রানার প্রতিবেদন : মেরিগনাক বোরডুয়কক্স, প্যারিস থেকে অনেকটা দূরে ফ্রান্সের এক নিরিবিলি এলাকা। ফ্রান্সের বিমান বাহিনী রাজনাথকে সকালবেলা উড়িয়ে নিয়ে গেল সেই এলকায়। সেখানেই হলো রাফালের আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর। আজই প্রথম রাফালটি হাতে পেলে ভারত। দশেরা উপলক্ষ্যে প্রথমে অস্ত্র পুজো করেন রাজনাথ সিং, তারপর তিনি ওঠেন রাফালে, চোখের পলক পড়ার আগেই দূর আকাশে মিলিয়ে যায় রাফালের ডানা। এই মুহূর্তে দুনিয়ার অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান হিসাবে গন্য করা হচ্ছে রাফালকে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার এই রাফাল যুদ্ধ বিমান কেনার সিধান্ত নিয়েছিল। সেই সময় সিধান্ত হয়েছিল মোট ১২৬ টি বিমান কেনা হবে। পরে মোদি সরকার এসে সংখ্যাটা কমিয়ে করে ৩৬ টি। আজ জানানো হয়েছে, আগামী বছরের শুরুতে আরও চারটি রাফাল ঢুকে পরবে ভারতে।


রাফাল নিয়ে চক্কর কেটে ফিরে এসে রাজনাথ টুইট করে বলেন, আমাদের আকাশ আরও নিরাপদ হলো,রাফালের সংযোজন ভারতের বায়ুসেনাকে আরও মজবুত করবে। এখন থেকে ধাপে ধাপে ভারতে পৌঁছবে রাফাল বিমান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চোখের পলকে সুনির্দিষ্ট জায়গায় নিখুঁত ভাবে আক্রমণ করার ব্যাপারে এখন রাফালের জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু এই রাফাল নিয়ে রাজনৈতিক যুদ্ধ হয়েছে বিস্তর। প্রথমত ইউপিএ আমলে নেওয়া ১২৬ টি বিমানের বরাত বাতিল করে বিজেপি সরকার সেটাকে ৩৬ টা করায় বিরোধীদের সমালোচনা সামলাতে হয়েছে , দ্বিতীয়ত মনমোহন সরকার যে দামে বিমান কেনার চুক্তি করেছিল সেটা বাতিল করে, অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে নতুন চুক্তি করায়, দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্দ্ব হতে হয়েছে, তৃতীয়ত ফরাসি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার জন্য ভারতীয় সংস্থা হিসাবে সরকারি সংস্থা হ্যালকে বেছে নিয়েছিল ইউপিএ সরকার। যাদের বিমান নির্মাণের অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু মোদি সরকার সেটাও বাতিল করে দেয়, নতুন ভারতীয় কোম্পানি হিসাবে বাছা হয়, অনিল আম্বানির সদ্য প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিকে, যাদের কোনও কাজের অতীত অভিজ্ঞতা নেই। ফলে এনিয়েও এখনও প্রশ্ন তোলে বিরোধীরা। এই পরিবেশেই প্রথম রাফাল বিমানটি আজ হাতে পেল ভারত।