রানার প্রতিবেদন : বৈঠক ছিল অত্যন্ত গোপন। যাতে কাকপক্ষী টের না পায়,তার ব্যবস্থাও হয়েছিল কিন্তু কানাকানি আটকানো গেল না। শনিবারের রাতের বৈঠকের খবর রবিবার ছড়িয়ে পড়তেই জোর জল্পনা শুরু হয়ে যায়। শনিবার অমিত শাহ’র বাড়িতে বেশ কিছুটা সময় কাটান সৌরভ। সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ’র ছেলে জয় শাহ এবং বোর্ড কর্তা এবং বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর। সূত্রের খবর, বৈঠকে অমিত শাহ এটা বুঝিয়েছেন বঙ্গের এক নম্বর সেলিব্রেটিকে ক্রিকেট প্রশাসনের শীর্ষে পৌঁছে দিতে দলের কোনও আপত্তি নেই।

আরও পড়ুন : সায়ন্তন বসুর বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিলেন মহ: সেলিম

তারা সর্বোতভাবে সেই চেষ্টা করবেন, কিন্তু বিনিময়ে তাদের দিকটাও দেখতে হবে। যদিও সৌরভ ঠারেঠুরে বুঝিয়েছেন, এই মুহূর্তে ক্রিকেটের বাইরে অন্যকোনও বিষয় নিয়ে ভাবার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত নন তিনি। যদিও সৌরভের এই মনোভাবের পরেও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি সম্মত হয়েছেন ক্রিকেট প্রশাসনে সৌরভের পথ যাতে মসৃন হয় তা দেখবেন তিনি। সেই অনুযায়ী ঘুটি সাজানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনুরাগ ঠাকুরকে। অর্থাৎ সবকিছু ঠিকঠাক চললে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে হয় সভাপতি নয়ত সচিব পদে সৌরভের অভিষেক এখন সময়ের অপেক্ষা।


বোর্ডের সভাপতি হওয়ার দৌড়ে ছিলেন বিজেপি ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক রজত শর্মা, কিন্তু বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব চাইছে না, তাদের হস্তক্ষেপে এমন কিছু হোক যাতে সমালোচনার ঝড় ওঠে। যেখানে সৌরভের মত ব্যক্তি দাবিদার সেখানে ক্রিকেট জগতের বাইরে থেকে কাউকে এনে চাপিয়ে দেওয়া হলে সেটা সমালোচনার মুখে পড়তে বাধ্য। এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী চাইছেন না, অরাজনৈতিক এই লড়াইয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিক বিজেপি। তাই শেষ মুহূর্তে দৌড়ে ছিটকে গেছেন রজত।

আরও পড়ুন : নারদ কাণ্ডে সিবিআই -এর নজরে শোভন, বন্ধুকে বাঁচাতে বিজেপির দরজায় বৈশাখী

যদিও অমিত পুত্র দীর্ঘদিন থেকে ক্রিকেট প্রশাসনে জড়িত সেহেতু তাঁর বিষয়টিকে আলাদা করেই দেখা হচ্ছে এবং তিনিও এবার গুজরাট ক্রিকেট এসোসিয়েশন থেকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসকের ভূমিকায় আসার জন্য কোমর বেঁধেছেন। কিন্তু সৌরভকে সামনে এগিয়ে দিয়ে ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা করার কৌশল নিয়েছে বিজেপি। ২০১৪ সালের পর একাধিকবার বিজেপি চেষ্টা করেছে বঙ্গে সৌরভকে পাশে পেতে। কিন্তু সৌরভও সেই প্রস্তাব খারিজ করে বিজেপি নেতৃত্বকে চটানোর পরিবর্তে নীরব থাকাই ঠিক মনে করেছেন। কিন্তু একুশে বাংলা বিজয়কে যখন পাখির চোখ করেছে বিজেপি, তখন সৌরভের মতো ট্রাম কার্ডকেও নিজেদের অস্তিনে রাখাই সঠিক কৌশল বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির।