রানার প্রতিবেদন : রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন সৌদি আরবের সুলতানের ব্যক্তিগত বিমান নিয়ে। কিন্তু ফিরে আসতে হয়েছিল সাধারণ বাণিজ্যিক যাত্রী বিমানে। ইমরানের এই ফিরে আসার কাহিনী যেভাবে মিডিয়ার সামনে তুলে ধরা হয়েছিল সেটা সম্পুর্ন বানানো। আসল ঘটনা হলো ইমরানের ওপর ক্ষুব্ধ সুলতান আমেরিকা থেকে নিজের বিমান ফেরত নিয়েছিলেন। এই খবর ছেপে পাকিস্তানে শোরগোল ফেলে দিয়েছে স্থানীয় একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা। বলা হয়েছে, রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে আমেরিকা যাবার সময় ইমরান প্রথমে সৌদি আরবে পৌঁছন।

আরও পড়ুন : প্রতীক্ষার অবসান, রামমন্দির মামলার রায়দানের দিন ঘোষণা করলো সুপ্রিম কোর্ট

সেখান থেকে ওয়াশিংটন যাবার সময় সৌদির রাজপুত্র সালমান তাকে নিজের ব্যক্তিগত একটি বিমান ইমরানকে দেন এই সফরে ব্যবহার করার জন্য। সেই বিমান নিয়ে ইমরান আমেরিকা পৌঁছান, কিন্তু ফিরে আসার সময় গোল বাধে। ইসলামাবাদের উদ্যেশ্যে রওনা হবার দুঘন্টা পর যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে বিমানে। আবার ওয়াসিংটন ফিরে আসেন ইমরান। সেই সময় প্রশ্ন উঠেছিল বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়লে তাকে জরুরি অবতরণ করাতে হয়, তাহলে সেই সময় হাতের নাগালে প্যারিস বিমানবন্দর থাকা সত্বেও কেন বিমানকে আবার দুঘন্টা উড়িয়ে আমেরিকা আনা হলো? এই প্রশ্নের কোনও যুক্তিগ্রাহ্য কারন খুঁজে পাওয়া যায়নি। এবার সাপ্তাহিক পত্রিকাটি দাবি করলো, যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বানানো গল্প। আসলে বিমানটিকে আমেরিকা ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।


হটাৎ কেন এই নির্দেশ? পত্রিকাটি জানিয়েছে, ইমরানের ভাষণে পাকিস্তান মুগধ হলেও ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন সৌদি সুলতান। কারন, যে ভাষায় তিনি ভারতকে আক্রমন করেছিলেন, যেভাবে যুদ্ধের হুমকি দিয়েছিলেন, সেটা ভালোভাবে নেয়নি সৌদি আরবের সুলতান রাজকুমার সালমান। সৌদি বরাবর ভারতের সঙ্গে মধুর সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষপাতী। ভারতই সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। সৌদি কখনোই চায় না ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে কোনও ভুল বোঝাবুঝি হোক। কিন্তু ইমরান সৌদির আতিথেয়তা নিয়ে, সৌদির বিমানে চেপে আমেরিকা পৌঁছে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জিগির তুলছেন,এমন ঘটনায় সৌদি-ভারত ভুল বোঝাবুঝির সম্ভবনা তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন : ত্রিকোন প্রেমের জেরেই বিরাট-রোহিত দ্বন্দ্ব ? মুখে কুলুপ ঋত্বিকার

দিল্লি মনে করতে পারে এই গোটা অধ্যায়ে সৌদির মদত আছে কিংবা সম্মতি আছে। একারণে ওই ভাষণের পরেও ইমরানকে বিমান দিয়ে সাহায্য করলে দিল্লির উদ্দেশ্যে ভুল বার্তা যেতে পারে। সেই আশঙ্কা মাথায় রেখেই সালমান নির্দেশ দেন, বিমান ফেরত নেবার। কিন্তু নির্দেশ এসে পৌঁছনোর আগেই ডানা মেলে দিয়েছে সালমানের চার্টার্ড। কিন্তু সালমানের নাছোড় মনোভাব বুঝতে পেরে দুঘন্টা উড়ে যাবার পরেও বিমান ফেরত আনতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এই কারনে পরের দিন সাধারণ যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক বিমানে ফিরে আসেন ইমরান। এতে পাক প্রধানমন্ত্রীর যে অসম্মান হলো তা ঢেকে দিতে পাক বায়ুসেনা তাদের দেশের আকাশ সীমায় ওই বাণিজ্যিক বিমান প্রবেশ করতেই তারা এফ-৭ যুদ্ধ বিমান পাঠিয়ে সেই বিমানটিকে স্বাগত জানায়।