টেন কম্বিনেশন ভাঙার কথা ভাবছেন না তিনি। এও বলেছিলেন, ভারতীয় দলের উন্নতি সাধনে যেমন ক্যাপ্টেন কোহলির সঙ্গে কথা বলবেন তেমনি কোচ শাস্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলবেন। সকলেই সৌরভের এই মানসিকতার উচ্ছসিত প্রশংসা করেছিল সেদিন।