রানার প্রতিবেদন : অষ্টমীর অঞ্জলি দিয়ে মুসলিম মৌলবাদীদের চক্ষুশূল হলেন নুসরত জাহান জৈন। শুধু মৌলবাদীদের কটাক্ষই কিংবা হুমকি নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় মুসলিমদের একাংশের মধ্যে থেকে দাবি উঠেছে, এই কাজের জন্য নুসরতকে জীবন্ত জ্বালিয়ে মেরে ফেলা উচিত। উত্তরপ্রদেশের দারুল উলুম দেওবন্দের এক নেতা বলেছেন, মুসলিম হয়ে মুসলিম ধর্মকে অপমান করার অধিকার ওকে কেউ দেয়নি। মুসলিম ধর্মে এই আচরণের কোনও ক্ষমা নেই।

আরও পড়ুন : বর্তমান ভারতে হিন্দুত্ববাদ নিয়ে কঠোর নিন্দা অমর্ত্য সেনের, প্রশংসা বাংলাদেশের

ওকে যদি পুজো করতেই হয়, তবে এক্ষুনি ও ধর্ম পরিবর্তন করুক। মুসলিম ধর্মে থেকে একাজকে বরদাস্ত করা হবে না। তিনি বলেছেন, মুসলিম হলে সে কখনোই আল্লাহকে ছাড়া অন্য কাউকে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারে না। তার এই মন্তব্য সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নুসরত নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। বহু মুসলিম তাকে আগুনে পুড়িয়ে মারার নিদান দেন। এমনকি বাংলাদেশের একটি সংবাদপত্রের ডিজিটাল মাধ্যমে এই খবর ছাপার পর যে কটি প্রতিক্রিয়া এসেছে সেসব গুলোতেই একই নিদান দেওয়া হয়েছে।


অষ্টমীপূজোর দিন নুসরত গিয়েছিলেন কলকাতার সুরুচি সংঘের পুজোতে। সেখানে স্বামী নিখিল জৈনকে নিয়ে তিনি মন্ত্রোচ্চারন করেই অষ্টমী পুজোর অঞ্জলি দেন। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। নুসরত শাড়ি আর নিখিল ধুতি পাঞ্জাবি পরে এসেছিলেন। পুজোর পর নুসরত বলেছিলেন, নিখিলকে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম করতেই ওকে নিয়ে এসেছেন পুজোর অঞ্জলিতে। তিনি নিজে আপাদমস্তক বাঙালি, তিনি চান নিখিলও বাঙালির সংস্কৃতিকে চিনুক-জানুক।

আরও পড়ুন : সরকারের বিপুল সাফল্য, শেষপর্যন্ত সুইস ব্যাঙ্কের নথি এলো দিল্লির হাতে

আর দুর্গা পূজা হলো বাঙালির সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসব। এদিন দেওবন্দের সমালোচনা নিয়ে তার প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে নুসরত বলেছন, বাঙালি হিসাবে সেই সংস্কৃতিতে তিনি বড় হয়েছেন যেখানে প্রত্যেকের নিজের মতো করে ধর্মচারনের অধিকার স্বীকার করা হয়, তিনি নিজের মনের ডাকে সাড়া দিয়ে যা ভালো লেগেছে করেছেন, এনিয়ে কারও কিছু বলার থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন না।