সব্যসাচী

রানার প্রতিবেদন : শেষপর্যন্ত বিধাননগর পুরসভার মেয়র সব্যসাচী দত্তকে শাস্তি দেবার সিদ্ধান্তই নিল তৃণমূল কংগ্রেস। সব্যসাচীকে নিয়ে দলের অবস্থান চূড়ান্ত করার আগে আজ বিধান নগরের কাউন্সিলারদের সঙ্গে বৈঠক করেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ছিলেন মন্ত্রী সুজিত বসু। এই বৈঠকেই ঠিক হয়, আপাতত মেয়রের দায়িত্ব থেকে সব্যসাচীকে সরিয়ে রাখা হবে। সেই অনুযায়ী ঠিক হয়, ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায় আপাতত মেয়রের দায়িত্ব সামলাবেন। সব্যসাচীকে ফোন করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্তের কথা। বলা হয়েছে, দল না বলা পর্যন্ত তাকে আর পুরসভায় যেতে হবে না।


মুকুল ঘনিষ্ট সব্যসাচী গত বছর কয়েক ধরেই বার বার দলের লাইনের বাইরে চলে যাচ্ছেন। এখন তৃণমূলের অন্যতম শত্রু মুকুল রায় তার বাড়িতে গিয়ে লুচি-আলুরদম খেয়ে এসেছেন। তারপর জোড়াতালি দিয়ে সব্যসাচীকে দলে রেখে দেওয়া হলেও, বেসুরো সব্যসাচী আর সুরে ফেরেননি। বারবার করে দল তাকে সতর্ক করেছে কিন্তু কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু দিন দুই আগে সব্যসাচী সব লক্ষণরেখা অতিক্রম করে বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের নিয়ে বিদ্যুৎ দফতরের বিরুদ্ধেই মারমূখী আন্দোলনে নামেন। এরপর দলের সামনে সব্যসাচীকে আর জোড়াতালি দিয়ে ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পরে। আজ বৈঠকের পর ফিরহাদ হাকিম অবশ্য প্রকাশ্যে কিছুই বলতে চাননি। তিনি জানান, সব্যসাচী সম্পর্কে দলের কাউন্সিলরদের মনোভাব জেনে নিলাম, এবার সবটাই জানাবো দলনেত্রীকে।


সব্যসাচীকে নিয়ে তৃণমূলের কঠোর অবস্থান নিয়ে আজ মুকুল রায়কে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, এখন ওকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিজেপি দরজা খুলেই রেখেছে। তিনি বলেন,” বিজেপিতে না থেকেও তৃণমূল বিধায়ক হিসাবেই সব্যসাচী লোকসভা ভোটে বিজেপিকে সাহায্য করেছে।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সব্যসাচীকে বিজেপিতে টেনে আনতে তাঁকে তৃণমূলে আরো কোনঠাসা করার উদ্দেশ্য নিয়েই এই মন্তব্য করলেন মুকুল। একই সঙ্গে এটাও মনে করা হচ্ছে, বিজেপিকে বিকল্প ধরে নিয়েই দলে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন সব্যসাচী। তিনি চাইছেন তিক্ততা এমণ পর্যায়ে নিয়ে যেতে, যাতে দল তাকে বহিস্কার করতে বাধ্য হয়। সেক্ষেত্রে বিধায়ক পদ ধরে রেখেই বিজেপিতে যোগ দিতে পারবেন তিনি। কিন্তু তৃণমূল সূত্রের খবর, সব্যসাচীর কৌশল বুঝতে পেরেই তাকে বহিস্কার নয়, আপাতত সাসপেন্ড করার কথা ভাবছে দল।